বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন পণ্য নকশা, সেবা প্রদান ও ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার ধরন বদলে দিচ্ছে। তাই এআইকে শুধু প্রযুক্তি হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, এআই হতে হবে নাগরিককেন্দ্রিক যার লক্ষ্য হবে মানব কল্যাণ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নভোথিয়েটারে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’ উপলক্ষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘AI for Bangladeshs Next Growth Phase: Productivity, Governance and Readiness’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, যেসব দেশ এআইয়ের মাধ্যমে বাস্তব অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি করতে পারবে, তারাই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে। বাংলাদেশে তৈরি পোশাক ও উৎপাদনশিল্প, কৃষি, সরবরাহব্যবস্থা, আর্থিক সেবা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং জনপ্রশাসনে এআই কাজে লাগানোর ভালো সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে এআই ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি জিডিপিতে এআইয়ের অবদানও বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ মেধাবী। কিন্তু শুধু মেধা দিয়ে জাতীয় সক্ষমতা তৈরি হয় না। মেধাকে গবেষণায়, গবেষণাকে উদ্ভাবনে, উদ্ভাবনকে উদ্যোগে এবং উদ্যোগকে কর্মসংস্থান ও রপ্তানিতে রূপ দিতে হবে।
একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, সরকার সেখানে সমস্যা চিহ্নিত করবে, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষকেরা সমাধান তৈরি করবেন। উদ্যোক্তারা তা বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগাবেন। শিল্পখাত পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করবে এবং বিনিয়োগকারীরা সফল উদ্যোগ সম্প্রসারণে সহায়তা করবেন।
এআই ব্যবহারের সঙ্গে দায়িত্বও বাড়ে মন্তব্য করে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, তথ্যের গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস, কম্পিউটিং সক্ষমতা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এআই কৌশলকে স্থানীয় বাস্তবতা, তথ্যব্যবস্থা ও দক্ষতা উন্নয়ন কৌশল থেকে আলাদা করা যাবে না।
ইসরায়েলের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটিতে ২ হাজার ১৫০টিরও বেশি এআইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এ থেকে শিক্ষা হলো, ছোট দেশও মেধা, গবেষণা, উদ্ভাবন, পুঁজি, বিশ্ববিদ্যালয় ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমকে সমন্বিত করে নিজের আকারের তুলনায় অনেক বেশি প্রযুক্তিগত প্রভাব তৈরি করতে পারে।
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এআই ক্যামেরার উদাহরণ তুলে ধরে দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা এআই নীতিতে সাইবার নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে দ্রুত এআই অন্তর্ভুক্ত করা এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করতে এআই নীতি বাস্তবায়নে সরকারের সক্রিয় উদ্যোগ কামনা করেন।
বুয়েটের অধ্যাপক ও ইউনেস্কো চেয়ার অন ইন্ডাস্ট্রি ইন্টিগ্রেশন ইন হায়ার এডুকেশন সিস্টেমস-এর ড. মুহাম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দেশের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক, এআই গবেষক, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগী, শিল্প ও ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক, একাডেমিয়া, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং তরুণ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

চলনবিলের সময় ডেস্ক 























