পাবনার চাটমোহরে মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব। এ বছর উপজেলার ৫৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসবকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে সরকারি বরাদ্দের চালের পরিমাণও ১০০ কেজি করে বাড়ানো হয়েছে।
পূজাকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে চলছে উৎসবের আয়োজন। প্রতিমা স্থাপন, মণ্ডপ সাজসজ্জা ও পূজার আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা। দুর্গোৎসবকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও উৎসাহ।
চাটমোহর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর দত্ত চৈতন্য বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে তাঁদের একাধিক বৈঠক হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। উপজেলার দুর্গম এলাকায় তিন-চারটি মন্দিরে পূজার আয়োজন থাকলেও কোনো পূজামণ্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে সরকারি বরাদ্দের চালের পরিমাণ ১০০ কেজি করে বাড়ানো হয়েছে। এ বছর প্রতিটি দুর্গাপূজার মন্দিরের জন্য ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনের লক্ষ্যে গত ৮ অক্টোবর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি এবং পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপজেলার ৫৪টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা অংশ নেন। পূজার সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভায় আলোচনা হয়।
চাটমোহর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক অশোক কুমার চক্রবর্তী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সব ধর্মের মানুষ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং উৎসবে সবাইকে সাদর আমন্ত্রণ জানান।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে উৎসবটি উদ্যাপনের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা।

চলনবিলের সময় 

























