ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সানজিদ খানের ‘এভাবেও প্রেম আসে’ নাটকে প্রান্তর-নুসরাত বিদ্যুৎ খাতের প্রকল্পে দ্রুত অর্থায়নে চীনা ব্যাংককে সরকারের অনুরোধ অবশেষে ক্ষমা চাইলেন ফিফা সভাপতি কৃষিকাজে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় অনেকে এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন: রাষ্ট্রপতি ১৫ দিনে রিয়াদ বিমানবন্দরে ২০ বার হুতিদের হামলা, নিহত ১৭ দেশ ও সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী পরিস্থিতি জটিল করতে জবিতে মন্দিরের পাশে গরুর মাংস রান্না: ছাত্রদল সেক্রেটারি দুর্গাপূজায় রামকৃষ্ণ মিশনে আসছেন রাষ্ট্রপতি ও ভারতীয় হাইকমিশনার সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গাবতলীতে দুই পরিবারকে টিনশেড ঘর ও চারজনকে অটোভ্যান উপহার দিলেন আলোর সন্ধানী সমাজকল্যাণ পরিষদ

কৃষিকাজে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় অনেকে এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন: রাষ্ট্রপতি




কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং কৃষি বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, কৃষিকাজ করে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় অনেক শ্রমিক এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন।

এতে কৃষিকাজের জন্য শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, অন্যদিকে, উৎপাদিত ফসলের যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষিকে লাভজনক করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণার পরিধি বাড়াতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) পরিদর্শনকালে পৃথক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বারির উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ‘নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পুষ্টি নিরাপত্তায় বিএআরআইয়ের অবদান, বর্তমান অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি কৃষি বিজ্ঞানীদের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগের বিপরীতে উল্লেখযোগ্য সুফল পাওয়া সম্ভব। দেশের কৃষি উৎপাদন আরও বাড়াতে গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, বিজ্ঞানীদের উন্নত কর্মপরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।

কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের দুর্বলতা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও কৃষকরা অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পান না। লোকসানের মুখে পড়ে কোনো কোনো কৃষক আলু রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হন। অথচ পরবর্তী সময়ে বীজ আলুর দাম বেড়ে যায়। উৎপাদনস্থল থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর একই পণ্যের দাম অনেক বেড়ে যায়। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতি দেখা যায়।

তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। ফলের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সেগুলোর সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এতে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের অপচয় কমবে এবং ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মাত্রাতিরিক্ত সার প্রয়োগ মাটির ক্ষতি করে এবং ফসলের গুণগত মান কমিয়ে দেয়। এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের প্রণোদনা বাড়ানো এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।

পরে দুপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ‘খাদ্যনিরাপত্তায় ব্রির অবদান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের জনসংখ্যার তুলনায় খাদ্য ঘাটতি ছিল অনেক বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত অবস্থানে পৌঁছেছে। উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে কৃষি বিজ্ঞানীদের অবদান এ সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ।

তবে ধান উৎপাদন করেও অনেক কৃষক উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না বলে উল্লেখ করেন তিনি। এতে ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমছে এবং অনেকে বিকল্প ফসল উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন। অথচ দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধান উৎপাদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকদের ধান চাষে উৎসাহিত করতে প্রয়োজনে ভর্তুকি দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তির উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে। ধান রোপণ, কাটা এবং আগাছা দমনে যন্ত্রের ব্যবহার কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। এ অগ্রগতি আরও এগিয়ে নিতে সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি গবেষণায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনসহ ভবিষ্যতের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষি গবেষণার পরিধিও বিস্তৃত করতে হবে।

কৃষি বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের উপযুক্ত বেতনকাঠামো, পেনশন সুবিধা এবং উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হবে।

চাকরিজীবন শেষে কৃষি বিজ্ঞানীদের পেনশন না পাওয়ার বিষয়টিকে অমানবিক উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে তিনি কৃষিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

কৃষি উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি এবং উচ্চফলনশীল ধানের বীজ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের কৃষি খাতে পরিবর্তন এনেছিল। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।

বারির মহাপরিচালক ড. মো. মঞ্জুরুল কাদিরের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরেন বারির পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) ড. মো. মোশাররফ হোসেন মোল্লা।

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষিপণ্যের উপযুক্ত সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দেশের কৃষিকে বিশ্ববাজারের উপযোগী করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কৃষি বিজ্ঞানী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে বারি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি বারি ও ব্রির জিন ব্যাংক, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও গবেষণা প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় বারির উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে বারি কাঁঠাল-৬ জাতের একটি চারা রোপণ করেন তিনি।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

সানজিদ খানের ‘এভাবেও প্রেম আসে’ নাটকে প্রান্তর-নুসরাত

কৃষিকাজে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় অনেকে এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন: রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় : ৬ ঘন্টা আগে

কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং কৃষি বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, কৃষিকাজ করে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় অনেক শ্রমিক এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন।

এতে কৃষিকাজের জন্য শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, অন্যদিকে, উৎপাদিত ফসলের যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষিকে লাভজনক করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণার পরিধি বাড়াতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) পরিদর্শনকালে পৃথক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বারির উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ‘নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পুষ্টি নিরাপত্তায় বিএআরআইয়ের অবদান, বর্তমান অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি কৃষি বিজ্ঞানীদের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগের বিপরীতে উল্লেখযোগ্য সুফল পাওয়া সম্ভব। দেশের কৃষি উৎপাদন আরও বাড়াতে গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, বিজ্ঞানীদের উন্নত কর্মপরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।

কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের দুর্বলতা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও কৃষকরা অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পান না। লোকসানের মুখে পড়ে কোনো কোনো কৃষক আলু রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হন। অথচ পরবর্তী সময়ে বীজ আলুর দাম বেড়ে যায়। উৎপাদনস্থল থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর একই পণ্যের দাম অনেক বেড়ে যায়। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতি দেখা যায়।

তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। ফলের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সেগুলোর সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এতে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের অপচয় কমবে এবং ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মাত্রাতিরিক্ত সার প্রয়োগ মাটির ক্ষতি করে এবং ফসলের গুণগত মান কমিয়ে দেয়। এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের প্রণোদনা বাড়ানো এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।

পরে দুপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ‘খাদ্যনিরাপত্তায় ব্রির অবদান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের জনসংখ্যার তুলনায় খাদ্য ঘাটতি ছিল অনেক বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত অবস্থানে পৌঁছেছে। উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে কৃষি বিজ্ঞানীদের অবদান এ সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ।

তবে ধান উৎপাদন করেও অনেক কৃষক উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না বলে উল্লেখ করেন তিনি। এতে ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমছে এবং অনেকে বিকল্প ফসল উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন। অথচ দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধান উৎপাদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকদের ধান চাষে উৎসাহিত করতে প্রয়োজনে ভর্তুকি দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তির উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে। ধান রোপণ, কাটা এবং আগাছা দমনে যন্ত্রের ব্যবহার কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। এ অগ্রগতি আরও এগিয়ে নিতে সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি গবেষণায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনসহ ভবিষ্যতের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষি গবেষণার পরিধিও বিস্তৃত করতে হবে।

কৃষি বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের উপযুক্ত বেতনকাঠামো, পেনশন সুবিধা এবং উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হবে।

চাকরিজীবন শেষে কৃষি বিজ্ঞানীদের পেনশন না পাওয়ার বিষয়টিকে অমানবিক উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে তিনি কৃষিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

কৃষি উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি এবং উচ্চফলনশীল ধানের বীজ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের কৃষি খাতে পরিবর্তন এনেছিল। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।

বারির মহাপরিচালক ড. মো. মঞ্জুরুল কাদিরের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরেন বারির পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) ড. মো. মোশাররফ হোসেন মোল্লা।

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষিপণ্যের উপযুক্ত সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দেশের কৃষিকে বিশ্ববাজারের উপযোগী করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কৃষি বিজ্ঞানী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে বারি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি বারি ও ব্রির জিন ব্যাংক, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও গবেষণা প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় বারির উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে বারি কাঁঠাল-৬ জাতের একটি চারা রোপণ করেন তিনি।