ঢাকা , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-রংপুর লং মার্চ: গঙ্গাচড়ায় রাজপথে ১১ দলীয় ঐক্য বগুড়ায় সিটি প্রশাসকের স্বাক্ষর জাল করে জন্মনিবন্ধন তৈরির অভিযোগ, হাতেনাতে আটক ১০৪ রানের জয়ে ঘুরে দাঁড়াল ময়নামতি, শামিমের ব্যাটে রানের বন্যা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে সম্পর্কে ইনভেস্ট করতে হয়: বর্ষা আইনের শাসন নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার: রিজভী ওয়াদা অস্বীকার করে উল্টো পথে হাঁটছে সরকার: জামায়াত আমির এসবির এসআই হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়: আইনমন্ত্রী রাঙ্গাবালীতে প্রায় দুই লাখ মানুষের জন্য নেই কোনো সরকারি স্বাস্থ্যসেবা বাগমারা উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন

এসবির এসআই হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর




ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এসআই মো. আলতাফ হোসেনের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসকক্ষে নিহতের পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে এলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন তিনি। সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার সর্বাত্মক আশ্বাস প্রদান করেন।

মন্ত্রী জানান, নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সার্বিক কল্যাণে ইতোমধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে ৬ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিহতের পারিবারিক ব্যবসা সচল রাখার সুবিধার্থে ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ থেকে প্রয়োজনীয় ঋণসহ সার্বিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে কর্মজীবনে মরহুম আলতাফ হোসেনের নৈতিকতা ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে মরণোত্তর ‘পুলিশ পদক (পিপিএম)’ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। মন্ত্রী এ সময় মরহুমের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীনের হাতে অনুদানের টাকা তুলে দেন।

পরে পুলিশ সদর দপ্তরে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নিহত এসআই আলতাফের পরিবারের সদস্যরা। এ সময় আইজিপি পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।

আইজিপি নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনকালে এসআই মো. আলতাফ হোসেনের আত্মত্যাগ পেশাগত কর্তব্যনিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার এ অসামান্য অবদান বাংলাদেশ পুলিশ সর্বদা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে সৃষ্ট তর্ক-বিতর্ক মেটাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়েন এসআই আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তার বড় ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিলে রাত ৮টা ১০ মিনিটে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে সেখানে বর্বর হামলা চালায়। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে তার ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলামও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন।

পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মরহুমের স্ত্রী বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মরহুম আলতাফ হোসেন ১৯৮৬ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে কনস্টেবল পদে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৪০ বছরের কর্মজীবনে তিনি ডিএমপি, রাঙ্গামাটি, আরআরএফ রাজশাহী, আরএমপি ও বরিশাল জেলায় অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সাল থেকে মৃত্যু অবধি তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ঢাকায় কর্মরত ছিলেন।

তিনি স্ত্রী, বড় ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম এবং ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলামকে রেখে গেছেন।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-রংপুর লং মার্চ: গঙ্গাচড়ায় রাজপথে ১১ দলীয় ঐক্য

এসবির এসআই হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ১০ ঘন্টা আগে

ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এসআই মো. আলতাফ হোসেনের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসকক্ষে নিহতের পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে এলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন তিনি। সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার সর্বাত্মক আশ্বাস প্রদান করেন।

মন্ত্রী জানান, নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সার্বিক কল্যাণে ইতোমধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে ৬ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিহতের পারিবারিক ব্যবসা সচল রাখার সুবিধার্থে ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ থেকে প্রয়োজনীয় ঋণসহ সার্বিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে কর্মজীবনে মরহুম আলতাফ হোসেনের নৈতিকতা ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে মরণোত্তর ‘পুলিশ পদক (পিপিএম)’ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। মন্ত্রী এ সময় মরহুমের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীনের হাতে অনুদানের টাকা তুলে দেন।

পরে পুলিশ সদর দপ্তরে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নিহত এসআই আলতাফের পরিবারের সদস্যরা। এ সময় আইজিপি পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।

আইজিপি নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনকালে এসআই মো. আলতাফ হোসেনের আত্মত্যাগ পেশাগত কর্তব্যনিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার এ অসামান্য অবদান বাংলাদেশ পুলিশ সর্বদা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে সৃষ্ট তর্ক-বিতর্ক মেটাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়েন এসআই আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তার বড় ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিলে রাত ৮টা ১০ মিনিটে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে সেখানে বর্বর হামলা চালায়। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে তার ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলামও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন।

পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মরহুমের স্ত্রী বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মরহুম আলতাফ হোসেন ১৯৮৬ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে কনস্টেবল পদে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৪০ বছরের কর্মজীবনে তিনি ডিএমপি, রাঙ্গামাটি, আরআরএফ রাজশাহী, আরএমপি ও বরিশাল জেলায় অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সাল থেকে মৃত্যু অবধি তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ঢাকায় কর্মরত ছিলেন।

তিনি স্ত্রী, বড় ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম এবং ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলামকে রেখে গেছেন।