ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

কৃমির সমস্যা দূর করতে কত দিন পরপর ওষুধ খাওয়া উচিত?




কৃমি মানুষের অন্ত্রে বা শরীরে বাস করা এক ধরনের ক্ষতিকর পরজীবী। এটি শরীর থেকে পুষ্টি উপাদান শোষণের মাধ্যমে রক্তশূন্যতা, অপুষ্টি ও নানাবিধ শারীরিক জটিলতা তৈরি করে। সাধারণত এটি অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, দূষিত পানি ও খাবার গ্রহণের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে।

কৃমি অপরিচ্ছন্নতা, অনিরাপদ খাবার বা গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ত্রের কৃমির সংক্রমণ খাবারে থাকা দৃশ্যমান কৃমি থেকে হয় না; বরং শাকসবজি, পানি, মাটি, বিভিন্ন পৃষ্ঠতল এবং এমনকি হাতে লেগে থাকা আণুবীক্ষণিক ডিম ও লার্ভা থেকে হয়। এই পরজীবীগুলো প্রায়ই কোনো বিপদ সংকেত না দিয়েই মাস বা বছর ধরে নীরবে শরীরে বাস করতে পারে। যার ফলে হজমে সমস্যা, ক্লান্তি, রক্তাল্পতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

কৃমি আকারে ছোট-বড় সব ধরনের হয়ে থাকে, তবে প্রায়ই দেখা যায় না। কিন্তু জেনে অবাক হবেন, একটি কৃমি মানুষের অন্ত্র থেকে দিনে ০ দশমিক ২ মিলিলিটার রক্ত শুষে নেয়। ফলে শিশুরা অপুষ্টি ও রক্তশূন্যতায় ভোগে। বড়রাও নানা সমস্যায় ভোগেন। এ ছাড়া কৃমির কারণে অ্যালার্জি, ত্বকে চুলকানি, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কখনো অন্ত্রের বা পিত্তথলির নালিতে কৃমি আটকে গিয়ে বড় ধরনের জটিলতা হয়।

এ কারণেই বিশেষজ্ঞরা জোর দেন কৃমিমুক্ত করতে। শুধু শিশুদের আ বাইরের খাবার খাওয়া ব্যক্তিদের জন্যই নয়; বরং এটি সব বয়সের মানুষের কৃমি প্রতিরোধ করা জরুরি।

কাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?

কৃমির সংক্রামণে শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। যার প্রধান কারণ হলো মাটির সঙ্গে তাদের ঘন ঘন সংস্পর্শ এবং অপরিষ্কার হাতে মুখে হাত দেওয়ার প্রবণতা। অ্যাস্টার হোয়াইটফিল্ড হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ পরামর্শক ড. ঐশ্বর্য বলেন, পরিবারের মধ্যেই, যেমন ভাইবোন, বাবা-মা এবং আক্রান্ত শিশুদের যত্নকারীদের মধ্যে সংক্রমণের গুচ্ছ দেখা যাওয়াটা সাধারণ ব্যাপার। একই শৌচাগার ব্যবহার, দূষিত পৃষ্ঠতল বা হাতের সঠিক স্বাস্থ্যবিধি না মানার মাধ্যমেও এই সংক্রমণ ঘটতে পারে। শহরে দূষিত পানি, অনিরাপদ গণশৌচাগার, দিবাযত্ন কেন্দ্র, পোষা প্রাণীর সংস্পর্শ এবং ভ্রমণ এ সবই ঝুঁকি বাড়ায়।

কৃমির ওষুধ কত দিন পরপর খাবেন?

কৃমিনাশক ওষুধ কত ঘন ঘন খেতে হবে তা বয়স, কৃমির ধরন ও ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে কৃমির প্রকোপ বেশি এমন এলাকায় প্রতি ৬ মাস অন্তর কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে নিরাপদ।

বিশেষ করে শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা বারবার কৃমির সমস্যা হচ্ছে এমন কারও ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তা ছাড়া প্রতি তিন মাস পরপর পরিবারের সবাই একটি করে অ্যালবেনডাজল ওষুধ খেতে পারেন। মেবেনডাজল হলে খেতে হবে পরপর তিন দিন। সাত দিন পর আরেক ডোজ খাওয়া যায়। শিশুদেরও একইভাবে সিরাপ খাওয়াতে হবে। দুই বছরের নিচে কোনো শিশুকে খাওয়াতে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তারপর খাওয়াতে হবে।

সাধারণ সতর্কীকরণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে-

ক্রমাগত পেট ফাঁপা বা পেটে অস্বস্তি, অব্যক্ত ক্লান্তি, ক্ষুধা কমে যাওয়া, রক্তাল্পতা, অনিয়মিত মলত্যাগ, মলদ্বারে চুলকানি।

কৃমি হলেও ওষুধের মাধ্যমে দূর করার উপায় আছে। নিয়ম মেনে কিছু ওষুধ খেলে আর সহজ কিছু উপায় মেনে চললে সহজেই কৃমি দূর করা যায়। তবে শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেলায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

শীতের সবজিতে স্বস্তির বার্তা, নামল ডিমের পারদ

কৃমির সমস্যা দূর করতে কত দিন পরপর ওষুধ খাওয়া উচিত?

আপডেট সময় : ১০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃমি মানুষের অন্ত্রে বা শরীরে বাস করা এক ধরনের ক্ষতিকর পরজীবী। এটি শরীর থেকে পুষ্টি উপাদান শোষণের মাধ্যমে রক্তশূন্যতা, অপুষ্টি ও নানাবিধ শারীরিক জটিলতা তৈরি করে। সাধারণত এটি অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, দূষিত পানি ও খাবার গ্রহণের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে।

কৃমি অপরিচ্ছন্নতা, অনিরাপদ খাবার বা গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ত্রের কৃমির সংক্রমণ খাবারে থাকা দৃশ্যমান কৃমি থেকে হয় না; বরং শাকসবজি, পানি, মাটি, বিভিন্ন পৃষ্ঠতল এবং এমনকি হাতে লেগে থাকা আণুবীক্ষণিক ডিম ও লার্ভা থেকে হয়। এই পরজীবীগুলো প্রায়ই কোনো বিপদ সংকেত না দিয়েই মাস বা বছর ধরে নীরবে শরীরে বাস করতে পারে। যার ফলে হজমে সমস্যা, ক্লান্তি, রক্তাল্পতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

কৃমি আকারে ছোট-বড় সব ধরনের হয়ে থাকে, তবে প্রায়ই দেখা যায় না। কিন্তু জেনে অবাক হবেন, একটি কৃমি মানুষের অন্ত্র থেকে দিনে ০ দশমিক ২ মিলিলিটার রক্ত শুষে নেয়। ফলে শিশুরা অপুষ্টি ও রক্তশূন্যতায় ভোগে। বড়রাও নানা সমস্যায় ভোগেন। এ ছাড়া কৃমির কারণে অ্যালার্জি, ত্বকে চুলকানি, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কখনো অন্ত্রের বা পিত্তথলির নালিতে কৃমি আটকে গিয়ে বড় ধরনের জটিলতা হয়।

এ কারণেই বিশেষজ্ঞরা জোর দেন কৃমিমুক্ত করতে। শুধু শিশুদের আ বাইরের খাবার খাওয়া ব্যক্তিদের জন্যই নয়; বরং এটি সব বয়সের মানুষের কৃমি প্রতিরোধ করা জরুরি।

কাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?

কৃমির সংক্রামণে শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। যার প্রধান কারণ হলো মাটির সঙ্গে তাদের ঘন ঘন সংস্পর্শ এবং অপরিষ্কার হাতে মুখে হাত দেওয়ার প্রবণতা। অ্যাস্টার হোয়াইটফিল্ড হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ পরামর্শক ড. ঐশ্বর্য বলেন, পরিবারের মধ্যেই, যেমন ভাইবোন, বাবা-মা এবং আক্রান্ত শিশুদের যত্নকারীদের মধ্যে সংক্রমণের গুচ্ছ দেখা যাওয়াটা সাধারণ ব্যাপার। একই শৌচাগার ব্যবহার, দূষিত পৃষ্ঠতল বা হাতের সঠিক স্বাস্থ্যবিধি না মানার মাধ্যমেও এই সংক্রমণ ঘটতে পারে। শহরে দূষিত পানি, অনিরাপদ গণশৌচাগার, দিবাযত্ন কেন্দ্র, পোষা প্রাণীর সংস্পর্শ এবং ভ্রমণ এ সবই ঝুঁকি বাড়ায়।

কৃমির ওষুধ কত দিন পরপর খাবেন?

কৃমিনাশক ওষুধ কত ঘন ঘন খেতে হবে তা বয়স, কৃমির ধরন ও ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে কৃমির প্রকোপ বেশি এমন এলাকায় প্রতি ৬ মাস অন্তর কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে নিরাপদ।

বিশেষ করে শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা বারবার কৃমির সমস্যা হচ্ছে এমন কারও ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তা ছাড়া প্রতি তিন মাস পরপর পরিবারের সবাই একটি করে অ্যালবেনডাজল ওষুধ খেতে পারেন। মেবেনডাজল হলে খেতে হবে পরপর তিন দিন। সাত দিন পর আরেক ডোজ খাওয়া যায়। শিশুদেরও একইভাবে সিরাপ খাওয়াতে হবে। দুই বছরের নিচে কোনো শিশুকে খাওয়াতে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তারপর খাওয়াতে হবে।

সাধারণ সতর্কীকরণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে-

ক্রমাগত পেট ফাঁপা বা পেটে অস্বস্তি, অব্যক্ত ক্লান্তি, ক্ষুধা কমে যাওয়া, রক্তাল্পতা, অনিয়মিত মলত্যাগ, মলদ্বারে চুলকানি।

কৃমি হলেও ওষুধের মাধ্যমে দূর করার উপায় আছে। নিয়ম মেনে কিছু ওষুধ খেলে আর সহজ কিছু উপায় মেনে চললে সহজেই কৃমি দূর করা যায়। তবে শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেলায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র: এনডিটিভি