ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে তালাবদ্ধ বাসায় মিলল একই পরিবারের চার লাশ

রংপুর নগরীতে একটি তালাবদ্ধ বাসা থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলে।

‎শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নগরীর পশ্চিম জুম্মাপাড়া ও মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

‎নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে বাসাটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। পরিবারের সদস্যদের কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে বাসার ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

‎খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে একটি কক্ষ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

‎পুলিশ জানায়, নিহত গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল গত বছরের ডিসেম্বরে রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন। অবসরের পর তিনি রংপুর সমবায় মার্কেটে একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিতেন।

‎চারজনের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি হত্যাকাণ্ড, নাকি পারিবারিক কোনো ঘটনার পর তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‎মৃত্যুর কারণ ও সময় নির্ধারণে পুলিশ ও সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

‎রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত দল কাজ করছে। মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে তালাবদ্ধ বাসায় মিলল একই পরিবারের চার লাশ

আপডেট সময় : ০১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

রংপুর নগরীতে একটি তালাবদ্ধ বাসা থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলে।

‎শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নগরীর পশ্চিম জুম্মাপাড়া ও মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

‎নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে বাসাটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। পরিবারের সদস্যদের কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে বাসার ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

‎খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে একটি কক্ষ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

‎পুলিশ জানায়, নিহত গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল গত বছরের ডিসেম্বরে রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন। অবসরের পর তিনি রংপুর সমবায় মার্কেটে একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিতেন।

‎চারজনের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি হত্যাকাণ্ড, নাকি পারিবারিক কোনো ঘটনার পর তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‎মৃত্যুর কারণ ও সময় নির্ধারণে পুলিশ ও সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

‎রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত দল কাজ করছে। মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।