শাজাহানপুরে ঘরের ভেতর থেকে এক ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
- আপডেট সময় : ১০:০৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় রহস্যজনক এক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের ক্ষুদ্র ফুলকোট গ্রামে টুলু মিয়া (৫০) নামের এক ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি ঠান্ডা মাথার খুন—তা নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত টুলু মিয়ার স্ত্রী জীবিকার তাগিদে প্রবাসে অবস্থান করছেন। তাঁদের দুই মেয়ে জেমি ও জুথি আক্তার দুজনেই বিবাহিত। বাড়িতে টুলু মিয়া একাই বসবাস করতেন। তবে বেশ কিছুদিন ধরে তিনি তীব্র পেটের ব্যথায় ভুগছিলেন। অসুস্থ বাবার সেবাযত্ন করতে ছোট মেয়ে জুথি আক্তার কিছুদিন ধরে তাঁর সঙ্গেই ওই বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ঘরের ভেতর টুলু মিয়ার রক্তাক্ত গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান ছোট মেয়ে জুথি। তাঁর চিৎকার ও কান্নাকাটিতে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় খবরটি ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন ও পরিবারের বক্তব্য নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা সমীকরণ। ছোট মেয়ে জুথি আক্তারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র শারীরিক অসুস্থতা ও পেটের ব্যথার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তাঁর বাবা নিজেই ধারালো বটি দিয়ে গলায় আঘাত করে থাকতে পারেন।
তবে মেয়ের এই আত্মহত্যার তত্ত্ব সহজে মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। গ্রামবাসীর একটি পক্ষের মতে, পেটের ব্যথায় মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নিলেও গলায় ধারালো অস্ত্রের এমন আঘাত অস্বাভাবিক। এর পেছনে অন্য কোনো গভীর রহস্য বা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে। নিখুঁতভাবে এই মৃত্যুর পেছনের সত্যতা উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি রহস্যের আবরণে ঢাকা রয়েছে।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে শাজাহানপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ বিষয়ে শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে আসার পরই মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












