সংবাদ শিরোনাম ::
বর্তমান স্ত্রীর দাবি ৩০ বছরে তিন বউ ছাড়া কিছুই দেয়নি কাঞ্চন ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম দাদার স্মরণে প্রথম ম্যারাথনে অংশগ্রহণ ফিনিশ লাইনের ২ মাইল আগে থেমে গেল র‍্যাচেলের জীবন বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও সংঘাত বাড়ছে, সতর্ক করলেন রাজা চার্লস পাহাড়সম ব্যর্থতা ঢাকতে বিরোধীদলের ওপর দায় চাপাচ্ছে সরকার: জামায়াত আমির ওয়াই আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর শিবগঞ্জে এসআরবির অভিযানে কফ রিলিফ, ফায়ারডিল ও বিদেশি মদ উদ্ধার শাজাহানপুরে করতোয়া নদীর ওপর দুবলাগাড়ী সেতু দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আশার আলো চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহনের সময় ৮০ বস্তা সার জব্দ, ডিলারসহ দুজনের কারাদণ্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ককটেল ও রামদাসহ গ্রেপ্তার ২

রাণীশংকৈলে জামায়াতের উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:১০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ৯৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি




ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ৬ নম্বর কাশিপুর ইউনিয়নের মহারাজা পাঁচপীর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, কর্ম, আদর্শ, চরিত্র ও মানবতার প্রতি তাঁর মহান শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মাহফিলের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আব্দুল জব্বার। এরপর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ও বক্তব্য দেন মো. জসীমউদ্দীন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ফজলে রাব্বি।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা সেকেন্দার আলী, মাওলানা সাইদুর রহমান, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মাওলানা খলিলুর রহমান, মাওলানা জাহিরুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা, মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা
মাহফিলে বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শৈশব থেকে শুরু করে নবুয়তপ্রাপ্তি, মক্কা ও মদিনার জীবন, ইসলামের দাওয়াত, মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, মহানবী (সা.) ছিলেন মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে মানুষের জন্য শিক্ষা। নবুয়ত লাভের আগে থেকেই তিনি সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার জন্য মানুষের কাছে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেন। তাঁর সততা, আমানতদারি, নম্রতা, ধৈর্য ও উত্তম চরিত্রের কারণে মানুষ তাঁকে গভীরভাবে সম্মান করত।
বক্তারা মহানবী (সা.)-এর মক্কী জীবনের নানা দিক তুলে ধরে বলেন, কঠিন প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত হননি। মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতনের জবাবে তিনি ধৈর্য ও ক্ষমার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর দাওয়াত ছিল মানুষের কল্যাণ, এক আল্লাহর ইবাদত, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আহ্বান।
মদিনার জীবনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বক্তারা বলেন, মহানবী (সা.) শুধু ধর্মীয় নেতা ছিলেন না; তিনি একজন আদর্শ সমাজসংস্কারক ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেও মানুষের সামনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। এতিম, অসহায়, দরিদ্র, প্রতিবেশী ও দুর্বল মানুষের প্রতি সদাচরণ এবং তাদের অধিকার রক্ষার শিক্ষা দিয়েছেন।
উত্তম চরিত্র গঠনের আহ্বান
বক্তারা আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো উত্তম চরিত্র। সত্য কথা বলা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, আমানতের খেয়ানত না করা, অন্যের অধিকার নষ্ট না করা, প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ করা এবং বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এসব গুণ নিজের জীবনে ধারণ করতে হবে।
তাঁরা বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজে নানা ধরনের অস্থিরতা, বিভেদ ও নৈতিক অবক্ষয় দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী সম্পর্কে জানানো হলে তাদের মধ্যে সততা, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে উঠবে।
বক্তারা তরুণদের উদ্দেশে বলেন, শুধু সীরাতের আলোচনা শোনা যথেষ্ট নয়; মহানবী (সা.)-এর আদর্শকে ব্যক্তিজীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাঁর সুন্নাহ ও চরিত্র অনুসরণ করে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়, শান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে।
মাহফিলে মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ এবং তাঁর দেখানো ন্যায় ও মানবতার পথে চলার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
মাহফিলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। স্থানীয় নেতাকর্মী, মুসল্লি, আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মাহফিলে উপস্থিত হয়ে সীরাতুন্নবী (সা.)-এর আলোচনা শ্রবণ করেন।
শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাণীশংকৈলে জামায়াতের উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ১১:১০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ৬ নম্বর কাশিপুর ইউনিয়নের মহারাজা পাঁচপীর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, কর্ম, আদর্শ, চরিত্র ও মানবতার প্রতি তাঁর মহান শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মাহফিলের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আব্দুল জব্বার। এরপর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ও বক্তব্য দেন মো. জসীমউদ্দীন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ফজলে রাব্বি।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা সেকেন্দার আলী, মাওলানা সাইদুর রহমান, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মাওলানা খলিলুর রহমান, মাওলানা জাহিরুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা, মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা
মাহফিলে বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শৈশব থেকে শুরু করে নবুয়তপ্রাপ্তি, মক্কা ও মদিনার জীবন, ইসলামের দাওয়াত, মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, মহানবী (সা.) ছিলেন মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে মানুষের জন্য শিক্ষা। নবুয়ত লাভের আগে থেকেই তিনি সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার জন্য মানুষের কাছে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেন। তাঁর সততা, আমানতদারি, নম্রতা, ধৈর্য ও উত্তম চরিত্রের কারণে মানুষ তাঁকে গভীরভাবে সম্মান করত।
বক্তারা মহানবী (সা.)-এর মক্কী জীবনের নানা দিক তুলে ধরে বলেন, কঠিন প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত হননি। মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতনের জবাবে তিনি ধৈর্য ও ক্ষমার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর দাওয়াত ছিল মানুষের কল্যাণ, এক আল্লাহর ইবাদত, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আহ্বান।
মদিনার জীবনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বক্তারা বলেন, মহানবী (সা.) শুধু ধর্মীয় নেতা ছিলেন না; তিনি একজন আদর্শ সমাজসংস্কারক ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেও মানুষের সামনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। এতিম, অসহায়, দরিদ্র, প্রতিবেশী ও দুর্বল মানুষের প্রতি সদাচরণ এবং তাদের অধিকার রক্ষার শিক্ষা দিয়েছেন।
উত্তম চরিত্র গঠনের আহ্বান
বক্তারা আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো উত্তম চরিত্র। সত্য কথা বলা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, আমানতের খেয়ানত না করা, অন্যের অধিকার নষ্ট না করা, প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ করা এবং বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এসব গুণ নিজের জীবনে ধারণ করতে হবে।
তাঁরা বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজে নানা ধরনের অস্থিরতা, বিভেদ ও নৈতিক অবক্ষয় দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী সম্পর্কে জানানো হলে তাদের মধ্যে সততা, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে উঠবে।
বক্তারা তরুণদের উদ্দেশে বলেন, শুধু সীরাতের আলোচনা শোনা যথেষ্ট নয়; মহানবী (সা.)-এর আদর্শকে ব্যক্তিজীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাঁর সুন্নাহ ও চরিত্র অনুসরণ করে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়, শান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে।
মাহফিলে মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ এবং তাঁর দেখানো ন্যায় ও মানবতার পথে চলার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
মাহফিলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। স্থানীয় নেতাকর্মী, মুসল্লি, আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মাহফিলে উপস্থিত হয়ে সীরাতুন্নবী (সা.)-এর আলোচনা শ্রবণ করেন।
শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়