
৮ জুলাই ২০২৬, দীর্ঘদিন ধরেই এই চরম ভোগান্তি, অথচ দেখার যেন কেউ নেই! একটুখানি বৃষ্টি হলেই বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলা ও পৌরসভার প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র ‘মোকামতলা বাজার’ পরিণত হয় এক পচা ডোবায়। বাজারের ভেতরে জমে যায় এক হাঁটু পানি। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা, সাধারণ পথচারী ও ব্যবসায়ীদের পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। ভুক্তভোগীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন-কবে মুক্ত হবে এই জলাবদ্ধতা? বৃষ্টি হলেই অবরুদ্ধ বাজার, সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই মোকামতলা বাজারের ভেতরের রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা এবং ময়লা-আবর্জনা জমে নালাগুলো বন্ধ হয়ে থাকায় পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ নেই। নোংরা, পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়েই বাজারে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারের এই বেহাল দশার কারণে ক্রেতারা ভেতরে ঢুকতে চান না। ফলে বেচাকেনা প্রায় বন্ধের উপক্রম। দোকানের ভেতরে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন অনেকেই। দীর্ঘদিন ধরে এই নরকযন্ত্রণা চললেও স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না। পানি জমে থাকলে যা হয়: স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্ভোগ দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বাজারে পানি জমে থাকার ফলে একাধিক মারাত্মক সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে: বাজারের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে, লোকসানের মুখে পড়ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। জমে থাকা নোংরা ও পচা পানি থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এটি মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়াসহ নানা চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। পানির নিচে রাস্তার গর্ত বা ম্যানহোল লুকিয়ে থাকায় প্রতিনিয়ত পথচারী ও রিকশা-ভ্যান উল্টে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান, মোকামতলা এখন নবগঠিত উপজেলা ও পৌরসভা। নতুন এই প্রশাসনিক ঘোষণার পর স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা ছিল নাগরিক সুবিধা বাড়বে। কিন্তু বাজারের এই দীর্ঘদিনের চিত্র বদলে না যাওয়ায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে। বাজারের ব্যবসায়ী, পথচারী ও সর্বস্তরের জনগণের এখন একটাই জোরালো দাবি-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার করেন এবং মোকামতলা বাজারকে এই স্থায়ী অভিশাপ ও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করেন।