ঢাকা , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

জ্বালানি খরচ কমাতে ইউরোপের নতুন কৌশল




জ্বালানির বাড়তি দাম থেকে রেহাই পেতে বাড়ির ছাদ ছাড়িয়ে এখন উঠান, বারান্দা ও গাড়ি রাখার জায়গাতেও সৌরপ্যানেল বসাচ্ছেন ইউরোপের বাসিন্দারা। এতে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছেন তারা।

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে সৌরবিদ্যুৎ ইউরোপের জ্বালানি ব্যয়ের চাপ কমাতে ভূমিকা রাখছে। খবর ইউরো নিউজের।

সোলার পাওয়ার ইউরোপের সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে গ্যাস আমদানি বাবদ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রায় ৪০ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল এখনো বেশি থাকায় বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন অনেক পরিবার।

জার্মানির নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এনপাল বিএ জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর প্রথম কয়েক সপ্তাহে সৌরপ্যানেল স্থাপনের বিষয়ে তাদের কাছে গ্রাহকদের অনুসন্ধান ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

যুক্তরাজ্যের জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ইওএনের হিসাবে, ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে আগ্রহ ২৩ শতাংশ বাড়ে। পরের সপ্তাহে তা আরও ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

হাঙ্গেরির প্রতিষ্ঠান প্লাটিও বাড়ির উঠান, পথ ও গাড়ি রাখার জায়গায় ব্যবহারের উপযোগী সৌরপ্যানেল তৈরি করছে। ২০১৬ সালে প্রথম নমুনা তৈরির পর প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপের ১৩টি দেশে কার্যক্রম বিস্তৃত করেছে।

২০১৮ সালে হাঙ্গেরির কেচকেমেট শহরে একটি বাড়ির গাড়ি রাখার জায়গায় নয় বর্গমিটার আয়তনের সৌরব্যবস্থা স্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটি। এর উৎপাদনক্ষমতা ১ দশমিক ৭ কিলোওয়াট-পিক। তাত্ত্বিকভাবে এটি ফ্রিজ, এলইডি বাতি ও ছোট রান্নাঘরের যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে।

২০২১ সালে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের কাছে ছয়টি ফ্ল্যাটের একটি ভবনের উঠানেও সৌরপ্যানেল বসানো হয়। যুক্তরাজ্যের সোলারপেভ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান বাড়ির গাড়ি রাখার জায়গা ও বারান্দার মেঝেতে সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তি স্থাপন করছে।

এসব সৌরপ্যানেলের ওপর শক্ত ও পিচ্ছিলরোধী বিশেষ কাচ ব্যবহার করা হয়। ফলে এর ওপর দিয়ে হাঁটা কিংবা গাড়ি পার্ক করাও সম্ভব।

তবে ছাদের কাত করা প্যানেলের তুলনায় মেঝেতে সমতলভাবে বসানো প্যানেলে সাধারণত কম বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। ধুলাবালিও উৎপাদন কমাতে পারে। এ কারণে এসব ব্যবস্থা স্থাপনের খরচ কত বছরে উঠে আসবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।

গ্লোবাল সোলার কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া ডানলপ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানির দামের ওঠানামার কারণে মানুষ নিজেদের জ্বালানির নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে। সৌরবিদ্যুৎ এ ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী একটি উপায়।

তার মতে, ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপনই বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের একমাত্র পথ নয়। ছায়ায় ঢাকা কিংবা সৌরপ্যানেল বসানোর অনুপযোগী ছাদ থাকা বাড়িগুলোর জন্য উঠান, বারান্দা, বেড়া ও গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গাও কাজে লাগানো সম্ভব।

রোদ পাওয়া এসব জায়গায় সৌরপ্রযুক্তির ব্যবহার ইউরোপের জ্বালানিব্যবস্থাকে আরও সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করতে পারে।

সূত্র: ইউরো নিউজ

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

মোকামতলায় দুই দিনে ২৫ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা দিল বিএনপি

জ্বালানি খরচ কমাতে ইউরোপের নতুন কৌশল

আপডেট সময় : ১০ ঘন্টা আগে

জ্বালানির বাড়তি দাম থেকে রেহাই পেতে বাড়ির ছাদ ছাড়িয়ে এখন উঠান, বারান্দা ও গাড়ি রাখার জায়গাতেও সৌরপ্যানেল বসাচ্ছেন ইউরোপের বাসিন্দারা। এতে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছেন তারা।

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে সৌরবিদ্যুৎ ইউরোপের জ্বালানি ব্যয়ের চাপ কমাতে ভূমিকা রাখছে। খবর ইউরো নিউজের।

সোলার পাওয়ার ইউরোপের সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে গ্যাস আমদানি বাবদ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রায় ৪০ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল এখনো বেশি থাকায় বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন অনেক পরিবার।

জার্মানির নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এনপাল বিএ জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর প্রথম কয়েক সপ্তাহে সৌরপ্যানেল স্থাপনের বিষয়ে তাদের কাছে গ্রাহকদের অনুসন্ধান ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

যুক্তরাজ্যের জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ইওএনের হিসাবে, ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে আগ্রহ ২৩ শতাংশ বাড়ে। পরের সপ্তাহে তা আরও ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

হাঙ্গেরির প্রতিষ্ঠান প্লাটিও বাড়ির উঠান, পথ ও গাড়ি রাখার জায়গায় ব্যবহারের উপযোগী সৌরপ্যানেল তৈরি করছে। ২০১৬ সালে প্রথম নমুনা তৈরির পর প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপের ১৩টি দেশে কার্যক্রম বিস্তৃত করেছে।

২০১৮ সালে হাঙ্গেরির কেচকেমেট শহরে একটি বাড়ির গাড়ি রাখার জায়গায় নয় বর্গমিটার আয়তনের সৌরব্যবস্থা স্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটি। এর উৎপাদনক্ষমতা ১ দশমিক ৭ কিলোওয়াট-পিক। তাত্ত্বিকভাবে এটি ফ্রিজ, এলইডি বাতি ও ছোট রান্নাঘরের যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে।

২০২১ সালে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের কাছে ছয়টি ফ্ল্যাটের একটি ভবনের উঠানেও সৌরপ্যানেল বসানো হয়। যুক্তরাজ্যের সোলারপেভ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান বাড়ির গাড়ি রাখার জায়গা ও বারান্দার মেঝেতে সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তি স্থাপন করছে।

এসব সৌরপ্যানেলের ওপর শক্ত ও পিচ্ছিলরোধী বিশেষ কাচ ব্যবহার করা হয়। ফলে এর ওপর দিয়ে হাঁটা কিংবা গাড়ি পার্ক করাও সম্ভব।

তবে ছাদের কাত করা প্যানেলের তুলনায় মেঝেতে সমতলভাবে বসানো প্যানেলে সাধারণত কম বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। ধুলাবালিও উৎপাদন কমাতে পারে। এ কারণে এসব ব্যবস্থা স্থাপনের খরচ কত বছরে উঠে আসবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।

গ্লোবাল সোলার কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া ডানলপ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানির দামের ওঠানামার কারণে মানুষ নিজেদের জ্বালানির নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে। সৌরবিদ্যুৎ এ ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী একটি উপায়।

তার মতে, ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপনই বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের একমাত্র পথ নয়। ছায়ায় ঢাকা কিংবা সৌরপ্যানেল বসানোর অনুপযোগী ছাদ থাকা বাড়িগুলোর জন্য উঠান, বারান্দা, বেড়া ও গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গাও কাজে লাগানো সম্ভব।

রোদ পাওয়া এসব জায়গায় সৌরপ্রযুক্তির ব্যবহার ইউরোপের জ্বালানিব্যবস্থাকে আরও সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করতে পারে।

সূত্র: ইউরো নিউজ