ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘আমার কোনো বাগদান হয়নি’, গুঞ্জনের জবাবে শিরতাজ জেবিন ‘হাফিজ সাঈদের বিচার কবে করবেন?’ জাতিসংঘে প্রশ্নের মুখে শেহবাজ শরিফ রক্ষণে দুর্বলতা, আক্রমণে ধার নেই: শেষ মুহূর্তের গোলে হার এড়াল ব্রাজিল ব্রাজিলকে হটিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের নতুন মাইলফলকে মরক্কো ভেরিফিকেশনের নামে এক হাজার তরুণের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করা হয়েছে: নাহিদ ইসলাম শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে: রিজভী জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে অপরিহার্য: খলিলুর রহমান ২০২৬ সালের হারভেস্ট মুন দেখা যাবে শনিবার শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ আতাহার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মাদকবিরোধী লিফলেট বিতরণ

‘হাফিজ সাঈদের বিচার কবে করবেন?’ জাতিসংঘে প্রশ্নের মুখে শেহবাজ শরিফ




লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) প্রধান হাফিজ সাঈদকে নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে কোনো উত্তর দেননি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে (ইউএনজিএ) যোগ দিতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। খবর এনডিটিভির।

শেহবাজ শরিফ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রবেশের সময় সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া কবে বন্ধ করবেন?’ তবে কোনো জবাব না দিয়ে ভেতরে চলে যান তিনি।

পরে জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে বের হওয়ার সময়ও তাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘লস্কর-ই-তৈয়বার প্রধান হাফিজ সাঈদের বিচার কবে করবেন?’ এবারও কোনো উত্তর দেননি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সারগোধার বাসিন্দা হাফিজ মুহাম্মদ সাঈদকে ভারতের বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন, ১৯৬৭-এর অধীনে মনোনীত সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলা মামলায় ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড আসামিদের একজন।

এ ছাড়া ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায়ও লস্কর-ই-তৈয়বার পাকিস্তানভিত্তিক সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছে।

এনআইএর সম্পূরক অভিযোগপত্রে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা ও মনোনীত সন্ত্রাসী হাফিজ মুহাম্মদ সাঈদকে ৮ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে হামলার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে তার জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর একদিন আগে জাতিসংঘে পাকিস্তানের সমালোচনা করে ভারত। ইসলামাবাদকে অন্য দেশের ভূখণ্ড নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা না করে ঋণে জর্জরিত ও আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল নিজেদের অর্থনীতির দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানায় নয়াদিল্লি।

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে ভারতের কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী পাকিস্তানের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের ‘বৈরী অবস্থান’ দেশটির দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে কোনো ভূমিকা রাখবে না।

পাকিস্তানের অগ্রাধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলে ক্ষিতিজ ত্যাগী বলেন, ‘অন্যের ভূখণ্ডের প্রতি লালসা বা সন্ত্রাস রপ্তানি না করে উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিলে পাকিস্তান তার জনগণের জন্য বেশি উপকার করতে পারত। কারণ এসব কর্মকাণ্ড কিংবা পরিষদে তাদের নাটকীয়তা; কোনোটিই তাদের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখা ঋণ পরিশোধে সহায়তা করবে না।’

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বেসামরিক নাগরিকদের দমন এবং মানবিক সংকট নিয়েও অভিযোগ করেন এই ভারতীয় কূটনীতিক। তার দাবি, সেখানে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ করা হয়েছে এবং খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের মতো জরুরি পণ্য সরবরাহে বাধা দেওয়া হয়েছে।

ক্ষিতিজ ত্যাগী বলেন, ‘গত শুক্রবার এই পরিষদকে জানানো হয়েছিল, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত ওই ভূখণ্ডে জুন থেকে বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং খাদ্য ও ওষুধ আটকে রাখা হয়েছে। এসব অভিযোগ উত্থাপনের পর পাকিস্তানের জবাব ছিল পয়েন্ট অব অর্ডার।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিষদের নজরদারির জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের মানদণ্ড যদি কোনো প্রতিনিধিদল পূরণ করে থাকে, তবে সেটি পাকিস্তান।’

সূত্র : এনডিটিভ

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

‘আমার কোনো বাগদান হয়নি’, গুঞ্জনের জবাবে শিরতাজ জেবিন

‘হাফিজ সাঈদের বিচার কবে করবেন?’ জাতিসংঘে প্রশ্নের মুখে শেহবাজ শরিফ

আপডেট সময় : ৭ ঘন্টা আগে

লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) প্রধান হাফিজ সাঈদকে নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে কোনো উত্তর দেননি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে (ইউএনজিএ) যোগ দিতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। খবর এনডিটিভির।

শেহবাজ শরিফ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রবেশের সময় সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া কবে বন্ধ করবেন?’ তবে কোনো জবাব না দিয়ে ভেতরে চলে যান তিনি।

পরে জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে বের হওয়ার সময়ও তাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘লস্কর-ই-তৈয়বার প্রধান হাফিজ সাঈদের বিচার কবে করবেন?’ এবারও কোনো উত্তর দেননি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সারগোধার বাসিন্দা হাফিজ মুহাম্মদ সাঈদকে ভারতের বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন, ১৯৬৭-এর অধীনে মনোনীত সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলা মামলায় ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড আসামিদের একজন।

এ ছাড়া ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায়ও লস্কর-ই-তৈয়বার পাকিস্তানভিত্তিক সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছে।

এনআইএর সম্পূরক অভিযোগপত্রে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা ও মনোনীত সন্ত্রাসী হাফিজ মুহাম্মদ সাঈদকে ৮ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে হামলার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে তার জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর একদিন আগে জাতিসংঘে পাকিস্তানের সমালোচনা করে ভারত। ইসলামাবাদকে অন্য দেশের ভূখণ্ড নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা না করে ঋণে জর্জরিত ও আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল নিজেদের অর্থনীতির দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানায় নয়াদিল্লি।

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে ভারতের কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী পাকিস্তানের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের ‘বৈরী অবস্থান’ দেশটির দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে কোনো ভূমিকা রাখবে না।

পাকিস্তানের অগ্রাধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলে ক্ষিতিজ ত্যাগী বলেন, ‘অন্যের ভূখণ্ডের প্রতি লালসা বা সন্ত্রাস রপ্তানি না করে উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিলে পাকিস্তান তার জনগণের জন্য বেশি উপকার করতে পারত। কারণ এসব কর্মকাণ্ড কিংবা পরিষদে তাদের নাটকীয়তা; কোনোটিই তাদের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখা ঋণ পরিশোধে সহায়তা করবে না।’

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বেসামরিক নাগরিকদের দমন এবং মানবিক সংকট নিয়েও অভিযোগ করেন এই ভারতীয় কূটনীতিক। তার দাবি, সেখানে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ করা হয়েছে এবং খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের মতো জরুরি পণ্য সরবরাহে বাধা দেওয়া হয়েছে।

ক্ষিতিজ ত্যাগী বলেন, ‘গত শুক্রবার এই পরিষদকে জানানো হয়েছিল, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত ওই ভূখণ্ডে জুন থেকে বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং খাদ্য ও ওষুধ আটকে রাখা হয়েছে। এসব অভিযোগ উত্থাপনের পর পাকিস্তানের জবাব ছিল পয়েন্ট অব অর্ডার।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিষদের নজরদারির জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের মানদণ্ড যদি কোনো প্রতিনিধিদল পূরণ করে থাকে, তবে সেটি পাকিস্তান।’

সূত্র : এনডিটিভ