- /
- বরিশাল
- /
- সন্ধ্যায় প্রদীপের আলোয় আলোকিত হবে বরিশাল মহাশ্মশান দেড়...
সন্ধ্যায় প্রদীপের আলোয় আলোকিত হবে বরিশাল মহাশ্মশান দেড় লাখ মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা
স্বজন হারানোর শোক আর স্মৃতির আবহে প্রদীপের আলোয় আলোকিত হতে যাচ্ছে উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ বরিশালের কাউনিয়া মহাশ্মশান। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শ্মশান দীপাবলি উৎসবে মৃত স্বজনদের সমাধিতে মোমবাতি ও প্রদীপ প্রজ্বালন করে শ্রদ্ধা জানাবেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশ থেকে আসা হাজারো মানুষ। উৎসবে দেড় লাখের বেশি মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা করছে আয়োজক কমিটি। এ উপলক্ষে দুই শতাধিক বছরের পুরোনো মহাশ্মশানে শেষ হয়েছে সব প্রস্তুতি। নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা।
প্রতি বছর ভূত চতুর্দশীর পুণ্যতিথিতে বরিশাল মহাশ্মশানে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এবারও উৎসব ঘিরে সাজানো হয়েছে পুরো শ্মশান। প্রিয়জনদের সমাধি ধোয়া-মোছা, পরিষ্কার ও রং করার কাজ শেষ হয়েছে। শ্মশানের ভেতরের সড়কগুলোও পরিষ্কার করা হয়েছে। যেসব সমাধিতে স্বজন নেই, সেগুলোও কমিটির পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতের মধ্যে শেষ হয়েছে রং ও আলোকসজ্জার কাজ।
মহাশ্মশানটিতে সংরক্ষিত রয়েছে কবি জীবনানন্দ দাশের পিতা সত্যানন্দ দাশ ও পিতামহ সর্বানন্দ দাশ গুপ্ত, বিপ্লবী দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ, নারী নেত্রী মনোরমা বসু মাসীমা, বামপন্থি নেতা হিরণলাল ভট্টাচার্য, কংগ্রেস নেতা শৈলেশ্বর চক্রবর্তী ও নারী নেত্রী রানী ভট্টাচার্যসহ বহু গুণী ব্যক্তির স্মৃতিচিহ্ন। ২০১২ সালে ভারতের কেওড়াতলা মহাশ্মশান থেকে মাটি এনে এখানে অশ্বিনীকুমার দত্তের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হয়। স্থাপন করা হয়েছে তার স্মারক সমাধি ও ম্যুরাল। আদি শ্মশানে রয়েছে ব্রাহ্ম অনুসারীদের সমাধি।
শ্মশান রক্ষা কমিটির তথ্যমতে, ৫ একর ৯৬ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ মহাশ্মশানে কাঁচা-পাকা মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার সমাধি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০০ সমাধির স্বজন বর্তমানে দেশের বাইরে বসবাস করেন। এ ছাড়া রয়েছে প্রায় ৯০০ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির সমাধি। এসব সমাধি হলুদ রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, দীপাবলি উৎসবের মূল আকর্ষণ মৃত স্বজনদের সমাধিতে মোমবাতি ও প্রদীপ প্রজ্বালন। পাশাপাশি তাদের প্রিয় খাবার ও পছন্দের সামগ্রী সমাধিতে নিবেদন করা হয়। ফুল দিয়ে সাজানো হয় সমাধি প্রাঙ্গণ। সন্ধ্যায় পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকেও মোমবাতি, ধূপকাঠি ও প্রদীপ প্রজ্বালনের আয়োজন থাকবে।
বরিশাল মহাশ্মশান দীপাবলি ও কালীপূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব বিজয় ভক্ত বলেন, ‘ভূত চতুর্দশীর পুণ্যতিথিতে প্রতি বছরের মতো এবারও দীপাবলি উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। শ্মশানের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘১৯২৭ সাল থেকে বরিশাল মহাশ্মশানে ধারাবাহিকভাবে আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে দীপাবলি উৎসব উদযাপিত হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকেও মানুষ এ উৎসবে যোগ দিতে আসেন। ইতোমধ্যে বিদেশি অনেক অতিথি বরিশালে পৌঁছেছেন। তাঁরা বিভিন্ন হোটেল ও আত্মীয়স্বজনের বাসায় অবস্থান করছেন।’
উৎসবে বিপুল মানুষের সমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শ্মশানজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি পুলিশ, এসআরবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক দল দায়িত্ব পালন করবে। যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের দল।
১৮০১ সালের ১ মে তৎকালীন জেলা প্রশাসক জন শ্যোর বাকেরগঞ্জ থেকে জেলার সদর দপ্তর বর্তমান বরিশালে স্থানান্তর করেন। এরপর প্রশাসনিক ও নগরকেন্দ্রিক জনবসতি গড়ে ওঠার ধারাবাহিকতায় নতুন বাজার এলাকায় জেলখালসংলগ্ন স্থানে প্রথম মহাশ্মশানের যাত্রা শুরু হয়। সেখানে সমাধির সংখ্যা বাড়তে থাকলে পরবর্তী সময়ে কাউনিয়া এলাকায় বর্তমান মহাশ্মশান গড়ে ওঠে। ১৮৭৬ সালে বরিশাল পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর মহাশ্মশানটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।
"সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পরিবেশনে আমরা সর্বদা সচেষ্ট।"
