ঢাকা , সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মোকামতলায় উপজেলার চানপুর মাজার মসজিদের বর্ধিতকরণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সখিপুরে জ্বালানী সঙ্কটে জনজীবন অচল চড়ামূল্যেও মিলছে না গ্যাস শাজাহানপুরে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৭ দিনের কারাদণ্ড পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বগুড়ায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ পর্দার আলোছায়ায় চিরসবুজ রহস্যময়ী টাবু এবং ‘দৃশ্যম থ্রি’-এর নতুন ধাঁধা ২৬ জানুয়ারি ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন ‘মেসির বিদায়ী ম্যাচে ৫টা স্টেডিয়াম থাকলেও সবকটা ভরে যেত’ ‘হানিট্র্যাপে’ পড়ে তথ্য পাচার, ভারতীয় নৌসেনা গ্রেপ্তার বেসরকারিভাবে ডেঙ্গুর টিকা আনার রাস্তা খুলে দিন, সরকারকে শফিকুর কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, আখতারুজ্জামান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির

সোনা জিতে ৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাল ভারত




৪৪ বছর পর এশিয়ান গেমসে সোনার মুকুট জিতল ভারতের মেয়েরা। লালরেমসিয়ামির দুর্দান্ত গোল, সবিতা পুনিয়ার একাধিক অসাধারণ সেভ এবং জমাটি রক্ষণ, চীনের প্রবল চাপ সামলে ১-০ গোলে জিতে এশিয়ান গেমসে মহিলা হকিতে সোনা জিতল ভারত। সেইসঙ্গে দীর্ঘ ৪৪ বছর পর আবারও এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন হল ভারতের মহিলা হকি দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল বেশি ছিল চীনের হাতে। একের পর এক আক্রমণে তারা ভারতের সার্কেলে ঢোকার চেষ্টা করলেও ভারতের রক্ষণভাগ ছিল অত্যন্ত সংগঠিত। ডিফেন্ডাররা দ্রুত জায়গা বন্ধ করে চীনকে পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি।

এর মধ্যেই গ্রিন কার্ড দেখে দুই মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে যেতে হয় বলজিৎ কৌরকে। চীনের ফ্রি হিটের সময় পাঁচ মিটার দূরত্ব বজায় না রাখার কারণে তাকে এই শাস্তি পেতে হয়। তবে ১০ মিনিটেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ভারত। দারুণ একটি আক্রমণ তৈরি করে ভারত। সেই আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন সালিমা টেটে। এরপর সাক্ষীর কাছ থেকে বল পেয়ে লালরেমসিয়ামি দুর্দান্ত রিভার্স হিটে বল জালে জড়িয়ে দেন। প্রচণ্ড গতির সেই শটে চীনা গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না।

এরপর পেনাল্টি কর্নার পেলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ভারত। নবনীতের স্ল্যাপ শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথম কোয়ার্টারের শেষ দিকে চীন চাপ বাড়ালেও ভারতীয় রক্ষণ সেই চাপ সামলে ১-০ ব্যবধান ধরে রাখে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে চীন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ভারতের সার্কেলে তারা বেশ কয়েকবার ঢুকে পড়ে এবং একাধিক পেনাল্টি কর্নারও আদায় করে নেয়। কিন্তু ভারতীয় খেলোয়াড়দের রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা ছিল চোখে পড়ার মতো।

চীনের একটি পেনাল্টি কর্নারের ভ্যারিয়েশন থেকে আসা শট গোললাইনে দুর্দান্তভাবে আটকে দেন নবনীত। অন্যদিকে সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করে ভারত। ২৩ মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি। সুশীলা পিছন থেকে চীনের এক আক্রমণকারীকে ধাক্কা দিয়েছেন বলে সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার। চীন পায় পেনাল্টি স্ট্রোক।

ভারতের সামনে তখন বড় পরীক্ষা। কিন্তু অধিনায়ক সবিতা পুনিয়া দেখালেন তার অসাধারণ দক্ষতা। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক হাতে ঝাং ইংয়ের নেওয়া পেনাল্টি আটকে দেন তিনি। ভারতের লিড অক্ষুণ্ণ থাকে। এরপরও চীন গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে দ্রুত গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসে বিপদ কাটিয়ে দেন সবিতা। প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকে ভারত।

তৃতীয় কোয়ার্টারেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ছিল চীনের হাতে। দীর্ঘ সময় বল নিজেদের দখলে রেখে তারা বারবার ভারতের সার্কেলে ঢোকার চেষ্টা করে। ভারতের রক্ষণকে প্রায় পুরো কোয়ার্টারজুড়েই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়।

এই সময়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সালিমা টেটে। চীনের একটি পেনাল্টি কর্নার থেকে আসা আক্রমণ দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করেন তিনি। তবে কিছুক্ষণ পর আঙুলে চোট পাওয়ায় চিকিৎসার জন্য তাঁকে মাঠের বাইরে যেতে হয়।

৪৩ মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল চীন। কিন্তু দ্রুতগতির একটি রিভার্স পাস ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে না আসায় ভারত বিপদমুক্ত হয়। আক্রমণে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলো বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করে ভারত। দ্রুত পাস খেলে বল নিজেদের দখলে রাখে তারা। তৃতীয় কোয়ার্টার শেষ হয় ভারতের ১-০ লিড নিয়েই।

শেষ ১৫ মিনিটে চীন আরও মরিয়া হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ডান দিক দিয়ে একের পর এক আক্রমণ তৈরি করতে থাকে তারা। কিন্তু ভারতের রক্ষণভাগ ছিল অটুট। ৪৭ মিনিটে মাঠে ফিরে আসেন সালিমা। ফিরে এসেই দলকে উজ্জীবিত করেন তিনি। ৫০ মিনিটে একটি পাস ইন্টারসেপ্ট করে বাঁ দিক দিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান সালিমা। ভারত সার্কেলে ঢুকে কয়েকটি দ্রুত পাস খেললেও শেষ পর্যন্ত চীন বলের দখল ফিরে পায়।

ম্যাচের শেষ তিন মিনিটের কিছু বেশি সময় বাকি থাকতে বড় ঝুঁকি নেয় চীন। গোলরক্ষককে তুলে নিয়ে অতিরিক্ত একজন আউটফিল্ড খেলোয়াড় মাঠে নামায় তারা। ফলে চীনের গোলপোস্ট হয়ে যায় সম্পূর্ণ অরক্ষিত। সেই সুযোগে প্রায় দ্বিতীয় গোল পেয়ে যাচ্ছিল ভারত। সালিমা সার্কেলে ঢুকে পড়লেও শেষ শটটি নিতে পারেননি।

শেষ মুহূর্তে আবারও ভারতের গোলমুখে ঝাঁপিয়ে পড়ে চীন। কিন্তু সবিতা আরও একবার গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। শেষ এক মিনিটে চীনের প্রবল আক্রমণও সামলে নেয় ভারতীয় রক্ষণ।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

মোকামতলায় উপজেলার চানপুর মাজার মসজিদের বর্ধিতকরণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

সোনা জিতে ৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাল ভারত

আপডেট সময় : ০৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

৪৪ বছর পর এশিয়ান গেমসে সোনার মুকুট জিতল ভারতের মেয়েরা। লালরেমসিয়ামির দুর্দান্ত গোল, সবিতা পুনিয়ার একাধিক অসাধারণ সেভ এবং জমাটি রক্ষণ, চীনের প্রবল চাপ সামলে ১-০ গোলে জিতে এশিয়ান গেমসে মহিলা হকিতে সোনা জিতল ভারত। সেইসঙ্গে দীর্ঘ ৪৪ বছর পর আবারও এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন হল ভারতের মহিলা হকি দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল বেশি ছিল চীনের হাতে। একের পর এক আক্রমণে তারা ভারতের সার্কেলে ঢোকার চেষ্টা করলেও ভারতের রক্ষণভাগ ছিল অত্যন্ত সংগঠিত। ডিফেন্ডাররা দ্রুত জায়গা বন্ধ করে চীনকে পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি।

এর মধ্যেই গ্রিন কার্ড দেখে দুই মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে যেতে হয় বলজিৎ কৌরকে। চীনের ফ্রি হিটের সময় পাঁচ মিটার দূরত্ব বজায় না রাখার কারণে তাকে এই শাস্তি পেতে হয়। তবে ১০ মিনিটেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ভারত। দারুণ একটি আক্রমণ তৈরি করে ভারত। সেই আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন সালিমা টেটে। এরপর সাক্ষীর কাছ থেকে বল পেয়ে লালরেমসিয়ামি দুর্দান্ত রিভার্স হিটে বল জালে জড়িয়ে দেন। প্রচণ্ড গতির সেই শটে চীনা গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না।

এরপর পেনাল্টি কর্নার পেলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ভারত। নবনীতের স্ল্যাপ শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথম কোয়ার্টারের শেষ দিকে চীন চাপ বাড়ালেও ভারতীয় রক্ষণ সেই চাপ সামলে ১-০ ব্যবধান ধরে রাখে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে চীন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ভারতের সার্কেলে তারা বেশ কয়েকবার ঢুকে পড়ে এবং একাধিক পেনাল্টি কর্নারও আদায় করে নেয়। কিন্তু ভারতীয় খেলোয়াড়দের রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা ছিল চোখে পড়ার মতো।

চীনের একটি পেনাল্টি কর্নারের ভ্যারিয়েশন থেকে আসা শট গোললাইনে দুর্দান্তভাবে আটকে দেন নবনীত। অন্যদিকে সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করে ভারত। ২৩ মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি। সুশীলা পিছন থেকে চীনের এক আক্রমণকারীকে ধাক্কা দিয়েছেন বলে সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার। চীন পায় পেনাল্টি স্ট্রোক।

ভারতের সামনে তখন বড় পরীক্ষা। কিন্তু অধিনায়ক সবিতা পুনিয়া দেখালেন তার অসাধারণ দক্ষতা। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক হাতে ঝাং ইংয়ের নেওয়া পেনাল্টি আটকে দেন তিনি। ভারতের লিড অক্ষুণ্ণ থাকে। এরপরও চীন গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে দ্রুত গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসে বিপদ কাটিয়ে দেন সবিতা। প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকে ভারত।

তৃতীয় কোয়ার্টারেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ছিল চীনের হাতে। দীর্ঘ সময় বল নিজেদের দখলে রেখে তারা বারবার ভারতের সার্কেলে ঢোকার চেষ্টা করে। ভারতের রক্ষণকে প্রায় পুরো কোয়ার্টারজুড়েই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়।

এই সময়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সালিমা টেটে। চীনের একটি পেনাল্টি কর্নার থেকে আসা আক্রমণ দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করেন তিনি। তবে কিছুক্ষণ পর আঙুলে চোট পাওয়ায় চিকিৎসার জন্য তাঁকে মাঠের বাইরে যেতে হয়।

৪৩ মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল চীন। কিন্তু দ্রুতগতির একটি রিভার্স পাস ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে না আসায় ভারত বিপদমুক্ত হয়। আক্রমণে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলো বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করে ভারত। দ্রুত পাস খেলে বল নিজেদের দখলে রাখে তারা। তৃতীয় কোয়ার্টার শেষ হয় ভারতের ১-০ লিড নিয়েই।

শেষ ১৫ মিনিটে চীন আরও মরিয়া হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ডান দিক দিয়ে একের পর এক আক্রমণ তৈরি করতে থাকে তারা। কিন্তু ভারতের রক্ষণভাগ ছিল অটুট। ৪৭ মিনিটে মাঠে ফিরে আসেন সালিমা। ফিরে এসেই দলকে উজ্জীবিত করেন তিনি। ৫০ মিনিটে একটি পাস ইন্টারসেপ্ট করে বাঁ দিক দিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান সালিমা। ভারত সার্কেলে ঢুকে কয়েকটি দ্রুত পাস খেললেও শেষ পর্যন্ত চীন বলের দখল ফিরে পায়।

ম্যাচের শেষ তিন মিনিটের কিছু বেশি সময় বাকি থাকতে বড় ঝুঁকি নেয় চীন। গোলরক্ষককে তুলে নিয়ে অতিরিক্ত একজন আউটফিল্ড খেলোয়াড় মাঠে নামায় তারা। ফলে চীনের গোলপোস্ট হয়ে যায় সম্পূর্ণ অরক্ষিত। সেই সুযোগে প্রায় দ্বিতীয় গোল পেয়ে যাচ্ছিল ভারত। সালিমা সার্কেলে ঢুকে পড়লেও শেষ শটটি নিতে পারেননি।

শেষ মুহূর্তে আবারও ভারতের গোলমুখে ঝাঁপিয়ে পড়ে চীন। কিন্তু সবিতা আরও একবার গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। শেষ এক মিনিটে চীনের প্রবল আক্রমণও সামলে নেয় ভারতীয় রক্ষণ।