ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ১১




বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। পরে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বগুড়া সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মো. রাজিবুল ইসলামের ছেলে আব্দুল মালেক (৫০) অ্যাজমাজনিত সমস্যায় চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালের একটি বেডে তার মৃত্যু হয়।
মালেকের মৃত্যুর পর তার স্বজনেরা চিকিৎসায় ভুলের অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের ইন্টার্ন হোস্টেলে থাকা অন্য চিকিৎসকরাও ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের সপ্তম তলায় আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষে রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাত ১টার দিকে আলোচনায় আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
এ ঘটনায় মালেকের ছয়জন স্বজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে দুজনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর চারজনকে বগুড়া সদর থানা পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।
আহত স্বজনরা হলেন— মো. তানরিন (২৬), মো. রাকিবুল হাসান (১৯), মো. প্রান্ত (২২), এম এম মিনহাজ (১৮), মো. নাফিউল (২৬) ও মো. বিপ্লব হোসেন (২৬)। তারা বগুড়া মহানগরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
এদিকে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে।
তবে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের করা চিকিৎসায় ভুলের অভিযোগ এবং সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের বক্তব্য ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ায় কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারে মতবিনিময় সভা

বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ১১

আপডেট সময় : ০৮:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। পরে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বগুড়া সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মো. রাজিবুল ইসলামের ছেলে আব্দুল মালেক (৫০) অ্যাজমাজনিত সমস্যায় চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালের একটি বেডে তার মৃত্যু হয়।
মালেকের মৃত্যুর পর তার স্বজনেরা চিকিৎসায় ভুলের অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের ইন্টার্ন হোস্টেলে থাকা অন্য চিকিৎসকরাও ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের সপ্তম তলায় আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষে রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাত ১টার দিকে আলোচনায় আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
এ ঘটনায় মালেকের ছয়জন স্বজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে দুজনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর চারজনকে বগুড়া সদর থানা পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।
আহত স্বজনরা হলেন— মো. তানরিন (২৬), মো. রাকিবুল হাসান (১৯), মো. প্রান্ত (২২), এম এম মিনহাজ (১৮), মো. নাফিউল (২৬) ও মো. বিপ্লব হোসেন (২৬)। তারা বগুড়া মহানগরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
এদিকে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে।
তবে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের করা চিকিৎসায় ভুলের অভিযোগ এবং সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের বক্তব্য ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।