প্রচলিত সোনালি ধানের পাশাপাশি এবার রাজশাহীর দুর্গাপুরে চাষ হচ্ছে ব্যতিক্রমী কালো ধান বা ব্ল্যাক রাইস। ইউটিউবে চীনের কৃষকদের কালো ধান চাষের ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এ ধানের আবাদ শুরু করেছেন কৃষক আবু তালেব। ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে ভবিষ্যতে এ ধানের চাষ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের পালি গ্রামে প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে এ ধানের চাষ করেছেন একই গ্রামের কৃষক আবু তালেব। স্থানীয়ভাবে এ ধরনের ধানের চাষ এবারই প্রথম বলে জানা গেছে। ব্যতিক্রমী রঙের ধান দেখতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন স্থানীয়রাও।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষক আবু তালেব ছাড়াও দুর্গাপুর পৌরসভার দেবীপুর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সোহান ১৬ কাঠা জমিতে ব্ল্যাক রাইসের চাষ করেছেন। নতুন এ ফসল ঘিরে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
কৃষক আবু তালেব কালবেলাকে বলেন, এলাকায় এ ধরনের ধানের চাষ নতুন হওয়ায় শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে আড়াই বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন তিনি। ফলন ভালো হলে এবং বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া গেলে এ চাষ লাভজনক হতে পারে। তার মতে, উদ্যোগটি সফল হলে আশপাশের কৃষকরাও ব্ল্যাক রাইস চাষে আগ্রহী হবেন।
তিনি বলেন, প্রতি বিঘায় ১৬ থেকে ১৮ মণ ধান উৎপাদন করা সম্ভব হবে। প্রতি মণ চার হাজার টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে বিঘাপ্রতি ধানের সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য দাঁড়াবে ৬৪ থেকে ৭২ হাজার টাকা। তবে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে প্রকৃত লাভ কত হবে, তা নির্ভর করবে ফলন ও বাজারদরের ওপর।
এদিকে নতুন এই ধানের চাষাবাদে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে ফলন বৃদ্ধি ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী কালবেলাকে বলেন, নতুন ফসলের চাষাবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ব্ল্যাক রাইসের চাষ দুর্গাপুরের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এ ধানের ফলন, উৎপাদন খরচ ও বাজার চাহিদা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফলন ও বাজার পরিস্থিতি সন্তোষজনক হলে ভবিষ্যতে এ আবাদ সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাজশাহী প্রতিনিধি 
























