ঢাকা , সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাত বাড়লেই বাড়তি ভাড়া, বৃষ্টিতে দ্বিগুণ—চেলোপাড়া–সারিয়াকান্দি সিএনজি চালকদের বিরুদ্ধে যাত্রীদের অভিযোগ তারকাখচিত গ্রিনলিফের ৮ম আসর, আজীবন সম্মাননায় নূতন-মুনমুন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল ব্যবসা অধিগ্রহণে আগ্রহী পূবালী ব্যাংক এশিয়ান গেমস যেন ‘চায়না গেমস’, তলানিতে বাংলাদেশ ইউক্রেনের বৃহত্তম মোবাইল কোম্পানির সদর দপ্তরে রুশ হামলা তারেক রহমানের হাতে আলাদিনের চেরাগ নেই: ডিএসসিসি প্রশাসক সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সরকারের বিরুদ্ধে গণক্ষোভ বিস্ফোরিত হতে পারে: ফয়জুল করীম কৃষকরা দেশের শ্রেষ্ঠ মানুষ: রাষ্ট্রপতি ফ্যামিলি-কৃষক কার্ড নিয়ে স্বজনপ্রীতি করলেই মামলা: ডেপুটি স্পিকার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিবির অভিযানে বিদেশি মদ ও মাদকসহ গ্রেপ্তার ১

প্রত্যেক খুনির বিচার করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী




জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) চালু আছে, চালু থাকবে। প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। প্রত্যেক খুনির বিচার করা হবে, ইনশাআল্লাহ।’

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধোলাইখালের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মাঠে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে’ ঢাকা-৬ আসনের (সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া, কোতয়ালী ওয়ার্ড) উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা এ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে এবং মানুষের বুকে গুলি চালিয়েছে, তাদের কোনো ক্ষমা নেই। প্রত্যেকের বিচার করা হবে। গত ১৭ বছরে যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন এবং যারা বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।

বিগত সরকার বিনা ভোটে গণতন্ত্রকে ‘সিস্টেমেটিক্যালি হত্যা করেছে’ দাবি করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর এ দেশের মানুষ সবচেয়ে বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। সেই বাহিনী ও ফ্যাসিবাদী শক্তিকে বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।

শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পতিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হয়ে নিয়মিত জুম মিটিং করছেন এবং নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন। আমরা চাই তিনি দেশে ফিরুন এবং বিচারের মুখোমুখি হোন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে অনুরোধ জানানো হলেও এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। দেশে তাদের বিচার হয়েছে। প্রয়োজনে তারা আপিলের সুযোগ চাইলে সেই সুযোগ দেওয়া হবে এবং সুষ্ঠু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

বিরোধী দলের এক দফা আন্দোলনের প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। সাধারণত একটি সরকারের চার বছর পর তীব্র আন্দোলনের ঘোষণা দেখা যায়। কিন্তু সাত মাসের মধ্যেই কী এমন ব্যর্থতা দেখা গেল যে সরকারের বিরুদ্ধে লং মার্চের ঘোষণা দিতে হলো?

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার জন্য সরকার সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু তারা সেখানে অংশ না নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। ‘তাদের বিষয়েও জনগণকে ভাবতে হবে।’

বিএনপি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা, গণতন্ত্র সুসংহত এবং সাংবিধানিক পরিবর্তন আনতে চায় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এ দেশে কোনোদিন ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের উত্থান না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।

জ্বালানি তেলের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম কত বেড়েছে, সেটি বলা হচ্ছে না। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে তেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় দ্বিগুণ, এমনকি তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশেও জ্বালানি তেলের দাম কমানো হবে। এটি সরকারের প্রতিশ্রুতি।

গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা অব্যাহত রাখার স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের জন্য যেভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে সংগ্রাম করেছে এবং রক্ত দিয়েছে, ভবিষ্যতেও সেভাবেই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণবিষয়ক সহসম্পাদক কাজী আবুল বাশার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সাত্তার, সাইদুর রহমান মিন্টুসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

রাত বাড়লেই বাড়তি ভাড়া, বৃষ্টিতে দ্বিগুণ—চেলোপাড়া–সারিয়াকান্দি সিএনজি চালকদের বিরুদ্ধে যাত্রীদের অভিযোগ

প্রত্যেক খুনির বিচার করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) চালু আছে, চালু থাকবে। প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। প্রত্যেক খুনির বিচার করা হবে, ইনশাআল্লাহ।’

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধোলাইখালের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মাঠে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে’ ঢাকা-৬ আসনের (সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া, কোতয়ালী ওয়ার্ড) উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা এ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে এবং মানুষের বুকে গুলি চালিয়েছে, তাদের কোনো ক্ষমা নেই। প্রত্যেকের বিচার করা হবে। গত ১৭ বছরে যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন এবং যারা বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।

বিগত সরকার বিনা ভোটে গণতন্ত্রকে ‘সিস্টেমেটিক্যালি হত্যা করেছে’ দাবি করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর এ দেশের মানুষ সবচেয়ে বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। সেই বাহিনী ও ফ্যাসিবাদী শক্তিকে বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।

শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পতিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হয়ে নিয়মিত জুম মিটিং করছেন এবং নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন। আমরা চাই তিনি দেশে ফিরুন এবং বিচারের মুখোমুখি হোন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে অনুরোধ জানানো হলেও এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। দেশে তাদের বিচার হয়েছে। প্রয়োজনে তারা আপিলের সুযোগ চাইলে সেই সুযোগ দেওয়া হবে এবং সুষ্ঠু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

বিরোধী দলের এক দফা আন্দোলনের প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। সাধারণত একটি সরকারের চার বছর পর তীব্র আন্দোলনের ঘোষণা দেখা যায়। কিন্তু সাত মাসের মধ্যেই কী এমন ব্যর্থতা দেখা গেল যে সরকারের বিরুদ্ধে লং মার্চের ঘোষণা দিতে হলো?

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার জন্য সরকার সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু তারা সেখানে অংশ না নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। ‘তাদের বিষয়েও জনগণকে ভাবতে হবে।’

বিএনপি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা, গণতন্ত্র সুসংহত এবং সাংবিধানিক পরিবর্তন আনতে চায় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এ দেশে কোনোদিন ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের উত্থান না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।

জ্বালানি তেলের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম কত বেড়েছে, সেটি বলা হচ্ছে না। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে তেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় দ্বিগুণ, এমনকি তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশেও জ্বালানি তেলের দাম কমানো হবে। এটি সরকারের প্রতিশ্রুতি।

গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা অব্যাহত রাখার স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের জন্য যেভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে সংগ্রাম করেছে এবং রক্ত দিয়েছে, ভবিষ্যতেও সেভাবেই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণবিষয়ক সহসম্পাদক কাজী আবুল বাশার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সাত্তার, সাইদুর রহমান মিন্টুসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।