বগুড়ার শাজাহানপুরে ঘাষিড়া এ.ইউ দাখিল মাদ্রাসার সহ-সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট (সহ-সুপার) মহসিন আলীকে অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের প্রতিবাদে চরম উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা।
রোববার বেলা ১১টার দিকে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়ক উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, একজন শিক্ষকের ওপর এভাবে প্রকাশ্যে হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অপরাধীরা সমাজে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রধান অভিযুক্ত আসামি ইয়াকুব আলী সুজনসহ হামলায় সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত সব অপরাধীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানান। একইসঙ্গে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে এসে হাজির হন শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিক ইকবাল। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের ন্যায়সংগত দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন। ওসি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “শিক্ষকের ওপর হামলার বিষয়টি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার মুখোমুখি করা হবে।”
ওসির কাছ থেকে আসামিদের গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ও ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়ার পর শান্ত হন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে তারা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যান। তবে শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে তারা ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি 























