ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মী বাড়াচ্ছে রাশিয়া




ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ বিশেষজ্ঞ ও কর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৭০০ করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক জ্বালানি করপোরেশন রোসাটম। কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিট নির্মাণের কাজ চলমান থাকায় এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এ নিয়োগ ও কর্মী মোতায়েনের গতি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ জানান, বর্তমানে বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণস্থলে ১৪২ জন কর্মী কাজ করছেন। এ ছাড়া সেবা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন আরও ৫০ জন। সব মিলিয়ে সেখানে রুশ কর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৭০০ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

লিখাচেভ বলেন, ‘অবশ্যই সবকিছু সামরিক পরিস্থিতির ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে। উত্তেজনা বাড়লে অন্তত কর্মী বাড়ানোর গতি কমিয়ে দেব। তবে এই মুহূর্তে আমরা কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছি।’

বুশেহর কেন্দ্র থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তা নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘কর্মীর সংখ্যা যখন বাড়াচ্ছি, তখন সরিয়ে নেওয়ার প্রশ্ন আসছে কেন?’

রোসাটমের প্রধান জানান, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সেখানে রুশ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর মার্চে বুশেহর কেন্দ্র থেকে কয়েক শ রুশ কর্মীকে সরিয়ে নেয় রোসাটম। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও কর্মী বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে কর্মী মোতায়েনের গতি কমানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন লিখাচেভ।

এদিকে ইরানে আরও আটটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রোসাটমের প্রধান। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসকে তিনি বলেন, ‘আরও আটটি ইউনিট নির্মাণের জন্য আমরা চুক্তি করেছি। এ ছাড়া শরতে ইরানে ছোট আকারের বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণের জন্যও একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।’

এর আগে গত বছর লিখাচেভ জানিয়েছিলেন, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পাশে এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরও দুটি ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ওই প্রকল্পের নির্মাণকাজও এগিয়ে চলেছে।

১৯৯৫ সালে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট নির্মাণে চুক্তি করে রাশিয়া ও ইরান। এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটটি ২০১১ সালে উৎপাদন শুরু করে। পরে ২০১৪ সালে কেন্দ্রটিতে আরও দুটি চুল্লি নির্মাণের জন্য দুই দেশ নতুন চুক্তি করে। ওই দুটি ইউনিটের সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ১০০ মেগাওয়াট।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

শাজাহানপুরে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন, হাত ধোয়া প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মী বাড়াচ্ছে রাশিয়া

আপডেট সময় : ৮ ঘন্টা আগে

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ বিশেষজ্ঞ ও কর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৭০০ করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক জ্বালানি করপোরেশন রোসাটম। কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিট নির্মাণের কাজ চলমান থাকায় এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এ নিয়োগ ও কর্মী মোতায়েনের গতি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ জানান, বর্তমানে বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণস্থলে ১৪২ জন কর্মী কাজ করছেন। এ ছাড়া সেবা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন আরও ৫০ জন। সব মিলিয়ে সেখানে রুশ কর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৭০০ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

লিখাচেভ বলেন, ‘অবশ্যই সবকিছু সামরিক পরিস্থিতির ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে। উত্তেজনা বাড়লে অন্তত কর্মী বাড়ানোর গতি কমিয়ে দেব। তবে এই মুহূর্তে আমরা কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছি।’

বুশেহর কেন্দ্র থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তা নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘কর্মীর সংখ্যা যখন বাড়াচ্ছি, তখন সরিয়ে নেওয়ার প্রশ্ন আসছে কেন?’

রোসাটমের প্রধান জানান, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সেখানে রুশ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর মার্চে বুশেহর কেন্দ্র থেকে কয়েক শ রুশ কর্মীকে সরিয়ে নেয় রোসাটম। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও কর্মী বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে কর্মী মোতায়েনের গতি কমানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন লিখাচেভ।

এদিকে ইরানে আরও আটটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রোসাটমের প্রধান। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসকে তিনি বলেন, ‘আরও আটটি ইউনিট নির্মাণের জন্য আমরা চুক্তি করেছি। এ ছাড়া শরতে ইরানে ছোট আকারের বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণের জন্যও একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।’

এর আগে গত বছর লিখাচেভ জানিয়েছিলেন, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পাশে এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরও দুটি ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ওই প্রকল্পের নির্মাণকাজও এগিয়ে চলেছে।

১৯৯৫ সালে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট নির্মাণে চুক্তি করে রাশিয়া ও ইরান। এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটটি ২০১১ সালে উৎপাদন শুরু করে। পরে ২০১৪ সালে কেন্দ্রটিতে আরও দুটি চুল্লি নির্মাণের জন্য দুই দেশ নতুন চুক্তি করে। ওই দুটি ইউনিটের সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ১০০ মেগাওয়াট।