নির্বাচিত হওয়ার পর গত ৩ মে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন এবং সংসদ অধিবেশনেও যোগ দিয়েছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য মাহবুবা হাকিম। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করা শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
হলফনামায় তার শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এলএলএম ও ব্যারিস্টার অ্যাট ল উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে তিনি বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি পাস করেছেন।
মাহবুবা হাকিমের দাবি, হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য উল্লেখের ক্ষেত্রে করণিক ভুল হয়েছে। তবে তিনি হলফনামার সঙ্গে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি পাসের সনদ জমা দিয়েছেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য পরিবর্তনের জন্য তিনি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে আবেদনও করেছেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তনের জন্য সিইসির কাছে দেওয়া আবেদনে মাহবুবা হাকিম উল্লেখ করেন, আমি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাহবুবা হাকিম (৩৪৮ মহিলা আসন-৪৮)। গত এপ্রিল মাসে যথাসময়ে নির্বাচন কমিশনে আমার দাখিলকৃত এবং গৃহীত মনোনয়নপত্রে একটি অনিচ্ছাকৃত করণিক ও মুদ্রণজনিত ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে।
আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, হলফনামার শিক্ষাগত যোগ্যতার কলামে করণিক ও মুদ্রণজনিত ত্রুটির কারণে ব্যারিস্টার অ্যাট ল তথ্য যুক্ত হয়েছে, যা মূলত পূর্ববর্তী একটি খসড়া ফর্মের তথ্য কপি-পেস্ট করার কারণে ঘটেছে। প্রকৃতপক্ষে, আমার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি, যার সনদ মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল।
তিনি আবেদনে আরও জানান, সাভার থানার অন্তর্গত পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ব্যক্তিগত তথ্য ফর্মেও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রির কথা উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার ‘ব্যারিস্টার অ্যাট ল’ ডিগ্রির অংশে কলম দিয়ে কাটা দাগ দেওয়া আছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মাহবুবা হাকিমের নির্বাচনী হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা ভুল তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, অফিশিয়ালি এখনো আমাদের নজরে আসেনি। অফিশিয়ালি জানলে পরে আইনগতভাবে যা হয়, তাই করব।
তিনি বলেন, স্পিকারের মাধ্যমে যদি আসে বা কেউ যদি বিষয়টি পয়েন্ট আউট করে, কেউ যদি অভিযোগ করে- সেই অভিযোগ নিষ্পত্তির একটি আইনগত পদ্ধতি রয়েছে। অভিযোগ করারও একটি সিস্টেম রয়েছে। ওই সিস্টেমের মধ্যেই আইন অনুযায়ী কাজ হবে।
এমপি মাহবুবা হাকিম হলফনামার সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোন সনদ জমা দিয়েছেন? জানতে চাইলে ইসির যুগ্ম সচিব (চলতি দায়িত্ব) ও সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা মো. মঈন উদ্দীন খান বলেন, এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্যারের কাছে একটি আবেদন জমা পড়েছে। সেটি এখনো আমার কাছে আসেনি। আসলে এ বিষয়ে কমিশনে নথি উপস্থাপন করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুবা হাকিম কালবেলাকে বলেন, মুদ্রণজনিত কারণে হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার জায়গায় ভুল হয়েছে। তবে আমি হলফনামায় বুটেক্স থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাসের সনদ জমা দিয়েছি। হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার জায়গায় কলম দিয়ে দাগ কাটাও আছে। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার উল্লেখ করে সংসদে বাজেট অধিবেশনে আমি আমার প্রথম বক্তব্যও দিয়েছি। তাহলে আমি কেন নিজেকে ব্যারিস্টার অ্যাট ল লিখব? তাহলে বুঝতে হবে যে, এখানে ত্রুটিজনিত একটা ভুল চলে আসছে।
মাহবুবা হাকিম আরও বলেন, আমাকে হেয় করার জন্য বা মানহানির জন্য এ রকম একটা প্ল্যান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার কালবেলাকে বলেন, হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে মাহবুবা হাকিম শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ না দিয়ে থাকলে তো মনোনয়নপত্র বাছাইয়েই বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা। আরপিওতেই আছে, ছোটখাটো ভুলের জন্য মনোনয়ন বাতিল করা হয় না। তবে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

চলনবিলের সময় ডেস্ক 

























