ঢাকা , শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাটমোহর প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২৯ আগস্ট: চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ জাতীয় ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম গড়তে পাইলট প্রকল্পের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে মার্কিন দূতাবাসের অভিনন্দন তথ্যমন্ত্রী হলেন আন্দালিব রহমান পার্থ মন্ত্রীর মর্যাদায় নতুন দায়িত্বে জহির উদ্দিন স্বপন ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরতে সপ্তাহব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব শুরু অস্ট্রেলিয়ায় ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের রহস্য কী, জানালেন শরিফুল নির্বাচন সামনে, বেতগাড়ীতে গণসংযোগে সবুজ তুরস্কের পরিকল্পনা নস্যাৎ করতেই সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে হামলা ইসরায়েলের সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের ৩ জন একই পরিবারের

ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে অতিরিক্ত ৭ হাজার ৩০৭ জনের মৃত্যু

ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ, দাবানল ও খরার মধ্যে চলতি বছর ফ্রান্সে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ৭ হাজার ৩০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তাসংস্থার এএফপির বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে ফ্রান্স২৪।

ফ্রান্সে জুনের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫২ দিন তাপপ্রবাহ ছিল। দেশটিতে ১৯৪৭ সালে তাপমাত্রার রেকর্ড রাখা শুরুর পর এটাই সবচেয়ে বেশি সময় ধরে চলা তাপপ্রবাহের ঘটনা।

এ বছর ফ্রান্সে পরপর তিন দফা তীব্র তাপপ্রবাহ হয়েছে। জুনে ১৪ দিন, জুলাইয়ে ১৬ দিন এবং জুলাইয়ের শেষদিকে শুরু হওয়া আরেকটি তাপপ্রবাহ এখন পর্যন্ত ২২ দিন ধরে চলছে।

ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, ১৭ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ হাজার ৭৬৪ জন বেশি মারা যান। এরপর ২ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত আরও ১ হাজার ২৪৩ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। মে মাসের শেষ দিকের তীব্র গরমে আরও ৩০০ জনের মৃত্যু শনাক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩০৭।

অতিরিক্ত মৃত্যুর প্রায় ৭৫ শতাংশই ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে ঘটেছে। তবে ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সী সব বয়সের মানুষের মধ্যেই এর প্রভাব দেখা গেছে।

তবে এসব মৃত্যু সরাসরি তাপপ্রবাহের কারণে হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ হিসাবটি সব ধরনের মৃত্যুকে অন্তর্ভুক্ত করে করা হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য শরতে প্রকাশ করা হবে।

তাপপ্রবাহের দিনের সংখ্যার দিক থেকেও ২০২৬ সাল ফ্রান্সে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর আগে ২০২২ সালে মোট ৩৩ দিন তাপপ্রবাহ হয়েছিল। আর ২০০৩ সালের ভয়াবহ গরমে তাপপ্রবাহ ছিল ২২ দিন।

২০০৩ সালের তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে ওই বছরের আগস্টের তাপপ্রবাহকে এখনো তীব্রতা ও স্থায়িত্ব মিলিয়ে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এদিকে ২০২৬ সালের ২৪ ও ২৫ জুন ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডে গড় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। এটি দেশটির সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড, যা ২০০৩ সালের আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

ফ্রান্সের পাশাপাশি পশ্চিম ইউরোপও চলতি বছরের গ্রীষ্মের শুরুতে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ সময় পার করেছে। বারবার তাপপ্রবাহের কারণে বিভিন্ন দেশে খরা ও ভয়াবহ দাবানল দেখা দিয়েছে।

সূত্র: ফ্রান্স২৪

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

চাটমোহর প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২৯ আগস্ট: চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ

ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে অতিরিক্ত ৭ হাজার ৩০৭ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ১০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ, দাবানল ও খরার মধ্যে চলতি বছর ফ্রান্সে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ৭ হাজার ৩০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তাসংস্থার এএফপির বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে ফ্রান্স২৪।

ফ্রান্সে জুনের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫২ দিন তাপপ্রবাহ ছিল। দেশটিতে ১৯৪৭ সালে তাপমাত্রার রেকর্ড রাখা শুরুর পর এটাই সবচেয়ে বেশি সময় ধরে চলা তাপপ্রবাহের ঘটনা।

এ বছর ফ্রান্সে পরপর তিন দফা তীব্র তাপপ্রবাহ হয়েছে। জুনে ১৪ দিন, জুলাইয়ে ১৬ দিন এবং জুলাইয়ের শেষদিকে শুরু হওয়া আরেকটি তাপপ্রবাহ এখন পর্যন্ত ২২ দিন ধরে চলছে।

ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, ১৭ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ হাজার ৭৬৪ জন বেশি মারা যান। এরপর ২ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত আরও ১ হাজার ২৪৩ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। মে মাসের শেষ দিকের তীব্র গরমে আরও ৩০০ জনের মৃত্যু শনাক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩০৭।

অতিরিক্ত মৃত্যুর প্রায় ৭৫ শতাংশই ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে ঘটেছে। তবে ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সী সব বয়সের মানুষের মধ্যেই এর প্রভাব দেখা গেছে।

তবে এসব মৃত্যু সরাসরি তাপপ্রবাহের কারণে হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ হিসাবটি সব ধরনের মৃত্যুকে অন্তর্ভুক্ত করে করা হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য শরতে প্রকাশ করা হবে।

তাপপ্রবাহের দিনের সংখ্যার দিক থেকেও ২০২৬ সাল ফ্রান্সে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর আগে ২০২২ সালে মোট ৩৩ দিন তাপপ্রবাহ হয়েছিল। আর ২০০৩ সালের ভয়াবহ গরমে তাপপ্রবাহ ছিল ২২ দিন।

২০০৩ সালের তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে ওই বছরের আগস্টের তাপপ্রবাহকে এখনো তীব্রতা ও স্থায়িত্ব মিলিয়ে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এদিকে ২০২৬ সালের ২৪ ও ২৫ জুন ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডে গড় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। এটি দেশটির সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড, যা ২০০৩ সালের আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

ফ্রান্সের পাশাপাশি পশ্চিম ইউরোপও চলতি বছরের গ্রীষ্মের শুরুতে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ সময় পার করেছে। বারবার তাপপ্রবাহের কারণে বিভিন্ন দেশে খরা ও ভয়াবহ দাবানল দেখা দিয়েছে।

সূত্র: ফ্রান্স২৪