ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফাইনালে যেতে বাংলাদেশের দরকার ১৫০ রান




টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে জয় পেতে যেন সবসময়ই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ নারী দল। তবে টসে জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দারুণ এক শুরু পাওয়ার পথ তৈরি করেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। কিন্তু ম্যাচের মাঝপথে একাধিক ক্যাচ ও রানআউটের সুযোগ হাতছাড়া করার খেসারত দিয়ে শেষ পর্যন্ত ভারতকে দেড়শ রানের কাছাকাছি যেতে দিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছাতে হলে বাংলাদেশকে এখন তুলতে হবে ১৫০ রান।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে ভারতকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ। এর আগে ভারতের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ২৪টি টি-টুয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ, যার দুটিতেই ভারতকে ১১০ রানের নিচে আটকে রাখার কৃতিত্ব দেখায় টাইগ্রেসরা। আজকেও তেমন কিছুর প্রত্যাশা ছিল।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ভারতীয় ওপেনার শেফালি ভার্মাকে আউট করার বড় সুযোগ পায় বাংলাদেশ। সুলতানা খাতুনের বলে লং অনে দাঁড়িয়ে থাকা ফাহিমা খাতুন শেফালির সহজ ক্যাচ হাতে জমাতে ব্যর্থ হন। সুযোগ মিস হলেও উইকেটের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়নি; একই ওভারে স্বর্ণা আক্তারের চমৎকার ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন ভারতের মারকুটে ওপেনার স্মৃতি মান্দানা।

তবে এরপরই শুরু হয় শেফালি ভার্মার ক্যাচ ফেলার মহড়া। ৩ ওভারের মাথায় মারুফা আক্তারের বলে মিড অনে নাহিদা আক্তার নিচু হয়ে আসা একটি ক্যাচ মিস করেন। দু-দুবার জীবন পেয়ে শেফালি আগ্রাসী রূপ ধারণ করেন। পাওয়ার প্লেই থেকেই প্রতিকাকে সাথে নিয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তিনি। পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষে ১ উইকেটে ৪৫ রান তোলে ভারত, যেখানে শেফালি ও প্রতিকা উভয়কেই ছক্কা হাঁকাতে দেখা যায়।

নবম ওভারের তৃতীয় বলে রাবেয়া খানকে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে ধরা পড়েন প্রতিকা। উইকেটরক্ষক দিলারা আক্তার শুরুতে ক্যাচটি ফসকে ফেললেও দ্বিতীয় চেষ্টায় তা তালুবন্দী করেন। এর মাধ্যমে ৪৪ বলে গড়ে ওঠা ৫০ রানের জুটি ভাঙে। ভারতের সংগ্রহ তখন ২ উইকেটে ৫৯ রান।

ক্যাচ মিসের সুবিধা নিয়ে ১৩ ওভার ২ বলেই ফিফটি পূরণ করেন শেফালি। এরপর তাকে রানআউট করার একটি সুযোগ হাতছাড়া হলেও তা দলের জন্য বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারেনি। ফিফটির পর বেশিদূর এগোতে পারেননি এই ভারতীয় ওপেনার। অবশেষে সুলতানা খাতুনের বলে বদলি ফিল্ডার ফারজানা ইয়াসমিনের ক্যাচ হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি। ম্যাচে তিনবার ক্যাচ ও একবার রানআউটের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া শেফালির উইকেটটি বাংলাদেশকে বড় স্বস্তি এনে দেয়।

ক্যাচ ফেলার খেসারত ও ফিল্ডিংয়ের বেশ কিছু ভুলত্রুটি না থাকলে ভারতের স্কোরকার্ড হয়তো আরও ছোট রাখা সম্ভব হতো। এবার ফাইনালের টিকিট কাটতে হলে বাংলাদেশকে ব্যাট হাতে পার করতে হবে ১৫০ রানের বড় দেওয়াল।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

ফাইনালে যেতে বাংলাদেশের দরকার ১৫০ রান

আপডেট সময় : ১৮ ঘন্টা আগে

টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে জয় পেতে যেন সবসময়ই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ নারী দল। তবে টসে জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দারুণ এক শুরু পাওয়ার পথ তৈরি করেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। কিন্তু ম্যাচের মাঝপথে একাধিক ক্যাচ ও রানআউটের সুযোগ হাতছাড়া করার খেসারত দিয়ে শেষ পর্যন্ত ভারতকে দেড়শ রানের কাছাকাছি যেতে দিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছাতে হলে বাংলাদেশকে এখন তুলতে হবে ১৫০ রান।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে ভারতকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ। এর আগে ভারতের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ২৪টি টি-টুয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ, যার দুটিতেই ভারতকে ১১০ রানের নিচে আটকে রাখার কৃতিত্ব দেখায় টাইগ্রেসরা। আজকেও তেমন কিছুর প্রত্যাশা ছিল।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ভারতীয় ওপেনার শেফালি ভার্মাকে আউট করার বড় সুযোগ পায় বাংলাদেশ। সুলতানা খাতুনের বলে লং অনে দাঁড়িয়ে থাকা ফাহিমা খাতুন শেফালির সহজ ক্যাচ হাতে জমাতে ব্যর্থ হন। সুযোগ মিস হলেও উইকেটের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়নি; একই ওভারে স্বর্ণা আক্তারের চমৎকার ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন ভারতের মারকুটে ওপেনার স্মৃতি মান্দানা।

তবে এরপরই শুরু হয় শেফালি ভার্মার ক্যাচ ফেলার মহড়া। ৩ ওভারের মাথায় মারুফা আক্তারের বলে মিড অনে নাহিদা আক্তার নিচু হয়ে আসা একটি ক্যাচ মিস করেন। দু-দুবার জীবন পেয়ে শেফালি আগ্রাসী রূপ ধারণ করেন। পাওয়ার প্লেই থেকেই প্রতিকাকে সাথে নিয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তিনি। পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষে ১ উইকেটে ৪৫ রান তোলে ভারত, যেখানে শেফালি ও প্রতিকা উভয়কেই ছক্কা হাঁকাতে দেখা যায়।

নবম ওভারের তৃতীয় বলে রাবেয়া খানকে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে ধরা পড়েন প্রতিকা। উইকেটরক্ষক দিলারা আক্তার শুরুতে ক্যাচটি ফসকে ফেললেও দ্বিতীয় চেষ্টায় তা তালুবন্দী করেন। এর মাধ্যমে ৪৪ বলে গড়ে ওঠা ৫০ রানের জুটি ভাঙে। ভারতের সংগ্রহ তখন ২ উইকেটে ৫৯ রান।

ক্যাচ মিসের সুবিধা নিয়ে ১৩ ওভার ২ বলেই ফিফটি পূরণ করেন শেফালি। এরপর তাকে রানআউট করার একটি সুযোগ হাতছাড়া হলেও তা দলের জন্য বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারেনি। ফিফটির পর বেশিদূর এগোতে পারেননি এই ভারতীয় ওপেনার। অবশেষে সুলতানা খাতুনের বলে বদলি ফিল্ডার ফারজানা ইয়াসমিনের ক্যাচ হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি। ম্যাচে তিনবার ক্যাচ ও একবার রানআউটের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া শেফালির উইকেটটি বাংলাদেশকে বড় স্বস্তি এনে দেয়।

ক্যাচ ফেলার খেসারত ও ফিল্ডিংয়ের বেশ কিছু ভুলত্রুটি না থাকলে ভারতের স্কোরকার্ড হয়তো আরও ছোট রাখা সম্ভব হতো। এবার ফাইনালের টিকিট কাটতে হলে বাংলাদেশকে ব্যাট হাতে পার করতে হবে ১৫০ রানের বড় দেওয়াল।