ঢাকা , বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফিলিং স্টেশনের আগুনে পুড়ল বসতঘর, সারিয়াকান্দিতে ক্ষতি ৩০ লাখ টাকা! শিবগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত: সচেতনতার বার্তা পরিবার থেকেই শুরুর আহ্বান রাঙ্গাবালীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে উঠান বৈঠক ও র‍্যালি: বিকল্প কর্মসংস্থানের ওপর জোর সাতক্ষীরা সীমান্তে বিপুল মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ সমু চৌধুরীকে পিটিয়ে জখম বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশের জয় কেড়ে নিয়ে বীরত্ব দেখাল আফগানিস্তান হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল পাকিস্তান ড. ইউনূসকে হেনস্তা করে বাংলাদেশকে অপমান করা হয়েছে: তাহের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী

মেয়েকে দেড় লাখ টাকা দিয়ে সমঝোতা, ২৭ ঘণ্টা পর বাবার দাফন




বাবার জীবদ্দশায় ছেলের নামে জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে জানাজা ও দাফনে আপত্তি জানিয়েছিলেন মেয়ে। এ নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে পারিবারিক বিরোধ ও সমঝোতার চেষ্টা। শেষপর্যন্ত মেয়েকে দেড় লাখ টাকা দিয়ে বিরোধের মীমাংসা করা হলে মৃত্যুর প্রায় ২৭ ঘণ্টা পর বাবার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত ব্যক্তির নাম নাজির উদ্দিনবেপারি (৭০)। তিনি রোববার দুপুর ২টার দিকে মারা যান। সোমবার সকাল ১০টায় তার জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হলেও জমি নিয়ে বিরোধের কারণে তা আটকে যায়। পরে বিকেল ৫টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজির উদ্দিন বছরখানেক আগে তার ছেলে ইদ্রিস আলীর (৪০) নামে প্রায় চার বিঘা জমি লিখে দেন। এতে মেয়ে হালিমা বেগম (৫০) সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাবার মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হলে জমির ভাগ নিয়ে বিরোধটি সামনে আসে। একপর্যায়ে তিনি জানাজা ও দাফনে আপত্তি জানান।

পরে পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয় ব্যক্তিরা বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। তাদের আলোচনার পর হালিমা বেগমকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সমঝোতা করা হয়। এরপর সোমবার বিকেল ৫টার দিকে নাজির উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন হয়।

হালিমা বেগম বলেন, আমি আমার ন্যায্য অধিকার চেয়ে আপত্তি জানিয়েছিলাম। পরে বিষয়টি সমাধান হয়েছে।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি সমঝোতার জন্য উভয় পক্ষ ও গ্রামবাসীকে নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিরোধের সমাধানের পর নাজির উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইস্তেকার হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছিল। পারিবারিক বিরোধটি সমাধানে স্থানীয়রা উদ্যোগ নিয়েছেন।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিং স্টেশনের আগুনে পুড়ল বসতঘর, সারিয়াকান্দিতে ক্ষতি ৩০ লাখ টাকা!

মেয়েকে দেড় লাখ টাকা দিয়ে সমঝোতা, ২৭ ঘণ্টা পর বাবার দাফন

আপডেট সময় : ০৮:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বাবার জীবদ্দশায় ছেলের নামে জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে জানাজা ও দাফনে আপত্তি জানিয়েছিলেন মেয়ে। এ নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে পারিবারিক বিরোধ ও সমঝোতার চেষ্টা। শেষপর্যন্ত মেয়েকে দেড় লাখ টাকা দিয়ে বিরোধের মীমাংসা করা হলে মৃত্যুর প্রায় ২৭ ঘণ্টা পর বাবার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত ব্যক্তির নাম নাজির উদ্দিনবেপারি (৭০)। তিনি রোববার দুপুর ২টার দিকে মারা যান। সোমবার সকাল ১০টায় তার জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হলেও জমি নিয়ে বিরোধের কারণে তা আটকে যায়। পরে বিকেল ৫টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজির উদ্দিন বছরখানেক আগে তার ছেলে ইদ্রিস আলীর (৪০) নামে প্রায় চার বিঘা জমি লিখে দেন। এতে মেয়ে হালিমা বেগম (৫০) সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাবার মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হলে জমির ভাগ নিয়ে বিরোধটি সামনে আসে। একপর্যায়ে তিনি জানাজা ও দাফনে আপত্তি জানান।

পরে পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয় ব্যক্তিরা বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। তাদের আলোচনার পর হালিমা বেগমকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সমঝোতা করা হয়। এরপর সোমবার বিকেল ৫টার দিকে নাজির উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন হয়।

হালিমা বেগম বলেন, আমি আমার ন্যায্য অধিকার চেয়ে আপত্তি জানিয়েছিলাম। পরে বিষয়টি সমাধান হয়েছে।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি সমঝোতার জন্য উভয় পক্ষ ও গ্রামবাসীকে নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিরোধের সমাধানের পর নাজির উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইস্তেকার হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছিল। পারিবারিক বিরোধটি সমাধানে স্থানীয়রা উদ্যোগ নিয়েছেন।