নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন মূল বেতন নির্ধারণ বা ‘পে ফিক্সেশন’ কার্যক্রমের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়েছে। এ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পাওয়ার কথা রয়েছে তাদের। তবে নতুন বেতনকাঠামোর বিভিন্ন সুবিধা ধাপে ধাপে কার্যকর হওয়ায় বেতন ও ভাতা পুরোপুরি চালু হতে আরও সময় লাগবে।
নবম জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন মূল বেতন নির্ধারণের জন্য গত ৫ অক্টোবর শুরু হওয়া পে ফিক্সেশন কার্যক্রমের নির্ধারিত সময়সীমা মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন বেতন, আগের বেতনের সঙ্গে পার্থক্য এবং বকেয়া পাওনার হিসাব নির্ধারণ করা হচ্ছে।
আইবাস++-এর পাইলটিং কার্যক্রমের তথ্যমতে, জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী জুন ২০২৬ মাসের বেতন-ভাতা উত্তোলন এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার বিল সাবমিট না করা পর্যন্ত জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা যাবে না।
অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে আগের তিন মাসের বকেয়া অর্থও পাওয়ার কথা। তবে কর্মচারীর গ্রেড, আগের মূল বেতন, নতুন নির্ধারিত বেতন এবং কার্যকর হওয়ার সময়ের ওপর ভিত্তি করে বকেয়ার পরিমাণে পার্থক্য হবে।
দীর্ঘদিন নতুন বেতনকাঠামো না আসায় মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও বেতনবৈষম্য নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এর মধ্যে গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ প্রকাশ করা হয়। আদেশটি ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য করা হয়েছে।
নতুন বেতন ও ভাতাদি আদেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আগের নিয়মে প্রচলিত মূল বেতনের ভিত্তিতে ভাতা দেওয়া হবে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী ভাতা কার্যকরের বিষয়টি পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়নের কথা জানানো হয়েছে।
নতুন বেতনকাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। গত ১ জুলাই থেকে এ কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হলেও বেতন ও ভাতার সব সুবিধা একসঙ্গে চালু হচ্ছে না। কয়েকটি ধাপে নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এবং তৃতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন কাঠামোর মূল বেতন কার্যকর করা হবে। অন্যদিকে, সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী ভাতা কার্যকরের নির্ধারিত সময় ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি।
এদিকে মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রচলিত যেসব ভাতা মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশের ভিত্তিতে দেওয়া হয়, সেগুলো ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ ও পরিশোধ করতে হবে।

চলনবিলের সময় ডেস্ক 

























