ঢাকা , রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মোকামতলায় উপজেলার চানপুর মাজার মসজিদের বর্ধিতকরণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সখিপুরে জ্বালানী সঙ্কটে জনজীবন অচল চড়ামূল্যেও মিলছে না গ্যাস শাজাহানপুরে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৭ দিনের কারাদণ্ড পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বগুড়ায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ পর্দার আলোছায়ায় চিরসবুজ রহস্যময়ী টাবু এবং ‘দৃশ্যম থ্রি’-এর নতুন ধাঁধা ২৬ জানুয়ারি ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন ‘মেসির বিদায়ী ম্যাচে ৫টা স্টেডিয়াম থাকলেও সবকটা ভরে যেত’ ‘হানিট্র্যাপে’ পড়ে তথ্য পাচার, ভারতীয় নৌসেনা গ্রেপ্তার বেসরকারিভাবে ডেঙ্গুর টিকা আনার রাস্তা খুলে দিন, সরকারকে শফিকুর কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, আখতারুজ্জামান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির

সখিপুরে জ্বালানী সঙ্কটে জনজীবন অচল চড়ামূল্যেও মিলছে না গ্যাস




টাঙ্গাইলের সখিপুরের মানুষের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে গ্যাসের মূল্য নিয়ে। ১৪৭০ টাকার গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ টাকায়। তারপরও সব সময় সব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাস চৌরাস্তা বাজারের সিন্ডিকেটের অন্যতম মূল হোতা তোতা মিয়া রাতের অন্ধকারে গ্যাসের সিলিন্ডার এনে গোপন স্থানে রেখে দিয়ে বাজার চড়া হলে বিক্রি করে বলে ক্রেতাদের অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাছ বিক্রেতা চলনবিলের সময়কে বলেন, তোতা মিয়া খালি সিলিন্ডার সারাদিন দোকানে রাখে এবং “গ্যাস সাপ্লাই নাই” বলে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দেয়। রাত দশটার পরে তার কাছে গ্যাস সিলিন্ডারের অভাব থাকে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গত ১ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটায় গোপন তথ্য পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড মুসুল্লিচালার জঙ্গলাবৃত স্থানে ডিলার জাহাঙ্গীরের গোডাউনে গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডারসহ একটি ট্রাক ঢুকতে দেখেন। গোডাউনের মালিকের মুঠোফোনে তাৎক্ষণিক বারবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলমের নিকট ফোন দিলে তিনি ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

সখিপুরে অন্য যে কোন বাজারে গেলেও এখন নতুন করে হিসাব কষতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কোথাও সরবরাহ কমে মাছের দাম চড়া, কোথাও আবার শীতের সবজি আসার পরেও দাম কমছে না। তবে সব মিলিয়ে সখিপুরের নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। বিক্রেতাদের দাবি, মাছের সরবরাহ কমার পাশাপাশি বেড়েছে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ, তার প্রভাব পড়ছে বাজারে। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলে দাম বাড়ার কারণে যানবাহনের মূল্যবৃদ্ধির নামে দাম বাড়ানো হচ্ছে নিত্যপণ্যের। জেলার সখিপুর উপজেলার প্রত্যেকটি বাজারে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের মাছের দাম। সবচেয়ে বেশি চড়া ইলিশ মূ্ল্য। আকৃতি ভেদে কেজি বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার দুই হাজার টাকায়। কখনো তিন/চার হাজারেও বিক্রি হচ্ছে বড় ইলিশ মাছ। ১০০ টাকার রুইয়ের পোনা ৩৫০ টাকা, আর পাবদা ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য মাছেরও দাম বেশি। রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে সখিপুরের গ্যাস চৌরাস্তা, জেলাখানা মোড়, কাঁচাবাজার, উত্তরা মোড় এবং শালগ্রামপুর বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সংস্থায় ফোন দিয়েও কোন সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে ডিম-মুরগির দামও বাড়তি। বাজারে কেজিতে বেড়েছে প্রায় সব মাছের দাম। আর প্রতি কেজি শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা। চিনিগুড়া চাল কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ২১৫ টাকায়, মশুর ডাল কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকা, চিনি কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা আর তেল লিটার প্রতি ১০ টাকা বেড়ে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা সবাই একসুরে বলছেন, বাজারে পণ্য সরবরাহ বেশি থাকলেও জ্বালানি খরচ বেড়েছে বলে সব জিনিসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে আশঙ্কাজনক হাবে। অপর দিকে ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে হতাশা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

মোঃ আবুল কাশেম

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

মোকামতলায় উপজেলার চানপুর মাজার মসজিদের বর্ধিতকরণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

সখিপুরে জ্বালানী সঙ্কটে জনজীবন অচল চড়ামূল্যেও মিলছে না গ্যাস

আপডেট সময় : এক ঘন্টা আগে

টাঙ্গাইলের সখিপুরের মানুষের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে গ্যাসের মূল্য নিয়ে। ১৪৭০ টাকার গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ টাকায়। তারপরও সব সময় সব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাস চৌরাস্তা বাজারের সিন্ডিকেটের অন্যতম মূল হোতা তোতা মিয়া রাতের অন্ধকারে গ্যাসের সিলিন্ডার এনে গোপন স্থানে রেখে দিয়ে বাজার চড়া হলে বিক্রি করে বলে ক্রেতাদের অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাছ বিক্রেতা চলনবিলের সময়কে বলেন, তোতা মিয়া খালি সিলিন্ডার সারাদিন দোকানে রাখে এবং “গ্যাস সাপ্লাই নাই” বলে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দেয়। রাত দশটার পরে তার কাছে গ্যাস সিলিন্ডারের অভাব থাকে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গত ১ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটায় গোপন তথ্য পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড মুসুল্লিচালার জঙ্গলাবৃত স্থানে ডিলার জাহাঙ্গীরের গোডাউনে গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডারসহ একটি ট্রাক ঢুকতে দেখেন। গোডাউনের মালিকের মুঠোফোনে তাৎক্ষণিক বারবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলমের নিকট ফোন দিলে তিনি ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

সখিপুরে অন্য যে কোন বাজারে গেলেও এখন নতুন করে হিসাব কষতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কোথাও সরবরাহ কমে মাছের দাম চড়া, কোথাও আবার শীতের সবজি আসার পরেও দাম কমছে না। তবে সব মিলিয়ে সখিপুরের নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। বিক্রেতাদের দাবি, মাছের সরবরাহ কমার পাশাপাশি বেড়েছে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ, তার প্রভাব পড়ছে বাজারে। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলে দাম বাড়ার কারণে যানবাহনের মূল্যবৃদ্ধির নামে দাম বাড়ানো হচ্ছে নিত্যপণ্যের। জেলার সখিপুর উপজেলার প্রত্যেকটি বাজারে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের মাছের দাম। সবচেয়ে বেশি চড়া ইলিশ মূ্ল্য। আকৃতি ভেদে কেজি বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার দুই হাজার টাকায়। কখনো তিন/চার হাজারেও বিক্রি হচ্ছে বড় ইলিশ মাছ। ১০০ টাকার রুইয়ের পোনা ৩৫০ টাকা, আর পাবদা ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য মাছেরও দাম বেশি। রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে সখিপুরের গ্যাস চৌরাস্তা, জেলাখানা মোড়, কাঁচাবাজার, উত্তরা মোড় এবং শালগ্রামপুর বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সংস্থায় ফোন দিয়েও কোন সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে ডিম-মুরগির দামও বাড়তি। বাজারে কেজিতে বেড়েছে প্রায় সব মাছের দাম। আর প্রতি কেজি শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা। চিনিগুড়া চাল কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ২১৫ টাকায়, মশুর ডাল কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকা, চিনি কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা আর তেল লিটার প্রতি ১০ টাকা বেড়ে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা সবাই একসুরে বলছেন, বাজারে পণ্য সরবরাহ বেশি থাকলেও জ্বালানি খরচ বেড়েছে বলে সব জিনিসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে আশঙ্কাজনক হাবে। অপর দিকে ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে হতাশা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

মোঃ আবুল কাশেম