ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বগুড়ার শাজাহানপুরে ১০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার সালমান খানের ঘনিষ্ঠজনই কেন বারবার টার্গেটে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম বানাচ্ছে ভিয়েতনাম ফিলিস্তিন ইস্যুতে গৃহীত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে অনড় রাশিয়া ও ইরান: রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ১৫ ফ্যান চুরির দায়ে বিএনপি নেতার ছেলের কারাদণ্ড পূজার জন্য এক মাস ধরে শাড়ি জমিয়েছি: রুমিন ফারহানা বিএনপি সরকারের ৮ মাসে তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ, এক এমপির বিদায় শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: রাষ্ট্রপতি ইশরাকের পদত্যাগপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে, প্রজ্ঞাপন হতে পারে আজই বগুড়ায় মোকামতলা উপজেলা দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, বিএনপি নেতাদের নগদ অর্থ প্রদান

শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: রাষ্ট্রপতি




বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারছেন- এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একপোস্টে তিনি এ কথা জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাত, হানাহানি ও হিংসা-বিদ্বেষ বিরাজ করছে, তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারছেন- এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’

এরআগে, রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকার রমনা কালী মন্দির পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি।

রমনা কালী মন্দির পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা খুব দৃঢ় কণ্ঠে, জোর গলায় বলতে পারি, বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে তা বিশ্বের আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নাই।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাত, হানাহানি ও হিংসা-বিদ্বেষ বিরাজ করছে, তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করতে পারছেন-এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’

রাষ্ট্রপতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসব ন্যায়, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়।’

তিনি বলেন, ‘এই দেশে বারবার অসুরের আবির্ভাব হয়েছে এবং বাংলাদেশের মানুষ তাদের পরাজিত করেছে।’

রমনা কালী মন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এটাকে ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালে এটাকে ধ্বংস করা হয়। যারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, তাদের হাতেই এই অপকর্ম হয়েছিল। এরপর ২০০১ সালে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে এই রমনা কালী মন্দির পুনঃস্থাপিত হয় এবং তখন থেকেই এটাকে আবার পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।

এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে সবসময় অপব্যাখ্যা দেওয়া হয়, অপপ্রচার করা হয়।’

বর্তমানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

রাষ্ট্রপতি পূজার সফলতা কামনা করেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনকারীদের ধন্যবাদ জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অর্পনা রায় দাস ও সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য।

অনুষ্ঠানে রমনা মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিধান করিয়ে দেন।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ার শাজাহানপুরে ১০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় : ৬ ঘন্টা আগে

বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারছেন- এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একপোস্টে তিনি এ কথা জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাত, হানাহানি ও হিংসা-বিদ্বেষ বিরাজ করছে, তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারছেন- এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’

এরআগে, রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকার রমনা কালী মন্দির পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি।

রমনা কালী মন্দির পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা খুব দৃঢ় কণ্ঠে, জোর গলায় বলতে পারি, বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে তা বিশ্বের আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নাই।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাত, হানাহানি ও হিংসা-বিদ্বেষ বিরাজ করছে, তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করতে পারছেন-এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’

রাষ্ট্রপতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসব ন্যায়, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়।’

তিনি বলেন, ‘এই দেশে বারবার অসুরের আবির্ভাব হয়েছে এবং বাংলাদেশের মানুষ তাদের পরাজিত করেছে।’

রমনা কালী মন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এটাকে ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালে এটাকে ধ্বংস করা হয়। যারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, তাদের হাতেই এই অপকর্ম হয়েছিল। এরপর ২০০১ সালে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে এই রমনা কালী মন্দির পুনঃস্থাপিত হয় এবং তখন থেকেই এটাকে আবার পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।

এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে সবসময় অপব্যাখ্যা দেওয়া হয়, অপপ্রচার করা হয়।’

বর্তমানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

রাষ্ট্রপতি পূজার সফলতা কামনা করেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনকারীদের ধন্যবাদ জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অর্পনা রায় দাস ও সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য।

অনুষ্ঠানে রমনা মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিধান করিয়ে দেন।