আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে গণক্ষোভ বিস্ফোরিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের বিশ্বকবি ভবনে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা আয়োজিত ‘সিরাত কনফারেন্স ও কোয়েস্ট অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফয়জুল করীম বলেন, ‘সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অতিষ্ঠ হয়েই মানুষ শেখ হাসিনার গুলির মুখেও রাজপথে লড়াই করেছে। অনেক জীবন ও রক্তের পরে বিএনপি সরকার গঠন করেছে’। তবে সরকার গঠনের সাত মাস অতিবাহিত হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিনে বিএনপির লোকেরা মব করে একটা স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। গতকাল রাতেও বিএনপির লোকেরা একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিও ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে সরকারের বিরুদ্ধে গণক্ষোভের বিস্ফোরণ হতে পারে।’
সিরাত কনফারেন্সে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আদর্শিক জীবন গঠনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ফয়জুল করীম।
তিনি বলেন, ‘আজকের শিক্ষার্থী সমাজের আদর্শিক ও নৈতিক সংকটের একমাত্র সমাধান রাসুলে আরাবি (সা.)-এর সীরাতের মধ্যে নিহিত। শিক্ষার্থীদের জীবন গঠনে নবীজির আদর্শই একমাত্র পন্থা এবং একমাত্র উত্তম উদাহরণ। রাসুল (সা.)-এর জীবন চরিত্রকে অনুসরণ করেই একজন শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে প্রকৃত সফলতা অর্জন করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিরাত শুধু একটি ইতিহাস নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা।’
অনুষ্ঠানে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. সাদরুদ্দীন আহমেদ। প্রধান বক্তা ছিলেন মুনতাছির আহমাদ এবং মুখ্য আলোচক ছিলেন মুফতি শামছুদ্দোহা আশরাফী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ ইউনুছ আহমেদ। এ সময় শাখাটির দায়িত্বশীল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে সিরাত কোয়েস্ট প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার ও অ্যাওয়ার্ড বিতরণ করা হয়।

চলনবিলের সময় ডেস্ক 























