কাজের সন্ধানে গিয়ে ফেরা হলো না ৭ শ্রমিকের, দুই গ্রামে শোক - চলনবিলের সময়

কাজের সন্ধানে গিয়ে ফেরা হলো না ৭ শ্রমিকের, দুই গ্রামে শোক

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: April 15, 2026

140

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দিনাজপুরের বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলার সাত কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ধান কাটার কাজে কুমিল্লায় যাওয়ার পথে ট্রাক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো এই ব্যক্তিরা ছিলেন নিজ নিজ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। তাদের অকাল মৃত্যুতে দুই গ্রামের পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে গভীর শোক ও অনিশ্চয়তা।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত সোয়া ৩টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার হাসানপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কে চালবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত এবং অন্তত ছয়জন আহত হন। বোরো মৌসুমে বাড়তি উপার্জনের আশায় এসব কৃষক ট্রাকে করে কুমিল্লা যাচ্ছিলেন।

নিহতদের মধ্যে বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নের ভাইগর গ্রামের চারজন হলেন— আবু হোসেন (৪২), বিষু মিয়া (৪৫), সুমন বাবু (২২) এবং আবদুর রশিদ (৬৫)। এছাড়া নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিপুর গ্রামের নিহত তিনজন হলেন— আফজাল হোসেন (৩৫), সোহরাব হোসেন (৪০) ও আবু সালেক (৪৫)।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ভাইগর মাদ্রাসা মাঠে চার শ্রমিকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন হাফেজ ইয়াদুল ইসলাম। জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

নিহত আবু হোসেনের স্ত্রী শিরিন আক্তার শোকে পাথর হয়ে বলেন, সংসারের একমাত্র ভরসা ছিলেন আমার স্বামী। দুই সন্তান নিয়ে এখন আমি কোথায় যাব, কীভাবে চলব কিছুই বুঝতে পারছি না।

অন্যদিকে, বিষু মিয়ার ছেলে রাফিয়াতুল্লাহ বাবার স্মৃতি স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়ে। এমন অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের মাতম চলছে।

দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রিয়াজ উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার রাতেই মরদেহগুলো নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

অন্যদিকে, দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন নিহত প্রতিটি পরিবারের জন্য তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে তার পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির সহসভাপতি আতিকুর রহমান রাজা মাস্টারের নেতৃত্বে স্থানীয় নেতারা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর হাতে এই সহায়তা তুলে দেন এবং ভবিষ্যতে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে পরিবারগুলো এখন শোকাচ্ছন্ন হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বিশেষ পুনর্বাসন সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।