বগুড়ার শাজাহানপুরে এক দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের ওপর পৈশাচিক হামলার ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ঘাষিড়া এ.ইউ দাখিল মাদ্রাসার সহ-সুপার মাওলানা মহসিন আলীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে পা ভেঙে দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াকুব আলী সুজন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪ টার সময় উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের দওদাপাড়া গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সুজন গ্যাংয়ের সশস্ত্র সদস্যরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে মহসিন আলীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ভারী হাতুড়ি দিয়ে তাঁর পায়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকে, এতে তাঁর একটি পা মারাত্মকভাবে জখম হয়ে ভেঙে যায়। খবর পেয়ে শাজাহানপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় রক্তাক্ত অবস্থায় শিক্ষককে হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করে।
হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরানো ভুক্তভোগী সহ-সুপার মহসিন আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, চিহ্নিত সন্ত্রাসী সুজন ও তার গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পেছনে লেগে আছে। এটি তাদের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং এর আগেও বেশ কয়েকবার তাঁর ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। একের পর এক হামলার শিকার হয়েও তিনি বিচার পাননি বলেই বারবার এই পৈশাচিকতার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে একজন শিক্ষককে দিনের আলোতে এভাবে হাতুড়িপেটা করার ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র প্রতিবাদ ও জনক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসী ইয়াকুব আলী সুজনসহ এই চক্রের প্রতিটি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাজাহানপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের আটকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি 






















