ঢাকা , শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবু সাঈদ হত্যা: সাজাপ্রাপ্ত ৩ শিক্ষকসহ ১১ জনকে বহিষ্কার করল রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়




রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর তিন শিক্ষকসহ ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী।
‎
‎বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২৯ সেপ্টেম্বর শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের কপি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছায়। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় রায়ের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। পরে মামলায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট।
‎
‎স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
‎
‎মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডল আসাদ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম কারাগারে রয়েছেন।
‎
‎স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন—অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান তুফান, সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তাকর্মী নূর আলম মিয়া, কর্মচারী আনোয়ার পারবেজ আপেল এবং এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন।
‎
‎উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আদেশের কপি ২৯ সেপ্টেম্বর আমরা পেয়েছি। কপি পাওয়ার পর বিষয়টি সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হয়। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
‎
‎২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। পরে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিতি পান।
‎
‎আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বিচার শেষে ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণা করেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২-এর রায়ে পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁরা দুজনই গ্রেপ্তার রয়েছেন।
‎
‎রায়ে তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
‎
‎রায়ে পলাতক অবস্থায় থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশিদ, সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান এবং ছাত্রলীগ সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
‎
‎সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
‎
‎রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করে, নিরস্ত্র শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ওপর পুলিশের গুলির ঘটনায় শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা অত্যন্ত নেতিবাচক ছিল।
‎
‎ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তাঁরা আবু সাঈদকে রক্ষায় এগিয়ে না এসে উল্টো আক্রমণকারীদের পক্ষ নিয়েছিলেন। এমন ভূমিকা আইন ও নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করা হয়।
‎
‎সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পর আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এবার প্রশাসনিক ব্যবস্থাও কার্যকর হলো।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

আবু সাঈদ হত্যা: সাজাপ্রাপ্ত ৩ শিক্ষকসহ ১১ জনকে বহিষ্কার করল রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট সময় : ৫ ঘন্টা আগে

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর তিন শিক্ষকসহ ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী।
‎
‎বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২৯ সেপ্টেম্বর শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের কপি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছায়। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় রায়ের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। পরে মামলায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট।
‎
‎স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
‎
‎মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডল আসাদ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম কারাগারে রয়েছেন।
‎
‎স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন—অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান তুফান, সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তাকর্মী নূর আলম মিয়া, কর্মচারী আনোয়ার পারবেজ আপেল এবং এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন।
‎
‎উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আদেশের কপি ২৯ সেপ্টেম্বর আমরা পেয়েছি। কপি পাওয়ার পর বিষয়টি সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হয়। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
‎
‎২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। পরে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিতি পান।
‎
‎আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বিচার শেষে ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণা করেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২-এর রায়ে পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁরা দুজনই গ্রেপ্তার রয়েছেন।
‎
‎রায়ে তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
‎
‎রায়ে পলাতক অবস্থায় থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশিদ, সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান এবং ছাত্রলীগ সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
‎
‎সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
‎
‎রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করে, নিরস্ত্র শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ওপর পুলিশের গুলির ঘটনায় শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা অত্যন্ত নেতিবাচক ছিল।
‎
‎ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তাঁরা আবু সাঈদকে রক্ষায় এগিয়ে না এসে উল্টো আক্রমণকারীদের পক্ষ নিয়েছিলেন। এমন ভূমিকা আইন ও নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করা হয়।
‎
‎সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পর আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এবার প্রশাসনিক ব্যবস্থাও কার্যকর হলো।