ঢাকা , রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাটমোহর থানার এসআই আবুল কালামের মৃত্যু শাজাহানপুরে শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পাতার বিড়ি জব্দ সাপাহারে জরাজীর্ণ মাটির মসজিদে নামাজ আদায়ে ভোগান্তি, সংস্কারের দাবি বাংলাদেশ প্রেসক্লাব শিবগঞ্জ শাখার উন্নয়ন সভা ও অসহায়দের মাঝে আটা বিতরণ আটমূলে মানবিক উন্নয়ন সংস্থার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত সজনে বীজের তেল শুষ্কতা কমিয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে কার্যকর সমাধান ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬০৮ সৌন্দর্য পেরিয়ে সময়ের গল্পে মনিকা বেলুচ্চি মাল্টার দাম ৫২০ টাকা কেন, ব্যাখ্যা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

‎‘এখনো সময় আছে, বিএনপি শুধরে যান’—রংপুরে এটিএম আজহার




‎‎রংপুরে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি বিরোধী দল ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করেছে। তাদের এমন আচরণে ফ্যাসিবাদী চেহারা ফুটে উঠেছে। এভাবে চললে জনগণ ছাড় দেবে না।
‎
‎শনিবার (৩ অক্টোবর ) দুপুরে রংপুর মহানগরীর শাপলা চত্বরে জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরামের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
‎
‎এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো সময় আছে, আপনারা শুধরে যান। তা না হলে আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিকেও একদিন পালাতে হবে।’
‎
‎তিনি বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়। রাজনৈতিক দলগুলো সনদের বিভিন্ন দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করলেও পরবর্তী সময়ে এর বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে।
‎
‎তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ সরাসরি নির্বাচিত আসনের মধ্যে ২১০টি আসন পায় এবং জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে। একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে জুলাই সনদের সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
‎
‎নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া নিয়ে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, সেটি রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নকে জটিল করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সংসদে এ সমস্যার সমাধান না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
‎
‎দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দল-মতনির্বিশেষে সবার জন্য সমান আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করতে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি।
‎
‎এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, অতীতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও জনগণের আন্দোলনের মুখে টিকে থাকতে পারেনি। বর্তমান সরকারকেও জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক ঐকমত্যকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
‎
‎সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগের উন্নয়নে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। দাবিগুলোর মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
‎
‎তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন সেই অবস্থান অনেকটা নরম হয়ে এসেছে। কোনো বিদেশি চাপের কারণে প্রকল্পটি থেকে সরে আসা হলে রংপুরের মানুষ তা মেনে নেবে না।
‎
‎রংপুর বিভাগের উন্নয়নে শুধু সাধারণ বরাদ্দ নয়, দীর্ঘদিনের বঞ্চনার মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে ‘ইনসাফপূর্ণ’ বণ্টন প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‎
‎তাঁর দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন, দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির দ্বিতীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু দ্রুত নির্মাণ, রংপুর বিভাগের রাস্তাঘাট, সেতু ও কালভার্টসহ অবকাঠামোর বিশেষ উন্নয়ন, উপজেলাগুলোতে সরকারি মহিলা কলেজ স্থাপন, নারীদের কর্মসংস্থানে কার্যকর উদ্যোগ, রংপুর বিভাগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, রংপুরে গ্যাস সরবরাহ চালু, রেল যোগাযোগ আধুনিকায়ন ও ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাকে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা।
‎
‎মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির দ্বিতীয় প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে হার্ড রকের চাহিদার তুলনায় স্থানীয় উৎপাদন খুবই কম। দ্বিতীয় খনি বাস্তবায়ন হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আমদানি-নির্ভরতা কমানো এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আনার সুযোগ তৈরি হবে।
‎
‎সৈয়দপুর বিমানবন্দর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিমান চলাচল বাড়লেও বর্তমানে বিমানবন্দরটির সক্ষমতা সীমিত। উত্তরাঞ্চলের মানুষের ঢাকা ও দেশের বাইরে যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
‎
‎রেল যোগাযোগ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। দ্রুতগতির ট্রেন চালু, ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাকে কার্যকর করার দাবি জানান তিন।
‎
‎রংপুর বিভাগের উন্নয়ন বৈষম্য প্রসঙ্গে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, তাঁরা শুধু ‘সমান অধিকার’ চান না; বরং পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী বেশি বরাদ্দ চান। উন্নত অঞ্চলের সঙ্গে একই পরিমাণ বরাদ্দ দিলে পিছিয়ে থাকা অঞ্চল কখনোই উন্নয়নের ব্যবধান পূরণ করতে পারবে না।
‎
‎তাই রংপুর বিভাগের জন্য বিশেষ উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
‎
‎তিনি বলেন, রংপুর বিভাগের বিপুল জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এ অঞ্চলের মানুষকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়।
‎
‎দেশের উন্নয়নের প্রধান বাধা অর্থ বা সম্পদের ঘাটতি নয়, বরং দুর্নীতি ও অযোগ্য নেতৃত্ব—এমন মন্তব্যও করেন তিনি। এ সময় অতীতে প্রকাশিত অর্থপাচারসংক্রান্ত বিভিন্ন হিসাবের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
‎
‎এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, রংপুর বিভাগের উন্নয়ন কোনো একক দলের দাবি নয়; এটি এ অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার। সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সাংবাদিক, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এসব দাবি সামনে এগিয়ে নেওয়া হবে।
‎
‎জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, সাংবিধানিক সংস্কার এবং উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও সোচ্চার হওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
‎
‎সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নীলফামারী-১ আসনের আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-২-এর আল ফারুক আব্দুল লতিফ, নীলফামারী-৩-এর ওবায়দুল্লাহ সালাফী, নীলফামা

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

চাটমোহর থানার এসআই আবুল কালামের মৃত্যু

‎‘এখনো সময় আছে, বিএনপি শুধরে যান’—রংপুরে এটিএম আজহার

আপডেট সময় : ১০ ঘন্টা আগে

‎‎রংপুরে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি বিরোধী দল ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করেছে। তাদের এমন আচরণে ফ্যাসিবাদী চেহারা ফুটে উঠেছে। এভাবে চললে জনগণ ছাড় দেবে না।
‎
‎শনিবার (৩ অক্টোবর ) দুপুরে রংপুর মহানগরীর শাপলা চত্বরে জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরামের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
‎
‎এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো সময় আছে, আপনারা শুধরে যান। তা না হলে আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিকেও একদিন পালাতে হবে।’
‎
‎তিনি বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়। রাজনৈতিক দলগুলো সনদের বিভিন্ন দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করলেও পরবর্তী সময়ে এর বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে।
‎
‎তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ সরাসরি নির্বাচিত আসনের মধ্যে ২১০টি আসন পায় এবং জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে। একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে জুলাই সনদের সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
‎
‎নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া নিয়ে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, সেটি রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নকে জটিল করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সংসদে এ সমস্যার সমাধান না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
‎
‎দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দল-মতনির্বিশেষে সবার জন্য সমান আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করতে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি।
‎
‎এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, অতীতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও জনগণের আন্দোলনের মুখে টিকে থাকতে পারেনি। বর্তমান সরকারকেও জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক ঐকমত্যকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
‎
‎সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগের উন্নয়নে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। দাবিগুলোর মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
‎
‎তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন সেই অবস্থান অনেকটা নরম হয়ে এসেছে। কোনো বিদেশি চাপের কারণে প্রকল্পটি থেকে সরে আসা হলে রংপুরের মানুষ তা মেনে নেবে না।
‎
‎রংপুর বিভাগের উন্নয়নে শুধু সাধারণ বরাদ্দ নয়, দীর্ঘদিনের বঞ্চনার মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে ‘ইনসাফপূর্ণ’ বণ্টন প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‎
‎তাঁর দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন, দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির দ্বিতীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু দ্রুত নির্মাণ, রংপুর বিভাগের রাস্তাঘাট, সেতু ও কালভার্টসহ অবকাঠামোর বিশেষ উন্নয়ন, উপজেলাগুলোতে সরকারি মহিলা কলেজ স্থাপন, নারীদের কর্মসংস্থানে কার্যকর উদ্যোগ, রংপুর বিভাগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, রংপুরে গ্যাস সরবরাহ চালু, রেল যোগাযোগ আধুনিকায়ন ও ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাকে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা।
‎
‎মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির দ্বিতীয় প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে হার্ড রকের চাহিদার তুলনায় স্থানীয় উৎপাদন খুবই কম। দ্বিতীয় খনি বাস্তবায়ন হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আমদানি-নির্ভরতা কমানো এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আনার সুযোগ তৈরি হবে।
‎
‎সৈয়দপুর বিমানবন্দর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিমান চলাচল বাড়লেও বর্তমানে বিমানবন্দরটির সক্ষমতা সীমিত। উত্তরাঞ্চলের মানুষের ঢাকা ও দেশের বাইরে যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
‎
‎রেল যোগাযোগ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। দ্রুতগতির ট্রেন চালু, ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাকে কার্যকর করার দাবি জানান তিন।
‎
‎রংপুর বিভাগের উন্নয়ন বৈষম্য প্রসঙ্গে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, তাঁরা শুধু ‘সমান অধিকার’ চান না; বরং পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী বেশি বরাদ্দ চান। উন্নত অঞ্চলের সঙ্গে একই পরিমাণ বরাদ্দ দিলে পিছিয়ে থাকা অঞ্চল কখনোই উন্নয়নের ব্যবধান পূরণ করতে পারবে না।
‎
‎তাই রংপুর বিভাগের জন্য বিশেষ উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
‎
‎তিনি বলেন, রংপুর বিভাগের বিপুল জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এ অঞ্চলের মানুষকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়।
‎
‎দেশের উন্নয়নের প্রধান বাধা অর্থ বা সম্পদের ঘাটতি নয়, বরং দুর্নীতি ও অযোগ্য নেতৃত্ব—এমন মন্তব্যও করেন তিনি। এ সময় অতীতে প্রকাশিত অর্থপাচারসংক্রান্ত বিভিন্ন হিসাবের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
‎
‎এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, রংপুর বিভাগের উন্নয়ন কোনো একক দলের দাবি নয়; এটি এ অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার। সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সাংবাদিক, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এসব দাবি সামনে এগিয়ে নেওয়া হবে।
‎
‎জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, সাংবিধানিক সংস্কার এবং উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও সোচ্চার হওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
‎
‎সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নীলফামারী-১ আসনের আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-২-এর আল ফারুক আব্দুল লতিফ, নীলফামারী-৩-এর ওবায়দুল্লাহ সালাফী, নীলফামা