শাজাহানপুরে ইন্স্যুরেন্সের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

: শাজাহানপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: 7 hours ago

33

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় একটি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির নাম ভাঙিয়ে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শফিকুল ইসলাম শফিক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলার চক চোপিনগর গ্রামের ভুক্তভোগী নাইস হোসেন সুজন বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত শফিক চোপিনগর ইউনিয়নের দড়িপাড়া গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ছেলে।

​লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শাজাহানপুর শাখার মাধ্যমে ১৬ বছর মেয়াদি একটি বীমা করেন নাইস হোসেন সুজন। কয়েক বছর পর প্রতারণার বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তিনি প্রিমিয়াম দেওয়া বন্ধ করে দেন। তবে বীমার মেয়াদ পূর্ণ হলে লভ্যাংশসহ সব টাকা পাওয়া যাবে বলে আশ্বস্ত করেন মাঠকর্মী শফিক। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জমাকৃত ২৭ হাজার৫৮৫ টাকা তুলতে গেলে শুরু হয় চরম ভোগান্তি। দীর্ঘদিন ধরে টাকা না দিয়ে নানা তালবাহানা করতে থাকেন শফিক। সর্বশেষ গত ৩ জুন সকালে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তিনি গ্রাহকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

​স্থানীয় বাসিন্দা জহুরা বেগমসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শফিক অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে গ্রামের সাধারণ ও সরল মানুষদের ফাঁদে ফেলে ইন্স্যুরেন্সের নামে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। মারুফা নামের অপর এক ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, নিজের জমানো টাকা ফেরত পেতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শফিকের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, কিন্তু কোনো সমাধান পাচ্ছেন না।

​এমনকি শফিকের সাবেক সহকর্মী ও সদস্য সংগ্রহকারী তাকিয়া আক্তারও তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শফিক আমাকে ভুল বুঝিয়ে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে বেশ কয়েকজন সদস্য সংগ্রহ করিয়ে নিয়েছিল। এখন সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে, আর আমি নিজেও আমার বেতন পাইনি।”

​টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, “টাকা আমি ব্যক্তিগতভাবে নিইনি, তা অফিসে জমা হয়েছে। অফিসের কিছু আইনি জটিলতা ও মামলা চলছে। এসব সমস্যার সমাধান হলে গ্রাহকরা টাকা পেয়ে যাবেন।”

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, অভিযোগটি তারা হাতে পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।