ঢাকা , শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাটমোহর প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২৯ আগস্ট: চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ জাতীয় ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম গড়তে পাইলট প্রকল্পের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে মার্কিন দূতাবাসের অভিনন্দন তথ্যমন্ত্রী হলেন আন্দালিব রহমান পার্থ মন্ত্রীর মর্যাদায় নতুন দায়িত্বে জহির উদ্দিন স্বপন ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরতে সপ্তাহব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব শুরু অস্ট্রেলিয়ায় ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের রহস্য কী, জানালেন শরিফুল নির্বাচন সামনে, বেতগাড়ীতে গণসংযোগে সবুজ তুরস্কের পরিকল্পনা নস্যাৎ করতেই সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে হামলা ইসরায়েলের সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের ৩ জন একই পরিবারের

ট্রায়ালে ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকায় কমেছে ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি

ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন গবেষকরা। ব্যক্তির ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে তৈরি একটি টিকা ইমিউনোথেরাপির ওষুধের সঙ্গে প্রয়োগ করে ত্বকের ক্যানসারের একটি ধরন মেলানোমা ফিরে আসার ঝুঁকি কমানোর সাফল্য পাওয়া গেছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে।

ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক ও মডার্নার যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে টিকাটি। উচ্চ ঝুঁকির মেলানোমায় আক্রান্ত রোগীদের অস্ত্রোপচারের পর এই টিকা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের দেওয়া হয় কিট্রুডা নামের একটি ইমিউনোথেরাপি।

মার্ক ও মডার্নার এক যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফলে টিকা ও কিট্রুডার সম্মিলিত চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের ক্যানসারমুক্ত থাকার সময় শুধু কিট্রুডা নেওয়া রোগীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। একই সঙ্গে শরীরের অন্য অংশে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমেছে।

‘ইন্টিসমেরান’ নামের টিকাটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। অর্থাৎ প্রতিটি রোগীর ক্যানসার কোষে থাকা নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে টিকাটি প্রস্তুত করা হয়। এর লক্ষ্য হলো রোগীর রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেমকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে আক্রমণ করতে আরও কার্যকরভাবে প্রস্তুত করা।

তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এক হাজারের বেশি রোগী অংশ নেন। তাদের সবারই অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার ফিরে আসার উচ্চ ঝুঁকি ছিল। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ের মেলানোমায় আক্রান্ত রোগীরাও ছিলেন।

গবেষকদের এই ফলাফলকে ক্যানসারের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসা ঠেকাতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিস্তারিত পর্যালোচনাও সম্পন্ন হয়নি। এ ছাড়া টিকার মাধ্যমে পাওয়া সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্থায়ী হবে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর চিকিৎসাটি ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। যুক্তরাজ্যে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বা এনএইচএসের আওতায় এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পৃথক মূল্যায়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

গবেষণার ফলাফল শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হলে, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের চিকিৎসায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকা নতুন একটি পথ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

চাটমোহর প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২৯ আগস্ট: চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ

ট্রায়ালে ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকায় কমেছে ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি

আপডেট সময় : ১১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন গবেষকরা। ব্যক্তির ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে তৈরি একটি টিকা ইমিউনোথেরাপির ওষুধের সঙ্গে প্রয়োগ করে ত্বকের ক্যানসারের একটি ধরন মেলানোমা ফিরে আসার ঝুঁকি কমানোর সাফল্য পাওয়া গেছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে।

ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক ও মডার্নার যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে টিকাটি। উচ্চ ঝুঁকির মেলানোমায় আক্রান্ত রোগীদের অস্ত্রোপচারের পর এই টিকা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের দেওয়া হয় কিট্রুডা নামের একটি ইমিউনোথেরাপি।

মার্ক ও মডার্নার এক যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফলে টিকা ও কিট্রুডার সম্মিলিত চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের ক্যানসারমুক্ত থাকার সময় শুধু কিট্রুডা নেওয়া রোগীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। একই সঙ্গে শরীরের অন্য অংশে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমেছে।

‘ইন্টিসমেরান’ নামের টিকাটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। অর্থাৎ প্রতিটি রোগীর ক্যানসার কোষে থাকা নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে টিকাটি প্রস্তুত করা হয়। এর লক্ষ্য হলো রোগীর রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেমকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে আক্রমণ করতে আরও কার্যকরভাবে প্রস্তুত করা।

তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এক হাজারের বেশি রোগী অংশ নেন। তাদের সবারই অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার ফিরে আসার উচ্চ ঝুঁকি ছিল। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ের মেলানোমায় আক্রান্ত রোগীরাও ছিলেন।

গবেষকদের এই ফলাফলকে ক্যানসারের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসা ঠেকাতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিস্তারিত পর্যালোচনাও সম্পন্ন হয়নি। এ ছাড়া টিকার মাধ্যমে পাওয়া সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্থায়ী হবে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর চিকিৎসাটি ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। যুক্তরাজ্যে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বা এনএইচএসের আওতায় এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পৃথক মূল্যায়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

গবেষণার ফলাফল শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হলে, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের চিকিৎসায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকা নতুন একটি পথ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।