ঢাকা , সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলনবিলে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাউৎ উৎসব




পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলে শুরু হয়েছে মাছ শিকারের ঐতিহ্যবাহী বাউৎ উৎসব। পানি দ্রুত কমে যাওয়ায় এবার আগেভাগেই শুরু হয়েছে মাছ ধরার এ আয়োজন। চলনবিলের বিভিন্ন বিল, নদী ও জলাশয়ে সৌখিন মৎস্য শিকারিদের পদচারণায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে এলাকা।

চাটমোহর উপজেলার রামের বিল, খলিশাগাড়ি বিল, ডিকশি বিল, বিলকুড়ালিয়া, গুমানী ও চিকনাই নদীসহ চলনবিল অঞ্চলের বিভিন্ন বিলে চলছে এ উৎসব। স্থানীয় ভাষায় মাছ ধরার এ আয়োজনকে বলা হয় ‘বাউৎ উৎসব’। সপ্তাহের প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার নির্দিষ্ট কোনো বিলে বাউৎ বসে। এতে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার শত শত মানুষ অংশ নেন।

ভোর থেকেই নানা ধরনের যানবাহনে মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে বিলে হাজির হন সৌখিন মৎস্য শিকারিরা। পরে হৈ-হুল্লোড় আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে আল্লাহ ও রাসুলের নাম নিয়ে তাঁরা নেমে পড়েন বিলের পানিতে। কারও হাতে থাকে ঐতিহ্যবাহী পলো, আবার কেউ মাছ ধরেন বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও অংশ নেন এ উৎসবে।

গত শনিবার ও রোববার (২৪ ও ২৫ অক্টোবর) সকালে চাটমোহর উপজেলার খলিশাগাড়ি ও আফরার বিলে বাউৎ বসে। এতে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়াসহ আশপাশের উপজেলার কয়েক শ মানুষ অংশ নেন। আগামী এক মাস এ মাছ ধরার উৎসব চলবে বলে জানান বাউতে অংশ নেওয়া মৎস্য শিকারিরা।

উৎসবে অংশ নেওয়া সৌখিন মৎস্য শিকারি আমের আলী জানান, বাউতে বোয়াল, শোল, রুই, কাতলাসহ নানা প্রজাতির দেশি মাছ পাওয়া যায়। প্রতিবছর কার্তিক, অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে চলনবিল অঞ্চলের বিভিন্ন নদী ও বিলে বাউৎ বসে। তবে এবার দ্রুত পানি কমে যাওয়ায় আগেভাগেই মাছ ধরার এ উৎসব শুরু হয়েছে।

এদিকে, ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবকে ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাস থাকলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিলের জীববৈচিত্র্যে। নির্বিচারে মাছ ধরার ফলে অসংখ্য ছোট মাছ মারা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে দেশি মাছের প্রজনন ও জলজ পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চাটমোহর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আ. মতিন জানান, বাউৎ উৎসব দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। তবে এর ফলে বিলের জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

চলনবিলে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাউৎ উৎসব

আপডেট সময় : ১৭ ঘন্টা আগে

পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলে শুরু হয়েছে মাছ শিকারের ঐতিহ্যবাহী বাউৎ উৎসব। পানি দ্রুত কমে যাওয়ায় এবার আগেভাগেই শুরু হয়েছে মাছ ধরার এ আয়োজন। চলনবিলের বিভিন্ন বিল, নদী ও জলাশয়ে সৌখিন মৎস্য শিকারিদের পদচারণায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে এলাকা।

চাটমোহর উপজেলার রামের বিল, খলিশাগাড়ি বিল, ডিকশি বিল, বিলকুড়ালিয়া, গুমানী ও চিকনাই নদীসহ চলনবিল অঞ্চলের বিভিন্ন বিলে চলছে এ উৎসব। স্থানীয় ভাষায় মাছ ধরার এ আয়োজনকে বলা হয় ‘বাউৎ উৎসব’। সপ্তাহের প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার নির্দিষ্ট কোনো বিলে বাউৎ বসে। এতে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার শত শত মানুষ অংশ নেন।

ভোর থেকেই নানা ধরনের যানবাহনে মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে বিলে হাজির হন সৌখিন মৎস্য শিকারিরা। পরে হৈ-হুল্লোড় আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে আল্লাহ ও রাসুলের নাম নিয়ে তাঁরা নেমে পড়েন বিলের পানিতে। কারও হাতে থাকে ঐতিহ্যবাহী পলো, আবার কেউ মাছ ধরেন বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও অংশ নেন এ উৎসবে।

গত শনিবার ও রোববার (২৪ ও ২৫ অক্টোবর) সকালে চাটমোহর উপজেলার খলিশাগাড়ি ও আফরার বিলে বাউৎ বসে। এতে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়াসহ আশপাশের উপজেলার কয়েক শ মানুষ অংশ নেন। আগামী এক মাস এ মাছ ধরার উৎসব চলবে বলে জানান বাউতে অংশ নেওয়া মৎস্য শিকারিরা।

উৎসবে অংশ নেওয়া সৌখিন মৎস্য শিকারি আমের আলী জানান, বাউতে বোয়াল, শোল, রুই, কাতলাসহ নানা প্রজাতির দেশি মাছ পাওয়া যায়। প্রতিবছর কার্তিক, অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে চলনবিল অঞ্চলের বিভিন্ন নদী ও বিলে বাউৎ বসে। তবে এবার দ্রুত পানি কমে যাওয়ায় আগেভাগেই মাছ ধরার এ উৎসব শুরু হয়েছে।

এদিকে, ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবকে ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাস থাকলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিলের জীববৈচিত্র্যে। নির্বিচারে মাছ ধরার ফলে অসংখ্য ছোট মাছ মারা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে দেশি মাছের প্রজনন ও জলজ পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চাটমোহর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আ. মতিন জানান, বাউৎ উৎসব দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। তবে এর ফলে বিলের জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।