- /
- খেলাধুলা
- /
- অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলাতে হবে
অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলাতে হবে
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট পকেটে পুরেছে বাংলাদেশ। হিসাবের খাতায় এটুকুই আপাতত সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কিন্তু জয়ের উচ্ছ্বাস থিতিয়ে সামনে এসে দাঁড়ায় একগুচ্ছ প্রশ্ন। ম্যাচে বল দখলে আধিপত্য ছিল, সুযোগও এসেছে একের পর এক। গোল এলো মাত্র একটি।
কোচ থমাস ডুলি অবশ্য ম্যাচ শেষে প্রশান্ত, ‘সামগ্রিকভাবে স্পষ্টতই আমি এই ম্যাচ নিয়ে খুশি। আমরা ম্যাচ জিতেছি, লক্ষ্য ছিল পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পাওয়া; তাই সেদিক থেকে সবকিছু ঠিকঠাক ছিল।’ লক্ষ্য পূরণের বিচারে কথাটা ভুল নয়। ফুটবল শুধু ফলাফলের খেলা নয়, প্রক্রিয়ারও খেলা। আর প্রক্রিয়ার দিক থেকে ম্যাচটি রেখে গেছে বেশ কিছু অসম্পূর্ণ অধ্যায়।
প্রথমার্ধের ২০ থেকে ৩০ মিনিট এবং দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় ২০ মিনিট বাংলাদেশ খেলেছে সত্যিই সুন্দর ফুটবল। টানা ১৫-১৬ পাসের বুনোটে ভুটানকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখা গেছে। ডুলির ভাষায়, ‘আমরা খুব সুন্দরভাবে বল দেওয়া-নেওয়া করেছি। আমরা সুযোগ তৈরি করেছি। আমাদের অনেক সুযোগ এসেছিল।’ কিন্তু সুন্দর পাসিংয়ের শেষ গন্তব্য যদি হয় ফাঁকা বক্স, সেই সৌন্দর্য থেকে স্কোরলাইনে কিছু আসে না।
সমস্যাটা ঠিক এখানেই। কোচ নিজেই চিহ্নিত করেছেন, প্রতিপক্ষের ৭-৮ জনের বিপরীতে বক্সে বাংলাদেশের ছিলেন মাত্র এক বা দুজন। দুই উইং দিয়ে আক্রমণ সাজানো হয়েছে, ক্রসও এসেছে প্রচুর। তা ফলদায়ক না হওয়ায় কোচের কণ্ঠে ছিল আক্ষেপ, ‘নাম্বার টেনকে বক্সে থাকতে হবে, নাম্বার এইটকেও সেখানে পৌঁছাতে হবে।’ প্রথমার্ধে উইং থেকে ক্রসের পর ক্রস এলেও ফাহিম তখনো বক্সের বাইরে। বল ক্রস হচ্ছে, কিন্তু ক্রসের প্রান্তে কেউ নেই। এ যেন চিঠি লিখে ঠিকানাহীন খামে পাঠানো।
প্রশ্ন হলো, দায়িত্ব নেওয়ার পর এত সময় পেরিয়েও কেন এই বোঝাপড়া তৈরি হয়নি? দলের আক্রমণভাগের গঠন আর প্রতিটি ফুটবলারের ভূমিকা মাঠে নামার আগেই স্পষ্ট থাকার কথা। ম্যাচের মধ্যে কোচকে যদি আক্ষেপ করতে হয় কে কোথায় থাকবেন, তবে সেটি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যকার দূরত্বই নির্দেশ করে।
তপু বর্মণকে নিয়ে ঘটনাটি আরও বেশি প্রশ্ন তোলে।
ইব্রাহিমকে নিয়ে কোচের বক্তব্যেও মেলে দল নিয়ে আরেক ধরনের অস্পষ্ট ধারণা, ‘নতুন একটি দেশে এলে সব খেলোয়াড়কে চেনা যায় না। কার কী ধরনের সামর্থ্য রয়েছে এবং কার ওপর ভরসা করা যায়, তা সময় নিয়ে বুঝে নিতে হয়।’ সোজাসাপ্টা কথা প্রশংসনীয়, কিন্তু একই সঙ্গে এটি স্বীকারোক্তিও। জাতীয় দলের কোচ যদি এখনো নিজের দলের ফুটবলারদের সামর্থ্য নিয়ে এমন দ্বিধায় থাকেন, সাফের মতো আসরের মাঝপথে সেই দ্বিধা মেটার সুযোগ কতটা?
জয় বাংলাদেশের প্রাপ্য ছিল, ডুলির এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত করার কারণ নেই। কিন্তু সামনের ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষ হয়তো এতটা সদয় হবে না। আধা ফিট ভুটানের বিপক্ষে যে ফাঁকগুলো ঢাকা পড়ে গেছে, শক্ত দলের বিপক্ষে সেগুলোর জন্যই দিতে হতে পারে চড়া মূল্য। বক্সে খেলোয়াড়ের সংখ্যা বাড়ানো, নিজেদের ভূমিকা স্পষ্ট করা, আর বিকল্প পরিকল্পনার প্রস্তুতি—এই তিন কাজ পরের আসরের জন্য তুলে রাখা বিলাসিতা!
"সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পরিবেশনে আমরা সর্বদা সচেষ্ট।"
