‘কেস ৯৫ শতাংশ সলভড, তাহলে বিচার ঝুলছে কেন?’

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 3 hours ago

33

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার-প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিন। অপরাধী পুলিশের কাছে জবানবন্দিতে দোষ স্বীকার করার পরও কেন সাত দিনের তদন্ত সময় দেওয়া হলো- এ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, বিচার বিলম্বিত হওয়ার কারণেই দেশে ধর্ষণ ও সহিংস অপরাধ বাড়ছে। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে এসব কথা বলেন মনিরা শারমিন।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, রামিসার হত্যাকারী অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে পুলিশের কাছে। সাথে আরও কেউ জড়িত কিনা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কেস ৯৫% সলভড। আইনমন্ত্রী আবার কেন ৭ দিনের তদন্ত দিলেন? তদন্ত কর্মকর্তা এখন ঠিক কি তদন্ত করবেন?

তিনি আরও লেখেন, আপনারা বলবেন, এটাই প্রক্রিয়া! এই সব ** এর প্রক্রিয়ার জন্যেই এই দেশে ধর্ষণ প্রতিবছর গাণিতিক হারে বেড়েছে। অপরাধী দোষ স্বীকার করার তিনদিনের মধ্যে কেন তার বিচার কার্যকর হবে না? ৭ দিন পরে ঈদ নিয়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তখন রামিসার বাবার কথাই সত্য হবে। সবাই ভুলে যাবে।

বিচার-প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এনসিপির এই নেত্রী লেখেন, বিচারের এই দীর্ঘসূত্রিতার জন্যই কোন দৃষ্টান্ত স্থাপন হয় না। দীর্ঘদিন পর এই রায়গুলি অপরাধী বা সম্ভাব্য অপরাধীদের মনের মধ্যে ভয় তৈরি করতে পারে না।

একই পোস্টে তিনি ২০১৮ সালের সুবর্ণচরের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, আপনাদের ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর সুবর্ণচরের গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের কথা মনে আছে? সেই বিচার কবে হয়েছে জানেন? ২০২৪ সালে, তাও আবার শুধু রায় হয়েছে, কিন্তু মৃত্যুদণ্ড এখনও কার্যকর হয় নি। আমরা কয়জন খবর রেখেছি?

মনিরা শারমিন আরও লেখেন, অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করা হয় সম্ভাব্য অপরাধীদের ভয় দেখিয়ে অপরাধ থেকে নিবৃত্ত করতে। কিন্তু বিচারের এই দীর্ঘসূত্রিতার এই সংস্কৃতি কি জনগণকে সচেতন করছে? কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে? না।

পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, একটা বিচার কার্যকর করেন। অপরাধীকে জনসম্মুখে ফাঁসির আদেশ দেন। রামিসা, আছিয়ার পরিবারের সামনে বিচার কার্যকর করেন। দেখেন, ধর্ষণ বন্ধ হয় কিনা!

এর আগে রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে গত মঙ্গলবার হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানার জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যার আগে রামিসাকে ধর্ষণ করা হয়।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার সময় ঘরের একটি কক্ষে স্ত্রী স্বপ্নাকে আটকে রেখেছিলেন সোহেল। পরে মরদেহ গুমের প্রস্তুতির সময় স্থানীয়রা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়লে জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান সোহেল ও তার এক সহযোগী। পরে স্থানীয়রা স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

শিশু রামিসাকে বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার দাবির ঝড় উঠেছে।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com