
জুলাই জাদুঘর উদ্বোধনের পেছনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সরকারের কয়েকজন সদস্যের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। একই সঙ্গে জাদুঘরের ব্যবস্থাপনা ও প্রদর্শনীর বিভিন্ন দিক নিয়ে কিছু পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ফারুকী এসব কথা বলেন। পোস্টে তিনি নিজেকে ‘রাঁধুনি’ হিসেবে উল্লেখ করে জাদুঘর নিয়ে নিজের কিছু ‘খুঁতখুঁতানি’র কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘এই জাদুঘর ওপেন হওয়ার পেছনে তার ব্যক্তিগত কমিটমেন্ট ছিলো ২০০ ভাগ।’
জাদুঘরে দ্রুত মিউজিয়াম এক্সপ্লেইনার নিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই জাদুঘর এমন একটা মিউজিয়াম যেখানে মিউজিয়াম এক্সপ্লেইনার ইজ আ মাস্ট। আমরা কনটেন্ট পরিকল্পনা এমনভাবে করেছি যেখানে কনটেন্ট কিছু কথা বলবে আর এক্সপ্লেইনার তার স্টোরিটেলিংয়ে এটার ইমোশনাল লেয়ারটা তৈরি করবে। এবং সেই এক্সপ্লেইনিংটা জাস্ট কিছু তথ্য দেওয়ার মতো হলে হবে না। ঐ বলাটাও একটা আর্ট হইতে হবে। এবং তখনই দর্শক একটা পরিপূর্ণ ইমারসিভ অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যাবে।’
তবে হতাশা প্রকাশ করে ফারুকী বলেন, ‘দুঃখের কথা হলো এখনও এক্সপ্লেইনার নিয়োগ হয়নি। এটা দ্রুত করার আহ্বান জানাই। এই জিনিসটা এতোই গুরুত্বপূর্ণ যে আগে সব ভিআইপি ট্যুরের সময় আমি নিজেই এক্সপ্লেইনারের কাজ করতাম।’
জুলাই জাদুঘরের প্রদর্শনী কোন ক্রমে দেখা উচিত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘একটা সিনেমা যেমন আপনি চাইলে যে কোনো জায়গা থেকে দেখা শুরু করতে পারেন না। এই মিউজিয়াম অ্যাবসলিউটলি সেরকম। একাত্তর থেকে শুরু করে বাহাত্তর-পঁচাত্তর হয়ে-জিয়াউর রহমানের আমল-এরশাদের স্বৈরশাসন-খালেদা জিয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্রে ফিরে আসা-ওয়ান ইলেভেন। এই অংশটার নাম লং ওয়াক টু ডেমোক্রেসি। এই ধাপগুলো পার হয়ে ১৬ বছরের গল্পে ঢুকবে দর্শক।’
‘কিন্তু আজকে যখন দেখলাম প্রধানমন্ত্রীকে ঐ অংশ বাদ দিয়ে মাঝখান থেকে দেখানো হচ্ছে আমার হার্টব্রেক হচ্ছিলো। এর সঙ্গে যুক্ত হইছে মিউজিয়াম এক্সপ্লেইনারের ইস্যুটা,’ যোগ করেন এ চলচ্চিত্র নির্মাতা।
তবে জাদুঘরের শক্তিশালী দিকগুলোর কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘ইয়েস, আই নো ওগুলো ছাড়াও এটা স্টিল পাওয়ারফুল। কিন্তু রাঁধুনি তো চায় মানুষ সেরা স্বাদটাই পাক।’
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আবার সময় করে জাদুঘরটি একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডেড ট্যুরের মাধ্যমে ঘুরে দেখার অনুরোধ করেছেন। এ প্রসঙ্গে ফারুকী বলেন, ‘এটা বলেছি এই জন্য যাতে উনি বুঝতে পারেন এই মিউজিয়ামের পটেনশিয়াল কেবল জুলাই বা ষোলো বছরের ইতিহাস না।’
ফারুকীর মতে, ‘এটা আরও বড় কাজ করতে পারে। হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের কয়েকশ বছরের রাজনীতি-সংস্কৃতি-ইতিহাসের কেন্দ্র। এবং সেটা কোনো বোরিং ওয়েতে না।’
এছাড়া জাদুঘরের কয়েকটি সেগমেন্টকে আলাদা বিভাগ হিসেবে দ্রুত প্রস্তুত করার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি। এ নির্মাতা বলেন, ‘আমি আশা করেছিলাম ‘‘বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর’’, ‘‘ফ্যাসিজমের কালে সাংবাদিকতা’’, ‘‘জুলাইয়ে প্রবাসী’’, এবং ‘‘জুলাইয়ের আত্মা মফস্বল’’- এই সেগমেন্টগুলো আলাদা সেকশন হিসেবে রেডি হয়ে যাবে। এগুলো এখনও আছে মিউজিয়ামে তবে ইনডিপেনডেন্ট সেকশন হিসাবে না।’
তার মতে, ‘আজকে যেটা বুঝলাম এই কয় মাস আসলে নানাবিধ কারণে কিউরেশন টিম কাজ করতে পারে নাই। আশা করি নেক্সট নিউ সেকশন এগুলো হবে। কারণ বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর না বুঝলে বিগত ষোলো বছরের ডিএনএ চেনা যাবে না।’
জুলাই জাদুঘরের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্ল্যাটফর্মের অবদানের কথাও তুলে ধরেন ফারুকী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই জাদুঘরের রসদ সংগ্রহে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে এবং নানাভাবে সহযোগিতা করেছে বহু মানুষ, বহু প্লাটফর্ম। তাদের অনেককেই শুনলাম দাওয়াত দেওয়া হয় নাই। ওদের এই সম্মানটা জানানো খুব দরকার ছিলো