ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সাইবার সুরক্ষা আইনকে কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক হতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘সোলজার’-এর জন্য ওজন বাড়াচ্ছেন ঐশী ১৭ হাজার ৩৩২ ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর টাকা ফেরত দেওয়া শুরু শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের ‘শুভেচ্ছা জানানোয়’ ছাত্রশক্তি নেতা বহিষ্কার, পুলিশে সোপর্দ অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ এবার টাইব্রেকারে বিশ্বকাপ জিতল স্পেন বাংলাদেশকে ১০ গোলের লজ্জায় ডুবালো ভারত ৭ অক্টোবরের আগে নেতানিয়াহুকে তিনবার সতর্ক করেছিল মিসর ভাঙনের মুখে বেড়িবাঁধ, গ্রাম বাঁচাতে লড়াই শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসবেন, তবে সেটা ২০৪০ সালে: নজরুল ইসলাম আজাদ

ভাঙনের মুখে বেড়িবাঁধ, গ্রাম বাঁচাতে লড়াই




সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে প্রতাপনগর ইউনিয়নের শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধে ভাঙনের সূত্রপাত হয়।

এলাকার বাসিন্দাদের কাছে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৭টার দিকে ভাঙন বড় আকার ধারণ করে। এতে প্রায় ৫০ মিটার বেড়িবাঁধ ধসে নদী-খালের দিকে চলে যায়। ভাঙনস্থলটি কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে। বেড়িবাঁধের পাশাপাশি ওয়াবদা সড়কের একটি অংশও ধসে গেছে। এতে ওই পথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

বেড়িবাঁধে ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সকাল থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা ভাঙনস্থলে ছুটে আসেন। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভাঙন ঠেকানোর কাজে নেমে পড়েন। বালি ও মাটির বস্তা ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ রক্ষার প্রচেষ্টা চালান তারা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে প্রতাপনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ১০-১২টি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। এতে বাড়ি, জমি, মৎস্যঘের ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে সংস্কার করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, ‘সারা বছর আমাদের নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচতে হয়। মনের মধ্যে সব সময় ভয় কাজ করে, কখন ঘরবাড়ি সব প্লাবিত হয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলার কারণে আমরা একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারি না। এলাকায় সবে ফসল হচ্ছে। যদি প্লাবিত হয়ে যায়, তাহলে সব শেষ হয়ে যাবে। হাজার হাজার মৎস্যঘের পানিতে ডুবে যাবে, মাছ চলে যাবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘সকাল থেকে স্থানীয় জনগণকে নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমরা ভাঙন মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছি। দ্রুত ভরাট করে ভাঙনস্থল মেরামত করা না গেলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘ভাঙনের পরই সাধারণত পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ শুরু করে। আগে থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এ কারণে আমাদের সব সময় ভোগান্তি পোহাতে হয়।’

নূরে আলম আরও বলেন, ‘যে জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, তার সামনেই খাল। বেড়িবাঁধটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে প্রতাপনগর ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী আনুলিয়া ইউনিয়নও প্লাবিত হয়ে যেতে পারে। আমরা দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পদক্ষেপ চাই।’

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করার জন্য জানিয়েছি। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তারা দ্রুত কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছে।’

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য রওনা হয়েছি। আনুমানিক ৫০ মিটারের মতো বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’

এদিকে ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ভাঙনের মুখে বেড়িবাঁধ, গ্রাম বাঁচাতে লড়াই

আপডেট সময় : ৮ ঘন্টা আগে

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে প্রতাপনগর ইউনিয়নের শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধে ভাঙনের সূত্রপাত হয়।

এলাকার বাসিন্দাদের কাছে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৭টার দিকে ভাঙন বড় আকার ধারণ করে। এতে প্রায় ৫০ মিটার বেড়িবাঁধ ধসে নদী-খালের দিকে চলে যায়। ভাঙনস্থলটি কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে। বেড়িবাঁধের পাশাপাশি ওয়াবদা সড়কের একটি অংশও ধসে গেছে। এতে ওই পথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

বেড়িবাঁধে ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সকাল থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা ভাঙনস্থলে ছুটে আসেন। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভাঙন ঠেকানোর কাজে নেমে পড়েন। বালি ও মাটির বস্তা ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ রক্ষার প্রচেষ্টা চালান তারা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে প্রতাপনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ১০-১২টি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। এতে বাড়ি, জমি, মৎস্যঘের ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে সংস্কার করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, ‘সারা বছর আমাদের নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচতে হয়। মনের মধ্যে সব সময় ভয় কাজ করে, কখন ঘরবাড়ি সব প্লাবিত হয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলার কারণে আমরা একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারি না। এলাকায় সবে ফসল হচ্ছে। যদি প্লাবিত হয়ে যায়, তাহলে সব শেষ হয়ে যাবে। হাজার হাজার মৎস্যঘের পানিতে ডুবে যাবে, মাছ চলে যাবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘সকাল থেকে স্থানীয় জনগণকে নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমরা ভাঙন মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছি। দ্রুত ভরাট করে ভাঙনস্থল মেরামত করা না গেলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘ভাঙনের পরই সাধারণত পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ শুরু করে। আগে থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এ কারণে আমাদের সব সময় ভোগান্তি পোহাতে হয়।’

নূরে আলম আরও বলেন, ‘যে জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, তার সামনেই খাল। বেড়িবাঁধটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে প্রতাপনগর ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী আনুলিয়া ইউনিয়নও প্লাবিত হয়ে যেতে পারে। আমরা দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পদক্ষেপ চাই।’

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করার জন্য জানিয়েছি। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তারা দ্রুত কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছে।’

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য রওনা হয়েছি। আনুমানিক ৫০ মিটারের মতো বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’

এদিকে ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।