সংবাদ শিরোনাম ::
বর্তমান স্ত্রীর দাবি ৩০ বছরে তিন বউ ছাড়া কিছুই দেয়নি কাঞ্চন ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম দাদার স্মরণে প্রথম ম্যারাথনে অংশগ্রহণ ফিনিশ লাইনের ২ মাইল আগে থেমে গেল র‍্যাচেলের জীবন বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও সংঘাত বাড়ছে, সতর্ক করলেন রাজা চার্লস পাহাড়সম ব্যর্থতা ঢাকতে বিরোধীদলের ওপর দায় চাপাচ্ছে সরকার: জামায়াত আমির ওয়াই আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর শিবগঞ্জে এসআরবির অভিযানে কফ রিলিফ, ফায়ারডিল ও বিদেশি মদ উদ্ধার শাজাহানপুরে করতোয়া নদীর ওপর দুবলাগাড়ী সেতু দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আশার আলো চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহনের সময় ৮০ বস্তা সার জব্দ, ডিলারসহ দুজনের কারাদণ্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ককটেল ও রামদাসহ গ্রেপ্তার ২

রাকসুর ভিপি ও আম্মারের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিক্ষোভ

চলনবিলের সময় ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ৯৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি




রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) মোস্তাক-আম্মারের প্যানেলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে শাখা ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়।

পরে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবন-১ এর সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন নেতাকর্মীরা। মিছিলে রাকসুর নেতাদের বিরুদ্ধে ‘ক্যাম্পাসের নতুন চোর, রাকসু তুই টাকা চোর’, ‘হৈহৈ রৈরৈ, আমার টাকা গেলো কই’, ‘ভিপির বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘জিএসের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘আম্মারের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘আমার টাকা গেলো কই, রাকসু তুই জবাব দে’ এবং ‘গলি গলি মে চোর হ্যায়, রাকসু তু চোর হ্যায়’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে একসময় একজন মেয়র ছিলেন। তিনি ৪০ জন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে আলিবাবার চল্লিশ চোরের মতো লুটপাট করেছিলেন। আমরা জানতে চাই, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসুর নেতাদের এক বছরের মধ্যে এত টাকা কীভাবে দেওয়া হলো? আমরা তাকে বলতে চাই, আপনি যদি আলিবাবা হতে চান, তাহলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চল্লিশ চোর কোথায়? রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০ চোর নেই, এখানে ১০ চোর রয়েছে। তাদের নেতা এই জিএস সন্ত্রাসী সালাহউদ্দীন আম্মার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আলিবাবার চল্লিশ চোরকে সরাতে যেমন সময় লাগেনি, তেমনি এই ১০ চোরকেও সরাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সময় লাগবে না।’

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘আমরা শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করি। ফুটবল বিশ্বকাপেও আমরা শিক্ষার্থীদের খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছিলাম। যে বড় পর্দা আমরা ব্যবহার করেছিলাম, রাকসুর তথাকথিত ফকিন্নির বাচ্চারা একই পর্দা ব্যবহার করেছে। সেখানে আমাদের মাত্র ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। অথচ তারা ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাকসুর বিভিন্ন সম্পাদকের কাছে এসব টাকার হিসাব জানতে চাওয়া হলে তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছেন। রাবি প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, অনতিবিলম্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের টাকা যারা আত্মসাৎ করেছে, তাদের কাছ থেকে সেই টাকা উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের ফেরত দিতে হবে। আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আগামী রোববার উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করব।’

বিক্ষোভ মিছিলে শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে রাকসুর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘রাকসুর এ বছরের মোট বরাদ্দ প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এটি মোট বরাদ্দের পরিমাণ, আমরা কত টাকা উত্তোলন করেছি তা নয়। যিনি এই বিষয়ে সংবাদ করেছেন, তাকে রাকসু ট্রেজারারের দপ্তরে গিয়ে এখন পর্যন্ত কত টাকা উত্তোলন হয়েছে তা যাচাই করার অনুরোধ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জিএস হিসেবে আমি রাকসুর অফিস প্রধান। জানুয়ারি মাসে প্রথম অধিবেশনে বিভিন্ন সম্পাদক যে কর্মসূচির প্রস্তাব দিয়েছেন, সেগুলো রেজুলেশনে সভাপতি কতৃক অনুমোদিত হয়েছে। এসব কর্মসূচির বাজেট জিএস হিসেবে আমার নামে আসে। এই ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা হচ্ছে সকল সম্পাদকদের কাজের হিসাব। এর অর্থ এই নয় যে, এই টাকা আমি ব্যক্তিগতভাবে উত্তোলন করেছি বা এটি আমার ব্যক্তিগত অর্থ। এই অর্থ বিভিন্ন সম্পাদকের কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাকসুর ভিপি ও আম্মারের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ১১:১৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) মোস্তাক-আম্মারের প্যানেলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে শাখা ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়।

পরে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবন-১ এর সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন নেতাকর্মীরা। মিছিলে রাকসুর নেতাদের বিরুদ্ধে ‘ক্যাম্পাসের নতুন চোর, রাকসু তুই টাকা চোর’, ‘হৈহৈ রৈরৈ, আমার টাকা গেলো কই’, ‘ভিপির বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘জিএসের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘আম্মারের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘আমার টাকা গেলো কই, রাকসু তুই জবাব দে’ এবং ‘গলি গলি মে চোর হ্যায়, রাকসু তু চোর হ্যায়’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে একসময় একজন মেয়র ছিলেন। তিনি ৪০ জন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে আলিবাবার চল্লিশ চোরের মতো লুটপাট করেছিলেন। আমরা জানতে চাই, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসুর নেতাদের এক বছরের মধ্যে এত টাকা কীভাবে দেওয়া হলো? আমরা তাকে বলতে চাই, আপনি যদি আলিবাবা হতে চান, তাহলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চল্লিশ চোর কোথায়? রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০ চোর নেই, এখানে ১০ চোর রয়েছে। তাদের নেতা এই জিএস সন্ত্রাসী সালাহউদ্দীন আম্মার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আলিবাবার চল্লিশ চোরকে সরাতে যেমন সময় লাগেনি, তেমনি এই ১০ চোরকেও সরাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সময় লাগবে না।’

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘আমরা শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করি। ফুটবল বিশ্বকাপেও আমরা শিক্ষার্থীদের খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছিলাম। যে বড় পর্দা আমরা ব্যবহার করেছিলাম, রাকসুর তথাকথিত ফকিন্নির বাচ্চারা একই পর্দা ব্যবহার করেছে। সেখানে আমাদের মাত্র ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। অথচ তারা ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাকসুর বিভিন্ন সম্পাদকের কাছে এসব টাকার হিসাব জানতে চাওয়া হলে তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছেন। রাবি প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, অনতিবিলম্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের টাকা যারা আত্মসাৎ করেছে, তাদের কাছ থেকে সেই টাকা উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের ফেরত দিতে হবে। আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আগামী রোববার উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করব।’

বিক্ষোভ মিছিলে শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে রাকসুর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘রাকসুর এ বছরের মোট বরাদ্দ প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এটি মোট বরাদ্দের পরিমাণ, আমরা কত টাকা উত্তোলন করেছি তা নয়। যিনি এই বিষয়ে সংবাদ করেছেন, তাকে রাকসু ট্রেজারারের দপ্তরে গিয়ে এখন পর্যন্ত কত টাকা উত্তোলন হয়েছে তা যাচাই করার অনুরোধ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জিএস হিসেবে আমি রাকসুর অফিস প্রধান। জানুয়ারি মাসে প্রথম অধিবেশনে বিভিন্ন সম্পাদক যে কর্মসূচির প্রস্তাব দিয়েছেন, সেগুলো রেজুলেশনে সভাপতি কতৃক অনুমোদিত হয়েছে। এসব কর্মসূচির বাজেট জিএস হিসেবে আমার নামে আসে। এই ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা হচ্ছে সকল সম্পাদকদের কাজের হিসাব। এর অর্থ এই নয় যে, এই টাকা আমি ব্যক্তিগতভাবে উত্তোলন করেছি বা এটি আমার ব্যক্তিগত অর্থ। এই অর্থ বিভিন্ন সম্পাদকের কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।’