ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশে ঢুকলেন দুই ভারতীয়, বললেন ‘বিএসএফই গুলি করেছে’ বগুড়ায় কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারে মতবিনিময় সভা ১৭৮ কাব স্কাউটের পদচারণায় গঙ্গাচড়ায় শুরু কাব ক্যাম্পুরি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬ নং ওর্য়াডের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান বাগমারায় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ১০২ গুণী শিক্ষকের হাতে সম্মাননা তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী ২২ অক্টোবর ছুটির অনুমোদন, দুর্গাপূজায় এবার ৫ দিন ছুটি এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান হলেন স্পিকার হাফিজ ঢাকার দুই সিটির মেয়র প্রার্থীদের পরিচয় করালেন জামায়াত আমির নতুন দায়িত্বে আসিফ, সারজিস ও মিতু

গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশে ঢুকলেন দুই ভারতীয়, বললেন ‘বিএসএফই গুলি করেছে’




বিএসএফের গুলিতে আহত হওয়ার অভিযোগ নিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছেন দুই ভারতীয় নাগরিক। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সীমান্ত পেরিয়ে আসার পর স্থানীয়রা তাদের রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। পরে পুলিশ সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন ওই দুই ব্যক্তিকে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
‎
‎রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের দুর্গম দইখাওয়া চর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
‎
‎গুলিবিদ্ধ দুই ভারতীয় নাগরিক হলেন ইসমাইল হোসেন (৩৫) ও খাজা আব্দুল আলীম (৩৯)। তারা ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ সালমারা-মাইনকারচর জেলার সুখচর থানার বড়বালু এলাকার বাসিন্দা।
‎
‎পুলিশ জানায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর স্থানীয়রা তাদের পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন। পরে তাদের রংপুর শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে রোববার রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সেখানে অভিযান চালিয়ে দুই ভারতীয়কে উদ্ধার করে। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
‎
‎হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, দুজনের শরীরেই গুলির আঘাত রয়েছে। তাদের মধ্যে আব্দুল আলীমের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
‎
‎তবে কীভাবে এবং কেন ওই দুই ভারতীয় দইখাওয়া সীমান্তে এলেন, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। স্থানীয়দের দাবি, গরু পাচারের উদ্দেশ্যে তারা বাংলাদেশ সীমান্তে এসেছিলেন। বাংলাদেশি চোরাকারবারি সন্দেহে বিএসএফ তাদের গুলি করে আহত অবস্থায় বাংলাদেশ অংশে ফেলে যায়।
‎
‎অন্যদিকে আহত দুই ভারতীয়ের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, সীমান্তবর্তী চরে গরু চরাতে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করেন। পরে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাদের গুলি করা হয়।
‎
‎আহত আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমরা ভারতের বাসিন্দা। গরু চরাতে চরে গেলে বিএসএফ আমাদের ডেকে নেয়। বাংলাদেশি গরু চোরাচালানকারী অপবাদ দিয়ে একটি চরে নিয়ে যায়। সেখানে তর্কবিতর্ক হলে আমাদের গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বাংলাদেশে ফেলে যায়।’
‎
‎তিনি বলেন, ‘আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই। এ জন্য বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।’
‎
‎রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ও ডিবিপ্রধান সনাতন চক্রবর্তী বলেন, দুই ভারতীয় নাগরিকের শরীরে একাধিক স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। এগুলো গুলি নাকি অন্য কোনো বিস্ফোরকের আঘাত, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
‎
‎তিনি বলেন, তারা কীভাবে এবং কেন বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা করেছে। গ্রেপ্তার অবস্থায় তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
‎
‎এদিকে সীমান্তে গুলির ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানা নেই বলে জানিয়েছে বিজিবি।
‎
‎কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহাবুব উল হক বলেন, ‘সীমান্তে গুলির কোনো ঘটনা আমাদের জানা নেই। কাজেই এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য নেই। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে।’
‎
‎রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, দুই ভারতীয় নাগরিককে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নেবে।
‎
‎দুই ভারতীয়ের শরীরে থাকা স্প্লিন্টারের উৎস, সীমান্তে তাদের অবস্থানের কারণ এবং কোন পরিস্থিতিতে তারা গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশে ঢুকলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশে ঢুকলেন দুই ভারতীয়, বললেন ‘বিএসএফই গুলি করেছে’

গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশে ঢুকলেন দুই ভারতীয়, বললেন ‘বিএসএফই গুলি করেছে’

আপডেট সময় : এক ঘন্টা আগে

বিএসএফের গুলিতে আহত হওয়ার অভিযোগ নিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছেন দুই ভারতীয় নাগরিক। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সীমান্ত পেরিয়ে আসার পর স্থানীয়রা তাদের রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। পরে পুলিশ সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন ওই দুই ব্যক্তিকে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
‎
‎রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের দুর্গম দইখাওয়া চর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
‎
‎গুলিবিদ্ধ দুই ভারতীয় নাগরিক হলেন ইসমাইল হোসেন (৩৫) ও খাজা আব্দুল আলীম (৩৯)। তারা ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ সালমারা-মাইনকারচর জেলার সুখচর থানার বড়বালু এলাকার বাসিন্দা।
‎
‎পুলিশ জানায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর স্থানীয়রা তাদের পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন। পরে তাদের রংপুর শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে রোববার রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সেখানে অভিযান চালিয়ে দুই ভারতীয়কে উদ্ধার করে। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
‎
‎হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, দুজনের শরীরেই গুলির আঘাত রয়েছে। তাদের মধ্যে আব্দুল আলীমের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
‎
‎তবে কীভাবে এবং কেন ওই দুই ভারতীয় দইখাওয়া সীমান্তে এলেন, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। স্থানীয়দের দাবি, গরু পাচারের উদ্দেশ্যে তারা বাংলাদেশ সীমান্তে এসেছিলেন। বাংলাদেশি চোরাকারবারি সন্দেহে বিএসএফ তাদের গুলি করে আহত অবস্থায় বাংলাদেশ অংশে ফেলে যায়।
‎
‎অন্যদিকে আহত দুই ভারতীয়ের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, সীমান্তবর্তী চরে গরু চরাতে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করেন। পরে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাদের গুলি করা হয়।
‎
‎আহত আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমরা ভারতের বাসিন্দা। গরু চরাতে চরে গেলে বিএসএফ আমাদের ডেকে নেয়। বাংলাদেশি গরু চোরাচালানকারী অপবাদ দিয়ে একটি চরে নিয়ে যায়। সেখানে তর্কবিতর্ক হলে আমাদের গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বাংলাদেশে ফেলে যায়।’
‎
‎তিনি বলেন, ‘আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই। এ জন্য বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।’
‎
‎রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ও ডিবিপ্রধান সনাতন চক্রবর্তী বলেন, দুই ভারতীয় নাগরিকের শরীরে একাধিক স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। এগুলো গুলি নাকি অন্য কোনো বিস্ফোরকের আঘাত, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
‎
‎তিনি বলেন, তারা কীভাবে এবং কেন বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা করেছে। গ্রেপ্তার অবস্থায় তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
‎
‎এদিকে সীমান্তে গুলির ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানা নেই বলে জানিয়েছে বিজিবি।
‎
‎কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহাবুব উল হক বলেন, ‘সীমান্তে গুলির কোনো ঘটনা আমাদের জানা নেই। কাজেই এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য নেই। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে।’
‎
‎রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, দুই ভারতীয় নাগরিককে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নেবে।
‎
‎দুই ভারতীয়ের শরীরে থাকা স্প্লিন্টারের উৎস, সীমান্তে তাদের অবস্থানের কারণ এবং কোন পরিস্থিতিতে তারা গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশে ঢুকলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।