ঢাকা , শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলনবিল: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অধ্যায় সালমান শাহ ভক্তদের আবেগের সিনেমা ‘লাভ ৯৬’, মুক্তি ৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববাজারে বাড়ল রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম সময়ের সঙ্গে আরও গভীর— বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে রবির পথচলা বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর হাতাহাতির ঘটনায় আর্জেন্টিনার ৩ ফুটবলার ‘নিষিদ্ধ’ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই: জয়সওয়াল মির্জা ফখরুলের ভূমিকা রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পটুয়াখালীতে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডাকসু’র ভিপি সাদিক কায়েম

পোশাক কারখানায় বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে উদ্যোগ

চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে দেশের পোশাক খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে ও জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে কারখানাগুলোয় বহুল ব্যবহৃত ক্যাপাসিটর-টাইপ সিলিং ফ্যানগুলোকে ‘বিএলডিসি’ প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত করা হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্ততকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির (বাইডেক) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরার বিজিএমইএ কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ-এর পক্ষে সহসভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান এবং বাইডেকের পক্ষে প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

এই সমঝোতা স্মারকের মূল উদ্দেশ্য, শিল্পকারখানায় বহুল ব্যবহৃত পুরোনো ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী ক্যাপাসিটর-টাইপ সিলিং ফ্যানগুলোকে বাইডেক এর উদ্ভাবিত ও পেটেন্টকৃত ‘মাইক্রো সাসটেইনেবল আপসাইক্লিং’ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিএলডিসি ফ্যানে রূপান্তর করা। এর ফলে ফ্যান প্রতি প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার হ্রাস পাবে।

বিজিএমইএ জানায়, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগে বিজিএমইএর তদারকিতে ৪২টিরও বেশি সদস্য কারখানায় এই প্রযুক্তির ফিল্ড ট্রায়াল চালানো হয়েছে। ট্রায়ালের ফলাফলে দেখা যায়, এ রূপান্তরের ফলে কারখানায় ৪৭ শতাংশ থেকে প্রায় ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে ভিদিয়া অমৃত খান বলেন, দেশীয় তরুণ উদ্যোক্তা ও স্থানীয় উদ্ভাবনগুলো আমাদের শিল্প খাতের বড় বড় চ্যালেঞ্জের কার্যকর সমাধান দিতে পারে। এই আপসাইক্লিং প্রযুক্তি বিজিএমইএ সদস্যদের বিদ্যুৎ ও পরিচালন ব্যয় কমাবে। এটি কেবল আমাদের কারখানার ডিকার্বনাইজেশন ও টেকসই উন্নয়ন যাত্রাকে দ্রুত করবে না; বরং বৈশ্বিক বাজারের প্রতিযোগিতায় ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে আরও শক্তিশালী করবে।

বিজিএমইএ জানায়, এই সমঝোতার মাধ্যমে বিজিএমইএর সদস্য কারখানাগুলো বাইডেকের কাছ থেকে বিশেষ ছাড়ের সুবিধা এবং বিজিএমইএ কর্তৃক সরবরাহকৃত ‘ওয়ান-টাইম ইউনিক কোড’ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি প্রতিটি আপসাইকেল করা ফ্যানে ৫ বছরের আফটার-সেলস গ্যারান্টি দেওয়া হবে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের হার ও পরিচালন সময়ভেদে এই প্রযুক্তিতে কারখানাগুলোর বিনিয়োগ দেড় থেকে ২ বছরের মধ্যে উঠে আসবে বলে আশা করছে সংগঠনটি।

বিজিএমইএর পরিচালক শাহ রাইদ চৌধুরী বলেন, আমাদের স্থানীয় কোনো প্রযুক্তি যদি প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করে দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে খরচের অর্থ ফিরিয়ে আনে, তাহলে সেটা উদ্যোক্তাদের জন্য আকর্ষণীয় একটি সমাধান। দেশজুড়ে কারখানাগুলোয় এটি বাস্তবায়িত হলে আমাদের জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের ওপর চাপ কমাতেও কার্যকর অবদান রাখবে। একই সঙ্গে শিল্প খাতে বিদ্যুতের অপচয় কমিয়ে এটি জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও দেশের সবুজ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর পরিচালক শাহ রাইদ চৌধুরী, এনার্জি অপটিমাইজেশন কমিটির অ্যাডভাইজর এবং ডিকার্বনাইজেশন কমিটির কো-চেয়ার কামরান সাদিক, সাসটেইনেবল এনার্জি কমিটির চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান, এনার্জি অপটিমাইজেশন কমিটির চেয়ারম্যান নিশাত হামিদ এবং বাইডেক এর প্রধান ব্যবসা উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মুয়িদ হাসান।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

চলনবিল: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়

পোশাক কারখানায় বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে উদ্যোগ

আপডেট সময় : ১১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে দেশের পোশাক খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে ও জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে কারখানাগুলোয় বহুল ব্যবহৃত ক্যাপাসিটর-টাইপ সিলিং ফ্যানগুলোকে ‘বিএলডিসি’ প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত করা হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্ততকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির (বাইডেক) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরার বিজিএমইএ কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ-এর পক্ষে সহসভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান এবং বাইডেকের পক্ষে প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

এই সমঝোতা স্মারকের মূল উদ্দেশ্য, শিল্পকারখানায় বহুল ব্যবহৃত পুরোনো ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী ক্যাপাসিটর-টাইপ সিলিং ফ্যানগুলোকে বাইডেক এর উদ্ভাবিত ও পেটেন্টকৃত ‘মাইক্রো সাসটেইনেবল আপসাইক্লিং’ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিএলডিসি ফ্যানে রূপান্তর করা। এর ফলে ফ্যান প্রতি প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার হ্রাস পাবে।

বিজিএমইএ জানায়, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগে বিজিএমইএর তদারকিতে ৪২টিরও বেশি সদস্য কারখানায় এই প্রযুক্তির ফিল্ড ট্রায়াল চালানো হয়েছে। ট্রায়ালের ফলাফলে দেখা যায়, এ রূপান্তরের ফলে কারখানায় ৪৭ শতাংশ থেকে প্রায় ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে ভিদিয়া অমৃত খান বলেন, দেশীয় তরুণ উদ্যোক্তা ও স্থানীয় উদ্ভাবনগুলো আমাদের শিল্প খাতের বড় বড় চ্যালেঞ্জের কার্যকর সমাধান দিতে পারে। এই আপসাইক্লিং প্রযুক্তি বিজিএমইএ সদস্যদের বিদ্যুৎ ও পরিচালন ব্যয় কমাবে। এটি কেবল আমাদের কারখানার ডিকার্বনাইজেশন ও টেকসই উন্নয়ন যাত্রাকে দ্রুত করবে না; বরং বৈশ্বিক বাজারের প্রতিযোগিতায় ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে আরও শক্তিশালী করবে।

বিজিএমইএ জানায়, এই সমঝোতার মাধ্যমে বিজিএমইএর সদস্য কারখানাগুলো বাইডেকের কাছ থেকে বিশেষ ছাড়ের সুবিধা এবং বিজিএমইএ কর্তৃক সরবরাহকৃত ‘ওয়ান-টাইম ইউনিক কোড’ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি প্রতিটি আপসাইকেল করা ফ্যানে ৫ বছরের আফটার-সেলস গ্যারান্টি দেওয়া হবে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের হার ও পরিচালন সময়ভেদে এই প্রযুক্তিতে কারখানাগুলোর বিনিয়োগ দেড় থেকে ২ বছরের মধ্যে উঠে আসবে বলে আশা করছে সংগঠনটি।

বিজিএমইএর পরিচালক শাহ রাইদ চৌধুরী বলেন, আমাদের স্থানীয় কোনো প্রযুক্তি যদি প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করে দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে খরচের অর্থ ফিরিয়ে আনে, তাহলে সেটা উদ্যোক্তাদের জন্য আকর্ষণীয় একটি সমাধান। দেশজুড়ে কারখানাগুলোয় এটি বাস্তবায়িত হলে আমাদের জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের ওপর চাপ কমাতেও কার্যকর অবদান রাখবে। একই সঙ্গে শিল্প খাতে বিদ্যুতের অপচয় কমিয়ে এটি জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও দেশের সবুজ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর পরিচালক শাহ রাইদ চৌধুরী, এনার্জি অপটিমাইজেশন কমিটির অ্যাডভাইজর এবং ডিকার্বনাইজেশন কমিটির কো-চেয়ার কামরান সাদিক, সাসটেইনেবল এনার্জি কমিটির চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান, এনার্জি অপটিমাইজেশন কমিটির চেয়ারম্যান নিশাত হামিদ এবং বাইডেক এর প্রধান ব্যবসা উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মুয়িদ হাসান।