ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘আমার বউ আমার টেনশন না, আপনাদের টেনশন’, সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্দ ওমর সানী নারীর শরীর নিয়ে সমাজের প্রত্যাশা কখনো শেষ হয় না: রাধিকা মদন কোমল পানীয়ের ওপর ‘চিনি কর’ আরোপ জার্মানির নতুন কুঁড়িতে এবার ১৬ লাখ খেলোয়াড়ের নিবন্ধন ব্যালন ডি’অর নিয়ে এমবাপ্পের ‘আমি, আমি’ স্বভাবে ফরাসি কিংবদন্তির ক্ষোভ অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযানের কোনো পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে উত্তপ্ত নারায়ণগঞ্জ, আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩ হিন্দু সম্প্রদায়ের সমস্যা সমাধানে সরকার-বিরোধীদল সম্মিলিতভাবে কাজ করবে: জামায়াত আমির নেপালে ভয়াবহ বন্যা: পুনর্গঠনে ঢাকার সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ‘শত শিশুর স্বপ্নের কারিগর’ দুখু মিয়ার সাক্ষাৎ

ভাঙ্গুড়ায় দুর্গাপূজার মেলা ঘিরে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা




শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। বছরের অধিকাংশ সময় কাজের তেমন চাপ না থাকলেও দুর্গাপূজার মেলা সামনে রেখে মাটির খেলনা ও গৃহস্থালি সামগ্রী তৈরিতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন তাঁরা। মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে তৈরি হচ্ছে পুতুল, হাতি, ঘোড়া, পাখি, হাঁড়ি-পাতিল, ফুলদানি, প্রদীপসহ নানা ধরনের মাটির সামগ্রী।

বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে আনন্দমুখর করে তুলতে ভাঙ্গুড়ায় যুগ যুগ ধরে বসে আসছে ঐতিহ্যবাহী পূজার মেলা। বিজয়া দশমীর দিন উপজেলার বড়াল ও গুমানী নদীতে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে মেলা প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল নামে। হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মেলায় মাটির তৈরি আকর্ষণীয় খেলনা ও গৃহস্থালি সামগ্রীর চাহিদা থাকে তুলনামূলক বেশি।

সরেজমিনে ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের কালীবাড়ি পালপাড়া ঘুরে দেখা যায়, পূজার মেলাকে সামনে রেখে মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ মাটি প্রস্তুত করছেন, কেউ ছাঁচে ফেলে তৈরি করছেন বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী। আবার কেউ তৈরি করা খেলনা শুকিয়ে তাতে রং ও তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন নান্দনিক সৌন্দর্য। শিশুদের জন্য খেলনা তৈরির পাশাপাশি মসলার পাত্র, হাঁড়ি, পিঠা তৈরির ছাঁচ ও দেয়ালে ঝোলানোর শোপিসসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করছেন নারী কারিগরেরাও।

মৃৎশিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে মাটির পুতুল, হাতি, ঘোড়া, পাখি, হাঁস-মুরগি, মাটির ব্যাংক, চায়ের কাপ, ফুল, ফুলদানি, প্রদীপ, কলস, হাঁড়ি-পাতিলসহ নানা ধরনের তৈজসপত্র। এ ছাড়া হরিণ, গরু, খরগোশ, উটপাখি, বক ও টিয়াসহ বিভিন্ন প্রাণীর আদলে তৈরি খেলনাও মেলায় বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন তাঁরা। এসব পণ্যের বাহারি নকশা ও মাটির স্বাভাবিক গন্ধ উৎসবের আমেজে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা।

মৃৎশিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সারা বছর মাটির তৈরি সামগ্রীর চাহিদা ও বিক্রি সীমিত থাকলেও দুর্গাপূজার মেলাকে ঘিরে তাঁদের কর্মব্যস্ততা এবং আয়ের সুযোগ বেড়ে যায়। কলস, হাঁড়ি, মটকা, বাসন, ডালা ও পুতুলের মতো ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন তাঁরা। তবে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল ও সিরামিকের তৈরি পণ্যের ব্যাপক প্রচলনে মাটির তৈরি খেলনা ও তৈজসপত্রের বাজার সংকুচিত হয়েছে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে বংশপরম্পরায় চলে আসা এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।

ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের কালীবাড়ি পালপাড়ার মৃৎশিল্পী শ্রী সাধন চন্দ্র পাল বলেন, “একসময় মৃৎশিল্পীদের বেশ কদর ছিল। সময়ের পরিবর্তনে এখন সেই কদর অনেক কমে গেছে। এ পেশায় আগের মতো সমৃদ্ধির আশা নেই। তবু পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শেখা কাজের প্রতি ভালোবাসা ও শিকড়ের টানে এখনো এ পেশা আঁকড়ে ধরে আছি। প্রতিবারের মতো এবারও পূজার মেলায় বিক্রির জন্য হরিণ, হাতি, গরু, ঘোড়া, খরগোশ, উটপাখি, হাঁস, বক ও টিয়াসহ নানা ধরনের খেলনা তৈরি করছি। প্লাস্টিক ও স্টিলের পণ্যের ভিড়েও মানুষের ভালোবাসায় মাটির তৈরি এসব পণ্য টিকে আছে।”

কবি, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও আধুনিক সামগ্রীর প্রসারের ফলে মাটির তৈরি জিনিসের পরিবর্তে বাজার দখল করছে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল ও সিরামিকের পণ্য। আধুনিক তৈজসপত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে মাটির তৈরি অনেক ঐতিহ্যবাহী পণ্য হারিয়ে গেছে। ঐতিহ্য রক্ষায় মৃৎশিল্পের সুদিন ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য এ শিল্পের বিকাশে পৃষ্ঠপোষকতা ও যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আমার বউ আমার টেনশন না, আপনাদের টেনশন’, সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্দ ওমর সানী

ভাঙ্গুড়ায় দুর্গাপূজার মেলা ঘিরে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

আপডেট সময় : ০১:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। বছরের অধিকাংশ সময় কাজের তেমন চাপ না থাকলেও দুর্গাপূজার মেলা সামনে রেখে মাটির খেলনা ও গৃহস্থালি সামগ্রী তৈরিতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন তাঁরা। মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে তৈরি হচ্ছে পুতুল, হাতি, ঘোড়া, পাখি, হাঁড়ি-পাতিল, ফুলদানি, প্রদীপসহ নানা ধরনের মাটির সামগ্রী।

বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে আনন্দমুখর করে তুলতে ভাঙ্গুড়ায় যুগ যুগ ধরে বসে আসছে ঐতিহ্যবাহী পূজার মেলা। বিজয়া দশমীর দিন উপজেলার বড়াল ও গুমানী নদীতে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে মেলা প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল নামে। হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মেলায় মাটির তৈরি আকর্ষণীয় খেলনা ও গৃহস্থালি সামগ্রীর চাহিদা থাকে তুলনামূলক বেশি।

সরেজমিনে ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের কালীবাড়ি পালপাড়া ঘুরে দেখা যায়, পূজার মেলাকে সামনে রেখে মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ মাটি প্রস্তুত করছেন, কেউ ছাঁচে ফেলে তৈরি করছেন বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী। আবার কেউ তৈরি করা খেলনা শুকিয়ে তাতে রং ও তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন নান্দনিক সৌন্দর্য। শিশুদের জন্য খেলনা তৈরির পাশাপাশি মসলার পাত্র, হাঁড়ি, পিঠা তৈরির ছাঁচ ও দেয়ালে ঝোলানোর শোপিসসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করছেন নারী কারিগরেরাও।

মৃৎশিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে মাটির পুতুল, হাতি, ঘোড়া, পাখি, হাঁস-মুরগি, মাটির ব্যাংক, চায়ের কাপ, ফুল, ফুলদানি, প্রদীপ, কলস, হাঁড়ি-পাতিলসহ নানা ধরনের তৈজসপত্র। এ ছাড়া হরিণ, গরু, খরগোশ, উটপাখি, বক ও টিয়াসহ বিভিন্ন প্রাণীর আদলে তৈরি খেলনাও মেলায় বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন তাঁরা। এসব পণ্যের বাহারি নকশা ও মাটির স্বাভাবিক গন্ধ উৎসবের আমেজে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা।

মৃৎশিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সারা বছর মাটির তৈরি সামগ্রীর চাহিদা ও বিক্রি সীমিত থাকলেও দুর্গাপূজার মেলাকে ঘিরে তাঁদের কর্মব্যস্ততা এবং আয়ের সুযোগ বেড়ে যায়। কলস, হাঁড়ি, মটকা, বাসন, ডালা ও পুতুলের মতো ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন তাঁরা। তবে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল ও সিরামিকের তৈরি পণ্যের ব্যাপক প্রচলনে মাটির তৈরি খেলনা ও তৈজসপত্রের বাজার সংকুচিত হয়েছে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে বংশপরম্পরায় চলে আসা এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।

ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের কালীবাড়ি পালপাড়ার মৃৎশিল্পী শ্রী সাধন চন্দ্র পাল বলেন, “একসময় মৃৎশিল্পীদের বেশ কদর ছিল। সময়ের পরিবর্তনে এখন সেই কদর অনেক কমে গেছে। এ পেশায় আগের মতো সমৃদ্ধির আশা নেই। তবু পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শেখা কাজের প্রতি ভালোবাসা ও শিকড়ের টানে এখনো এ পেশা আঁকড়ে ধরে আছি। প্রতিবারের মতো এবারও পূজার মেলায় বিক্রির জন্য হরিণ, হাতি, গরু, ঘোড়া, খরগোশ, উটপাখি, হাঁস, বক ও টিয়াসহ নানা ধরনের খেলনা তৈরি করছি। প্লাস্টিক ও স্টিলের পণ্যের ভিড়েও মানুষের ভালোবাসায় মাটির তৈরি এসব পণ্য টিকে আছে।”

কবি, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও আধুনিক সামগ্রীর প্রসারের ফলে মাটির তৈরি জিনিসের পরিবর্তে বাজার দখল করছে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল ও সিরামিকের পণ্য। আধুনিক তৈজসপত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে মাটির তৈরি অনেক ঐতিহ্যবাহী পণ্য হারিয়ে গেছে। ঐতিহ্য রক্ষায় মৃৎশিল্পের সুদিন ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য এ শিল্পের বিকাশে পৃষ্ঠপোষকতা ও যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।