সংবাদ শিরোনাম ::
বর্তমান স্ত্রীর দাবি ৩০ বছরে তিন বউ ছাড়া কিছুই দেয়নি কাঞ্চন ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম দাদার স্মরণে প্রথম ম্যারাথনে অংশগ্রহণ ফিনিশ লাইনের ২ মাইল আগে থেমে গেল র‍্যাচেলের জীবন বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও সংঘাত বাড়ছে, সতর্ক করলেন রাজা চার্লস পাহাড়সম ব্যর্থতা ঢাকতে বিরোধীদলের ওপর দায় চাপাচ্ছে সরকার: জামায়াত আমির ওয়াই আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর শিবগঞ্জে এসআরবির অভিযানে কফ রিলিফ, ফায়ারডিল ও বিদেশি মদ উদ্ধার শাজাহানপুরে করতোয়া নদীর ওপর দুবলাগাড়ী সেতু দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আশার আলো চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহনের সময় ৮০ বস্তা সার জব্দ, ডিলারসহ দুজনের কারাদণ্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ককটেল ও রামদাসহ গ্রেপ্তার ২

ছাগল পালনেই সংসার, তিস্তা পাড়ি আজিজারের

গঙ্গাচড়া রংপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:২০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ ৬৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি




‎‎সকালের আলো ফুটতেই ছোট নৌকাটি নিয়ে তিস্তা নদীতে নামেন ৬২ বছর বয়সী কৃষক আজিজার রহমান। নৌকায় থাকে তাঁর একে একে ২০টি ছাগল। নদী পেরিয়ে চরাঞ্চলে পৌঁছে ছাগলগুলোকে ছেড়ে দেন চরে। দিনভর চরেই ঘাস খেয়ে বেড়ায় ছাগলগুলো। বিকেলে আবার নৌকায় তুলে বাড়ির পথ ধরেন আজিজার।
‎
‎রংপুরের গংগাচড়া ইউনিয়নের গান্নারপাড় গ্রামের সমসের আলীর ছেলে আজিজার রহমানের প্রতিদিনের জীবন এখন এমনই। ছাগল পালনই তাঁর পরিবারের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম অবলম্বন। নদী পেরিয়ে তিস্তার চরে ছাগল চরানো যেন তাঁর নিত্যদিনের সংগ্রামের অংশ হয়ে গেছে।
‎
‎আজিজার রহমান জানান, একটি এনজিও থেকে পাওয়া ছাগল দিয়ে তাঁর এই যাত্রা শুরু। ধীরে ধীরে ছাগলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে প্রায় ২০টি ছাগল। এসব ছাগল পালন করেই সংসারের খরচ চালানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
‎
‎তিনি বলেন, তিস্তায় চর জেগে ওঠার পর সেখানে ছাগলের খাবারের সংকট কিছুটা কমে যায়। চরে জন্মানো ঘাস ছাগলের জন্য সহজলভ্য হওয়ায় বাড়তি খাবারের খরচও কম লাগে। তাই প্রতিদিন নৌকায় করে ছাগল নিয়ে নদী পার হয়ে চরে যান তিনি।
‎
‎তবে এই কাজ ঝুঁকিমুক্ত নয়। নদীর পানি বাড়লে কিংবা স্রোত বেশি থাকলে ছোট নৌকায় ছাগল পারাপার করা কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনই নদীতে নামতে হয় তাঁকে।
‎
‎তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা জানান, নদী ও চরকে ঘিরেই এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকা। কখনো পানি, কখনো ভাঙন, আবার কখনো জেগে ওঠা চর—প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই জীবিকার পথ খুঁজতে হয় তাঁদের। কৃষিকাজের পাশাপাশি গবাদিপশু পালনও অনেক পরিবারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
‎
‎আজিজার রহমানের মতো অনেক কৃষক তিস্তার চরে জেগে ওঠা ঘাস ও খোলা জায়গাকে কাজে লাগিয়ে গবাদিপশু পালন করছেন। তাঁদের কাছে নদী যেমন দুর্ভোগের কারণ, তেমনি চর হয়ে উঠেছে জীবিকার নতুন সম্ভাবনা।
‎
‎একটি ছোট নৌকা, কয়েকটি ছাগল আর তিস্তায় জেগে ওঠা চর—এই সামান্য সম্বল নিয়েই প্রতিদিন নতুন করে জীবনসংগ্রামে নামেন কৃষক আজিজার রহমান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ছাগল পালনেই সংসার, তিস্তা পাড়ি আজিজারের

আপডেট সময় : ০৮:২০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

‎‎সকালের আলো ফুটতেই ছোট নৌকাটি নিয়ে তিস্তা নদীতে নামেন ৬২ বছর বয়সী কৃষক আজিজার রহমান। নৌকায় থাকে তাঁর একে একে ২০টি ছাগল। নদী পেরিয়ে চরাঞ্চলে পৌঁছে ছাগলগুলোকে ছেড়ে দেন চরে। দিনভর চরেই ঘাস খেয়ে বেড়ায় ছাগলগুলো। বিকেলে আবার নৌকায় তুলে বাড়ির পথ ধরেন আজিজার।
‎
‎রংপুরের গংগাচড়া ইউনিয়নের গান্নারপাড় গ্রামের সমসের আলীর ছেলে আজিজার রহমানের প্রতিদিনের জীবন এখন এমনই। ছাগল পালনই তাঁর পরিবারের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম অবলম্বন। নদী পেরিয়ে তিস্তার চরে ছাগল চরানো যেন তাঁর নিত্যদিনের সংগ্রামের অংশ হয়ে গেছে।
‎
‎আজিজার রহমান জানান, একটি এনজিও থেকে পাওয়া ছাগল দিয়ে তাঁর এই যাত্রা শুরু। ধীরে ধীরে ছাগলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে প্রায় ২০টি ছাগল। এসব ছাগল পালন করেই সংসারের খরচ চালানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
‎
‎তিনি বলেন, তিস্তায় চর জেগে ওঠার পর সেখানে ছাগলের খাবারের সংকট কিছুটা কমে যায়। চরে জন্মানো ঘাস ছাগলের জন্য সহজলভ্য হওয়ায় বাড়তি খাবারের খরচও কম লাগে। তাই প্রতিদিন নৌকায় করে ছাগল নিয়ে নদী পার হয়ে চরে যান তিনি।
‎
‎তবে এই কাজ ঝুঁকিমুক্ত নয়। নদীর পানি বাড়লে কিংবা স্রোত বেশি থাকলে ছোট নৌকায় ছাগল পারাপার করা কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনই নদীতে নামতে হয় তাঁকে।
‎
‎তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা জানান, নদী ও চরকে ঘিরেই এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকা। কখনো পানি, কখনো ভাঙন, আবার কখনো জেগে ওঠা চর—প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই জীবিকার পথ খুঁজতে হয় তাঁদের। কৃষিকাজের পাশাপাশি গবাদিপশু পালনও অনেক পরিবারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
‎
‎আজিজার রহমানের মতো অনেক কৃষক তিস্তার চরে জেগে ওঠা ঘাস ও খোলা জায়গাকে কাজে লাগিয়ে গবাদিপশু পালন করছেন। তাঁদের কাছে নদী যেমন দুর্ভোগের কারণ, তেমনি চর হয়ে উঠেছে জীবিকার নতুন সম্ভাবনা।
‎
‎একটি ছোট নৌকা, কয়েকটি ছাগল আর তিস্তায় জেগে ওঠা চর—এই সামান্য সম্বল নিয়েই প্রতিদিন নতুন করে জীবনসংগ্রামে নামেন কৃষক আজিজার রহমান।