ঢাকা , শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিযানে সাজা, কিন্তু থেকে গেল পণ্য—পীরগাছায় ভেজাল কারখানা নিয়ে ক্ষোভ




রংপুরের পীরগাছায় অবৈধভাবে সয়াবিন তেলসহ বিভিন্ন ভেজাল খাদ্যপণ্য তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে মালিককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে কারখানায় থাকা বিপুল পরিমাণ পণ্য ও কাঁচামালের সামান্য অংশ জব্দ করে বাকিটা রেখে আসার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি অভিযানের সময় ড্রেনে ফেলে দেওয়া দূষিত তেলও পরে কুড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
‎
‎বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পীরগাছা বাজারে ‘মীম কনজ্যুমার’ নামের কারখানায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পীরগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারেক হাসান তাহসিন।
‎
‎অভিযান সূত্রে জানা গেছে, কোনো বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সয়াবিন তেল, আটা, ওরস্যালাইন ও জুসসহ প্রায় ১৫ ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছিল। এসব আইন লঙ্ঘনের দায়ে কারখানার মালিক মশিউর রহমানকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মশিউর রহমান উপজেলার পারুল ইউনিয়নের সুন্দর এলাকার আজিজুল ইসলামের ছেলে।
‎
‎তবে অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, কারখানাটিতে ৫০ থেকে ৭০ লাখ টাকা মূল্যের ভেজাল খাদ্যপণ্য ও কাঁচামাল মজুত ছিল। অথচ এর সামান্য অংশ জব্দ করে বড় একটি অংশ কারখানায় রেখে আসা হয়েছে।
‎
‎প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, অভিযানের সময় কারখানার বাইরে ফেলে দেওয়া দূষিত তেল পরে আবার কুড়িয়ে পাত্রে ভরতে দেখা গেছে। ফলে জব্দ না করা এসব পণ্য ফের বাজারজাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
‎
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ ভেজাল পণ্য মজুতের ঘটনায় শুধু জরিমানা ও স্বল্পমেয়াদি কারাদণ্ড দিয়ে মালামাল রেখে আসায় অভিযানটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, ভেজাল খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
‎
‎এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারেক হাসান তাহসিন বলেন, বিএসটিআই ও সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় অপরাধীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
‎
‎স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে শুধু অভিযান ও জরিমানা নয়, অবৈধভাবে উৎপাদিত পণ্য জব্দ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিযানে সাজা, কিন্তু থেকে গেল পণ্য—পীরগাছায় ভেজাল কারখানা নিয়ে ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুরের পীরগাছায় অবৈধভাবে সয়াবিন তেলসহ বিভিন্ন ভেজাল খাদ্যপণ্য তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে মালিককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে কারখানায় থাকা বিপুল পরিমাণ পণ্য ও কাঁচামালের সামান্য অংশ জব্দ করে বাকিটা রেখে আসার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি অভিযানের সময় ড্রেনে ফেলে দেওয়া দূষিত তেলও পরে কুড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
‎
‎বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পীরগাছা বাজারে ‘মীম কনজ্যুমার’ নামের কারখানায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পীরগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারেক হাসান তাহসিন।
‎
‎অভিযান সূত্রে জানা গেছে, কোনো বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সয়াবিন তেল, আটা, ওরস্যালাইন ও জুসসহ প্রায় ১৫ ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছিল। এসব আইন লঙ্ঘনের দায়ে কারখানার মালিক মশিউর রহমানকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মশিউর রহমান উপজেলার পারুল ইউনিয়নের সুন্দর এলাকার আজিজুল ইসলামের ছেলে।
‎
‎তবে অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, কারখানাটিতে ৫০ থেকে ৭০ লাখ টাকা মূল্যের ভেজাল খাদ্যপণ্য ও কাঁচামাল মজুত ছিল। অথচ এর সামান্য অংশ জব্দ করে বড় একটি অংশ কারখানায় রেখে আসা হয়েছে।
‎
‎প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, অভিযানের সময় কারখানার বাইরে ফেলে দেওয়া দূষিত তেল পরে আবার কুড়িয়ে পাত্রে ভরতে দেখা গেছে। ফলে জব্দ না করা এসব পণ্য ফের বাজারজাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
‎
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ ভেজাল পণ্য মজুতের ঘটনায় শুধু জরিমানা ও স্বল্পমেয়াদি কারাদণ্ড দিয়ে মালামাল রেখে আসায় অভিযানটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, ভেজাল খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
‎
‎এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারেক হাসান তাহসিন বলেন, বিএসটিআই ও সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় অপরাধীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
‎
‎স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে শুধু অভিযান ও জরিমানা নয়, অবৈধভাবে উৎপাদিত পণ্য জব্দ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।