চাটমোহরে ‘গরিবের ডাক্তার’ আলমগীরের বদলি বাতিল ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বুলবুলের অপসারণ দাবি

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 1 month ago

62

পাবনার চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত গরিব-অসহায় মানুষের আশার নাম হিসেবে পরিচিত চিকিৎসক ডা. আলমগীর হোসেনের বদলি প্রত্যাহার এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. ওমর ফারুক বুলবুলের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে সচেতন নাগরিক সমাজ, চাটমোহর-এর ব্যানারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধন চলাকালে দাপ্তরিক কাজে হাসপাতালে আগত পাবনার সিভিল সার্জনকে ঘিরে বিক্ষুব্ধ জনতা একপর্যায়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

অভিযোগের পাহাড়

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে জরুরি রোগীরা যথাযথ সেবা না পেয়ে নিয়মিতভাবে পাবনা সদর হাসপাতাল কিংবা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড হচ্ছেন। ভর্তি রোগীরাও সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। হাসপাতালের অভ্যন্তরে দুর্নীতি, চিকিৎসাবাণিজ্য ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।

বক্তারা জানান, ডা. আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন গরিব রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছেন। অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা লিখতেন না এবং কোনো কমিশন সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাঁর সততা ও মানবিক আচরণের কারণেই তিনি ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পান। ঠিক এই কারণেই হাসপাতালে বিদ্যমান টেস্ট সিন্ডিকেট ও কিছু চিকিৎসকের স্বার্থে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় মাত্র এক বছরের মাথায় তাঁকে আকস্মিকভাবে সুজানগর হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে।

অপসারণ দাবির মূল কেন্দ্রবিন্দু টিএইচও বুলবুল

বক্তারা অভিযোগ করেন, এসবের নেপথ্যে রয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক বুলবুল। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে তিনি নানামুখী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। নিজের মতের বিরুদ্ধে গেলে সহকর্মীদের হয়রানির শিকার হতে হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেস্ট বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়। বক্তারা বলেন, “তার কারণে ভালো চিকিৎসকরা চাটমোহরে বেশিদিন থাকতে পারেন না।”

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন—আওয়ামী লীগের এক নেতার আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ক্ষমতার প্রভাব খাটাচ্ছেন। সরকার পরিবর্তনের পরও সেই প্রভাবের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।

সিভিল সার্জনের আশ্বাস

এদিন বিক্ষোভের খবর আগেই পেয়ে হাসপাতালে উপস্থিত হননি ডা. বুলবুল। অন্যদিকে দাপ্তরিক কাজে হাসপাতালে আসা পাবনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদকে বিক্ষুব্ধ জনতা টিএইচও’র কক্ষে ঘিরে ফেলেন। তোপের মুখে তিনি আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন—

তিন কার্যদিবসের মধ্যে ডা. আলমগীর হোসেনকে চাটমোহর হাসপাতালে ফেরানো হবে

ডা. ওমর ফারুক বুলবুলের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি চাটমোহর হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারবেন না

টিএইচও বুলবুলের বক্তব্য

যোগাযোগ করা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক বুলবুল বলেন,সকালে আমি হাসপাতালে ছিলাম না, বিকেলে আমার ডিউটি ছিল। তাই কী হয়েছে বিস্তারিত জানি না। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সত্য নয়। ডা. আলমগীরের বদলির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি আমার দায়িত্বই পালন করি।