ঢাকা , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বাজারে শীতের আগাম সবজি, চড়া দামে অস্বস্তিতে ক্রেতারা




বাজারে মিলতে শুরু করেছে শিম, ফুলকপি ও মুলার মতো শীতকালীন নানাবিধ আগাম সবজি। তবে স্বস্তির খবর নিয়ে আসা এসব নতুন সবজি কিনতে গিয়ে চড়া দামেই পকেট খালি হচ্ছে ক্রেতাদের। পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া ছাড়া বাজারে অন্য সবজি কেজিতে ৮০ টাকার নিচে মেলা দায় হয়ে পড়েছে; এমনকি স্থানভেদে পাকা টমেটোর দাম ২০০ টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়েছে। তবে সবজির বাজারে এমন উত্তাপ থাকলেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে ডিমের দামে, অন্যদিকে মাছ ও মাংসের দর গত সপ্তাহের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখি ও পটোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বেগুন ও কাঁকরোলের কেজি ১০০ টাকা। শীতের আগাম জাতের মুলা ও ঢ্যাঁড়সের দামও কেজিপ্রতি ৮০ টাকা। তবে আগাম শিম কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিতে ১৬০ টাকা। আর প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। বর্তমানে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ফুলকপি পিচে ৭০ টাকা বিক্রি হয়।

এদিকে সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে একমাত্র স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। এখন মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতি পিচ ৪০ থেকে ৬০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।

বাজার করতে আসা আকমল হোসেন নামে এক ক্রেতা আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, শীতের নতুন সবজি হলেও দাম অনেক চড়া। বাজারে টমেটোর কেজি ১৮০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা এবং শিম কিনতে হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে।

বাজারে আরো ঘুরে দেখা যায়, মুরগির বাজারেও দামে তেমন পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দামও আগের চেয়ে ১০ টাকা ডজনে কমেছে। প্রতি ডজন ১৪০ টাকা ও চারটি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে গরুর মাংসের দাম আগের মতোই আছে। ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা যায়।

ব্রয়লার মুরগি বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মুরগির দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। এক সপ্তাহে ১০ টাকা কমলে পরবর্তী সপ্তাহে আবার ১০ টাকা বাড়ে। ঘোরাফেরা করে ২০০ টাকার আশেপাশেই থাকে দাম। অন্যদিকে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে। আজ প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি করছি।

এদিকে মাছের বাজারেরও একই চিত্র। তেলাপিয়া ২৫০-২৬০, পাঙাশ ২২০- ২৩০, রুই-কাতল ৩৮০-৪২০ এবং চিংড়ি ১,০০০-১,৩০০ টাকা কেজি। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মিগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং সইল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে। তবে মাছের সাইজ ও জীবিত ও মৃত উপর দাম নির্ভর করে। প্রতিটি বাজারে ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিপ্রতি কম বেশি হতে পারে।

মাছ বিক্রেতা মোতালেব হোসেন বলেন, মাছের দাম আগের মতোই রয়েছে। আজ রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া তেলাপিয়া ২৫০ টাকা ও পাঙাশ ২৩০ টাকায় বিক্রি করছি। ছুটির দিন অর্থাৎ শুক্রবারে মাছের চাহিদা একটু বেশি থাকায় দামও সামান্য চড়া থাকে।

সূত্রঃ এদিন

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর দিলো থাইল্যান্ড

বাজারে শীতের আগাম সবজি, চড়া দামে অস্বস্তিতে ক্রেতারা

আপডেট সময় : ১৬ ঘন্টা আগে

বাজারে মিলতে শুরু করেছে শিম, ফুলকপি ও মুলার মতো শীতকালীন নানাবিধ আগাম সবজি। তবে স্বস্তির খবর নিয়ে আসা এসব নতুন সবজি কিনতে গিয়ে চড়া দামেই পকেট খালি হচ্ছে ক্রেতাদের। পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া ছাড়া বাজারে অন্য সবজি কেজিতে ৮০ টাকার নিচে মেলা দায় হয়ে পড়েছে; এমনকি স্থানভেদে পাকা টমেটোর দাম ২০০ টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়েছে। তবে সবজির বাজারে এমন উত্তাপ থাকলেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে ডিমের দামে, অন্যদিকে মাছ ও মাংসের দর গত সপ্তাহের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখি ও পটোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বেগুন ও কাঁকরোলের কেজি ১০০ টাকা। শীতের আগাম জাতের মুলা ও ঢ্যাঁড়সের দামও কেজিপ্রতি ৮০ টাকা। তবে আগাম শিম কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিতে ১৬০ টাকা। আর প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। বর্তমানে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ফুলকপি পিচে ৭০ টাকা বিক্রি হয়।

এদিকে সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে একমাত্র স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। এখন মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতি পিচ ৪০ থেকে ৬০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।

বাজার করতে আসা আকমল হোসেন নামে এক ক্রেতা আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, শীতের নতুন সবজি হলেও দাম অনেক চড়া। বাজারে টমেটোর কেজি ১৮০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা এবং শিম কিনতে হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে।

বাজারে আরো ঘুরে দেখা যায়, মুরগির বাজারেও দামে তেমন পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দামও আগের চেয়ে ১০ টাকা ডজনে কমেছে। প্রতি ডজন ১৪০ টাকা ও চারটি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে গরুর মাংসের দাম আগের মতোই আছে। ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা যায়।

ব্রয়লার মুরগি বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মুরগির দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। এক সপ্তাহে ১০ টাকা কমলে পরবর্তী সপ্তাহে আবার ১০ টাকা বাড়ে। ঘোরাফেরা করে ২০০ টাকার আশেপাশেই থাকে দাম। অন্যদিকে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে। আজ প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি করছি।

এদিকে মাছের বাজারেরও একই চিত্র। তেলাপিয়া ২৫০-২৬০, পাঙাশ ২২০- ২৩০, রুই-কাতল ৩৮০-৪২০ এবং চিংড়ি ১,০০০-১,৩০০ টাকা কেজি। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মিগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং সইল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে। তবে মাছের সাইজ ও জীবিত ও মৃত উপর দাম নির্ভর করে। প্রতিটি বাজারে ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিপ্রতি কম বেশি হতে পারে।

মাছ বিক্রেতা মোতালেব হোসেন বলেন, মাছের দাম আগের মতোই রয়েছে। আজ রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া তেলাপিয়া ২৫০ টাকা ও পাঙাশ ২৩০ টাকায় বিক্রি করছি। ছুটির দিন অর্থাৎ শুক্রবারে মাছের চাহিদা একটু বেশি থাকায় দামও সামান্য চড়া থাকে।

সূত্রঃ এদিন