পাঁচ বছরে ৪,৫৯৯ ইউনিয়নে খেলার মাঠ, আধুনিকায়ন হবে রংপুর স্টেডিয়ামও
- আপডেট সময় : ০৮:০০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি আটটি বিভাগে ভাগ করে পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, ইনডোর স্টেডিয়াম ও জিমনেসিয়াম সংস্কার এবং আধুনিকায়ন করা হবে। এ পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে রংপুর জেলা স্টেডিয়ামও।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রংপুর জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে স্থানীয় ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠক, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব পরিকল্পনার কথা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চায় সরকার। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি এবং ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলো সংস্কার ও আধুনিকায়নে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের ড্রেসিং রুম, প্রেস বক্স ও গ্যালারিসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি সুইমিং পুল ও ইনডোর ক্রীড়া সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির মাধ্যমে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক ও প্রকৌশলীরা এ নিয়ে কাজ করছেন।
রংপুরে বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের দাবির বিষয়ে আমিনুল হক বলেন, রংপুর খেলাধুলাপ্রিয় একটি নগরী। এখান থেকে অতীতে অনেক ভালো খেলোয়াড় তৈরি হয়েছেন, ভবিষ্যতেও হবেন। তবে নতুন বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের আগে বিদ্যমান স্টেডিয়ামগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন করা হবে। এরপর চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা করা হবে।
ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন। এ জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে তিন থেকে আট বিঘা পর্যন্ত খাসজমি চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। এসব জমি সংস্কার করে খেলার উপযোগী মাঠ তৈরি করা হবে। এতে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ খেলাধুলার সুযোগ পাবেন।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসন নিয়ে তিনি জানান, আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে প্রধানমন্ত্রী একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ আয়োজনের উদ্বোধন করবেন। প্রথম আসরে অংশ নেওয়া ৩১০ জন ক্রীড়াবিদের মধ্য থেকে ৪০ জনকে বাছাই করে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) স্থায়ীভাবে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে তারা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রশিক্ষণ নেবে। উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগের পাশাপাশি তাদের পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রেজেকে সুলতানা ফেন্সি, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব সামছুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি নাজমুল আলম নাজুসহ জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক, সাংবাদিক ও স্থানীয় ক্রীড়াবিদরা।












