বেঁচে থেকেও ‘মৃত’, নিজেকে জীবিত প্রমাণে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন রিকশাচালক

: ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: 4 hours ago

8

সরকারি নথিতে তিনি মৃত তাই নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি। সরকারি সনদে তিনি মৃত হলেও বাস্তবে তিনি বেঁচে আছেন, সাধারণত অন্যান্যদের মতোই তিনিও শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন এবং পরিবারের জন্য নিজে রিকশা চালিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জীবিকা নির্বাহ করছেন।

এটি ফরিদপুর পৌরসভার ২৫নং ওয়ার্ড উত্তর সাদীপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত গেন্দু শেখের ছেলে বাদশা শেখের (পেশায় একজন রিকশাচালক) জীবনের গল্প।

তিনি জীবিত থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্যভাণ্ডারে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এর ফলে তার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ভুক্তভোগী বাদশা শেখ জানান, ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে গেলে ভোটার তালিকায় নিজের নাম খুঁজে পাননি। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচনেই তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। বিষয়টির খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, নির্বাচন কমিশনের তথ্যভাণ্ডারে তাকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে।

বাদশা বলেন, আমি জীবিত, কিন্তু কাগজে-কলমে আমাকে মৃত বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমার এনআইডিও ব্লক করে রাখা হয়েছে।

সমস্যার সমাধানের আশায় সম্প্রতি তিনি ফরিদপুর জেলা নির্বাচন অফিসে যান তিনি। সেখানে নিজের ছবিসহ সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়েও কোনো সমাধান পাননি বলে দাবি করেন তার।

বাদশা শেখ বলেন, নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা বলেছেন, আমি যে জীবিত আছি, সে মর্মে পৌরসভা থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র নিয়ে আসতে হবে। তারপর তারা বিষয়টি দেখবেন।

একজন জীবিত মানুষকে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরতে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ছবিসংবলিত জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে নিয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হওয়ার পরও কেন একজন নাগরিককে জীবিত থাকার জন্য আলাদা প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে?

রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা বাদশা শেখ বলেন, প্রতিদিন কাজ না করলে সংসার চলে না। তারপরও নিজের পরিচয় ফিরে পেতে এক অফিস থেকে আরেক অফিসে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে আমাকে। আজ ৩ জুলাই (শুক্রবার) পর্যন্ত আমার আইডি কার্ড সমস্যার সমাধান হয়নি।

এ বিষয়ে ২৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ আলাউল হোসেন তনু বলেন, আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাদশা শেখের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা ভুলবশত অথবা যে কারণেই হোক আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সংশোধন করে একজন জীবিত মানুষকে পুনরায় তার ভোটার অধিকার প্রয়োগসহ সব নাগরিক সুবিধা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার তারেক আহমেদের ব্যবহারকৃত মুঠোফোনের মাধ্যমে জানতে চাইলে তিনি জানান, বাদশা শেখ নামের ভুক্তভোগী কয়েকদিন আগে এসেছিলেন আমাদের অফিসে, এরপর তার আইডি কার্ডটি পুনরায় সংশোধন করা হয়েছে।

অন্যদিকে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে তথ্যগত ভুল সংশোধন, ভোটার তালিকায় বাদশা শেখের নাম পুনর্বহাল এবং তার এনআইডির ব্লক অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক। যেন তিনি একজন নাগরিক হিসেবে সাংবিধানিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় সেবাগুলো স্বাভাবিকভাবে ভোগ করতে পারেন।