ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সানজিদ খানের ‘এভাবেও প্রেম আসে’ নাটকে প্রান্তর-নুসরাত বিদ্যুৎ খাতের প্রকল্পে দ্রুত অর্থায়নে চীনা ব্যাংককে সরকারের অনুরোধ অবশেষে ক্ষমা চাইলেন ফিফা সভাপতি কৃষিকাজে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় অনেকে এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন: রাষ্ট্রপতি ১৫ দিনে রিয়াদ বিমানবন্দরে ২০ বার হুতিদের হামলা, নিহত ১৭ দেশ ও সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী পরিস্থিতি জটিল করতে জবিতে মন্দিরের পাশে গরুর মাংস রান্না: ছাত্রদল সেক্রেটারি দুর্গাপূজায় রামকৃষ্ণ মিশনে আসছেন রাষ্ট্রপতি ও ভারতীয় হাইকমিশনার সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গাবতলীতে দুই পরিবারকে টিনশেড ঘর ও চারজনকে অটোভ্যান উপহার দিলেন আলোর সন্ধানী সমাজকল্যাণ পরিষদ

নারীর শরীর নিয়ে সমাজের প্রত্যাশা কখনো শেষ হয় না: রাধিকা মদন

  • বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে




মা হওয়ার পর শরীরে পরিবর্তন আসা এবং তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রোলের মুখে পড়েছেন ক্যাটরিনা কাইফ। তার চেহারা নিয়ে চলা এমন আলোচনার জবাবে এবার ক্যাটরিনার পাশে দাঁড়িয়েছেন অভিনেত্রী রাধিকা মদন। তার মতে, নারীদের শরীরের গঠন, ওজন বা রূপ নিয়ে বিচার করার প্রবণতা সমাজে এতটাই গেড়ে বসেছে যে, সাধারণ মেয়ে থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠিত তারকা, কেউই তা থেকে বাদ পড়েন না। অভিনয় জীবনের বিভিন্ন সময়ে নিজেকেও এই বাজে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

‘পটাখা’ চলচ্চিত্রের চরিত্রের প্রয়োজনে প্রায় ১৫ কেজি ওজন বাড়িয়েছিলেন রাধিকা। পরবর্তী সময় ‘শিদ্দত’ ও ‘আংরেজি মিডিয়াম’ সিনেমায় অভিনয়ের সময় সেই বাড়তি ওজন কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন। অভিনেত্রীর ভাষ্যমতে, সে সময় তাকে শুনতে হয়েছিল যে অতিরিক্ত মোটা হয়ে গেলে তিনি কীভাবে মূল নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করবেন! পরপর কাজ ও দ্রুত ওজন কমানোর শারীরিক চাপে একপর্যায়ে তিনি অতিরিক্ত রোগা হয়ে পড়েন। শেষমেশ শারীরিক সুস্থতার অবনতি হওয়ায় বাধ্য হয়ে কাজ থেকে কিছুদিনের বিরতি নেন রাধিকা।

এই অভিজ্ঞতা থেকেই শরীর নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। রাধিকা উপলব্ধি করেন, একসময় তাকে যেমন মোটা বলা হয়েছে, তেমনই ওজন কমানোর পর আবার অতিরিক্ত রোগা হওয়ার কারণেও কটাক্ষ শুনতে হয়েছে। অর্থাৎ, অন্যের ইচ্ছা অনুযায়ী নিজের শরীর বারবার বদলালেও সবাইকে কখনোই সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। তাই নির্দিষ্ট কোনো শারীরিক অবয়ব পাওয়ার চেষ্টার বদলে এখন সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

অভিনেত্রীর মতে, মেয়েদের সৌন্দর্যের ধারণাকে ছোটবেলা থেকেই একটি নির্দিষ্ট ফ্রেমে আটকে দেওয়া হয়। ফ্যাশন ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ কিংবা সমাজের তৈরি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে অনেক কিশোরীই নিজেদের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। ভ্রুর আকৃতি, মুখের স্বাভাবিক লোম বা দৈহিক নানা বৈশিষ্ট্যও তখন তাদের হীনম্মন্যতায় ফেলে দেয়। অথচ সৌন্দর্যের নির্দিষ্ট কোনো একক সংজ্ঞা হতে পারে না।

নিজের শৈশবের কথা তুলে ধরে রাধিকা জানান, ছোটবেলায় তারও ঘন ভ্রু ও মুখে লোম ছিল। তবে পরিবারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে নিজের চেহারাকে স্বাভাবিকভাবে ভালোবাসতে শিখিয়েছে। সেখান থেকেই তিনি অন্যের প্রশংসার আশা না করে নিজেকে গ্রহণ করার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন। তার মতে, আত্মগ্রহণের পথ সহজ নয়; তবে নিজের শরীর ও স্বতন্ত্র পরিচয়কে সম্মান জানানোর মাধ্যমেই সেই যাত্রা শুরু হয়।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

সানজিদ খানের ‘এভাবেও প্রেম আসে’ নাটকে প্রান্তর-নুসরাত

নারীর শরীর নিয়ে সমাজের প্রত্যাশা কখনো শেষ হয় না: রাধিকা মদন

আপডেট সময় : ০৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

মা হওয়ার পর শরীরে পরিবর্তন আসা এবং তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রোলের মুখে পড়েছেন ক্যাটরিনা কাইফ। তার চেহারা নিয়ে চলা এমন আলোচনার জবাবে এবার ক্যাটরিনার পাশে দাঁড়িয়েছেন অভিনেত্রী রাধিকা মদন। তার মতে, নারীদের শরীরের গঠন, ওজন বা রূপ নিয়ে বিচার করার প্রবণতা সমাজে এতটাই গেড়ে বসেছে যে, সাধারণ মেয়ে থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠিত তারকা, কেউই তা থেকে বাদ পড়েন না। অভিনয় জীবনের বিভিন্ন সময়ে নিজেকেও এই বাজে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

‘পটাখা’ চলচ্চিত্রের চরিত্রের প্রয়োজনে প্রায় ১৫ কেজি ওজন বাড়িয়েছিলেন রাধিকা। পরবর্তী সময় ‘শিদ্দত’ ও ‘আংরেজি মিডিয়াম’ সিনেমায় অভিনয়ের সময় সেই বাড়তি ওজন কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন। অভিনেত্রীর ভাষ্যমতে, সে সময় তাকে শুনতে হয়েছিল যে অতিরিক্ত মোটা হয়ে গেলে তিনি কীভাবে মূল নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করবেন! পরপর কাজ ও দ্রুত ওজন কমানোর শারীরিক চাপে একপর্যায়ে তিনি অতিরিক্ত রোগা হয়ে পড়েন। শেষমেশ শারীরিক সুস্থতার অবনতি হওয়ায় বাধ্য হয়ে কাজ থেকে কিছুদিনের বিরতি নেন রাধিকা।

এই অভিজ্ঞতা থেকেই শরীর নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। রাধিকা উপলব্ধি করেন, একসময় তাকে যেমন মোটা বলা হয়েছে, তেমনই ওজন কমানোর পর আবার অতিরিক্ত রোগা হওয়ার কারণেও কটাক্ষ শুনতে হয়েছে। অর্থাৎ, অন্যের ইচ্ছা অনুযায়ী নিজের শরীর বারবার বদলালেও সবাইকে কখনোই সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। তাই নির্দিষ্ট কোনো শারীরিক অবয়ব পাওয়ার চেষ্টার বদলে এখন সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

অভিনেত্রীর মতে, মেয়েদের সৌন্দর্যের ধারণাকে ছোটবেলা থেকেই একটি নির্দিষ্ট ফ্রেমে আটকে দেওয়া হয়। ফ্যাশন ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ কিংবা সমাজের তৈরি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে অনেক কিশোরীই নিজেদের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। ভ্রুর আকৃতি, মুখের স্বাভাবিক লোম বা দৈহিক নানা বৈশিষ্ট্যও তখন তাদের হীনম্মন্যতায় ফেলে দেয়। অথচ সৌন্দর্যের নির্দিষ্ট কোনো একক সংজ্ঞা হতে পারে না।

নিজের শৈশবের কথা তুলে ধরে রাধিকা জানান, ছোটবেলায় তারও ঘন ভ্রু ও মুখে লোম ছিল। তবে পরিবারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে নিজের চেহারাকে স্বাভাবিকভাবে ভালোবাসতে শিখিয়েছে। সেখান থেকেই তিনি অন্যের প্রশংসার আশা না করে নিজেকে গ্রহণ করার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন। তার মতে, আত্মগ্রহণের পথ সহজ নয়; তবে নিজের শরীর ও স্বতন্ত্র পরিচয়কে সম্মান জানানোর মাধ্যমেই সেই যাত্রা শুরু হয়।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস