টাঙ্গাইলের সখিপুরে সড়ক থেকে আউয়াল শফিক (৪৫) নামে এক স্বাস্থ্য সহকারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দ্রুতগতির কোনো যানবাহনের ধাক্কায় তাঁর মৃত্যু হতে পারে। তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি নিছক সড়ক দুর্ঘটনা নয়; তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার নলুয়া-বাসাইল সড়কের বাছেত খান উচ্চবিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত আউয়াল শফিক উপজেলার বোয়ালী গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে। তিনি সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে সড়কের পাশে একজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে আউয়াল শফির লাশের পাশে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পড়ে থাকতে দেখা যায়।
মরদেহের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। মাথার কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকায় ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পুলিশের ধারণা, নলুয়া-বাসাইল সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় কোনো দ্রুতগতির যানবাহনের ধাক্কায় মোটরসাইকেলসহ আউয়াল শফি সড়কে পড়ে যান। পরে গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট যানবাহনের চালক পালিয়ে গেছে বলেও ধারণা পুলিশের। তবে নিহতের চাচাতো ভাই জিয়া হাবিব ও মাওলানা ফরিদ উদ্দিনসহ কয়েকজন স্বজন এ ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ। তাঁদের ভাষ্য, আউয়াল শফির গলা ও মাথার আঘাতের ধরন দেখে তাঁদের সন্দেহ হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। সখিপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম বলেন, মরদেহের মাথার বিচ্ছিন্ন অংশ তিনটি স্থান থেকে উদ্ধার করে একত্র করা হয়েছে। কোনো দ্রুতগতির যানবাহনের আঘাতে এ ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সখিপুর থানার ওসি মুরাদ হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আবুল কাশেম, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি 
























