ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

প্রাচীন ঐতিহ্য উজ্জীবিত করতে ‘হাওরে হল্লা’




হাওর এলাকার হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন ঐতিহ্য উজ্জীবিত করে তুলতে ‘হাওরে হল্লা’ নামে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শাল্লা উপজেলার নাইন্দ্যা গ্রামের হরিগাছ তলায় এ আয়োজন করা হয়। দিনভর চলে এই অনুষ্ঠান।

একাত্তর টিভির সিনিয়র সাব-এডিটর হাসান আহমেদের উদ্যোগে হাওর এলাকায় প্রকৃতির সান্নিধ্যে হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও প্রাণবন্ত করতে এই ব্যতিক্রমী ‘হাওরে হল্লা’ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানটিতে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে বিলুপ্ত হওয়া প্রাচীন ঐতিহ্য গাজীর গান, যাত্রাপালা, ধামাইল, পদ্মপুরাণ পাঠ ও বাউল গান। এতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা স্থানীয় শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন।

হাওরের অপার সৌন্দর্য আর খোলা প্রকৃতির মাঝে আগত শিল্পীরা বাউল গান ধামাইল, পদ্মপুরাণ পাঠ, গাজীর নৃত্য যাত্রাপালা পরিবেশন করেন। তাদের পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে হাওরের নীরব প্রকৃতি। গান, নৃত্য ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

দিনভর এ আয়োজনে অংশ নেওয়া সদস্যদের জন্য দুপুরের খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়। প্রকৃতির মাঝে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন উপভোগ করেন উপস্থিত সবাই।

অনুষ্ঠানের আয়োজক হাসান আহমেদ বলেন, আমরা বাঙ্গালীয়ানাকে শহরে এবং হাওরের জায়গাটাকে মিলবন্ধন করতে চাই। বাউলা সংস্কৃতিকে একটা চাপের মুখে রাখা হচ্ছে। তাই আমরা চাই এই সংস্কৃতিকে জাগিয়ে তুলে শহর ও হাওরের মানুষের মাঝে নতুন করে জানান দিতে।

তিনি আরও বলেন, হই হুল্লা হচ্ছে একটা নেতিবাচক শব্দ তাই আমরা ইতিবাচক নিয়ে হাওরে হল্লা আমরা শুরু করেছি। শুরু করা আসলেই খুব কঠিন, তবে এটাকে ধরে রাখা আরো কঠিন। তবুও আমরা প্রতিবছর ভাদ্র মাসের ১৯ তারিখে এই অনুষ্ঠানটি পালন করার চেষ্টা করবো। কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার পাশাপাশি হাওরের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করা এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে প্রাণবন্ত করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

উৎসবে উপস্থিত ছিলেন- একাত্তর টিভির সিনিয়র সাব-এডিটর হাসান আহমেদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) স্টাফ রিপোর্টার ফখরুল ইসলাম, কালেরকণ্ঠের মাল্ট্রিমিডিয়ার শাল্লা প্রতিনিধি সন্দীপন তালুকদার সুজন, দৈনিক এদিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি শান্ত কুমার তালুকদার, যায়যায় দিনের প্রতিনিধি দিলুয়ার হোসেন, পদাবলী কীর্তনী সুবোধ দাস বাচ্চু, বিপুল রায়, বাউল শিল্পী রথীন্দ্র দাস, রঞ্জন সরকার, জন্মান্ধ বাউল শিল্পী সুশান্ত দাস, শিশু শিল্পী জনার্দন দাস প্রমুখ।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ায় কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারে মতবিনিময় সভা

প্রাচীন ঐতিহ্য উজ্জীবিত করতে ‘হাওরে হল্লা’

আপডেট সময় : ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাওর এলাকার হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন ঐতিহ্য উজ্জীবিত করে তুলতে ‘হাওরে হল্লা’ নামে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শাল্লা উপজেলার নাইন্দ্যা গ্রামের হরিগাছ তলায় এ আয়োজন করা হয়। দিনভর চলে এই অনুষ্ঠান।

একাত্তর টিভির সিনিয়র সাব-এডিটর হাসান আহমেদের উদ্যোগে হাওর এলাকায় প্রকৃতির সান্নিধ্যে হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও প্রাণবন্ত করতে এই ব্যতিক্রমী ‘হাওরে হল্লা’ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানটিতে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে বিলুপ্ত হওয়া প্রাচীন ঐতিহ্য গাজীর গান, যাত্রাপালা, ধামাইল, পদ্মপুরাণ পাঠ ও বাউল গান। এতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা স্থানীয় শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন।

হাওরের অপার সৌন্দর্য আর খোলা প্রকৃতির মাঝে আগত শিল্পীরা বাউল গান ধামাইল, পদ্মপুরাণ পাঠ, গাজীর নৃত্য যাত্রাপালা পরিবেশন করেন। তাদের পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে হাওরের নীরব প্রকৃতি। গান, নৃত্য ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

দিনভর এ আয়োজনে অংশ নেওয়া সদস্যদের জন্য দুপুরের খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়। প্রকৃতির মাঝে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন উপভোগ করেন উপস্থিত সবাই।

অনুষ্ঠানের আয়োজক হাসান আহমেদ বলেন, আমরা বাঙ্গালীয়ানাকে শহরে এবং হাওরের জায়গাটাকে মিলবন্ধন করতে চাই। বাউলা সংস্কৃতিকে একটা চাপের মুখে রাখা হচ্ছে। তাই আমরা চাই এই সংস্কৃতিকে জাগিয়ে তুলে শহর ও হাওরের মানুষের মাঝে নতুন করে জানান দিতে।

তিনি আরও বলেন, হই হুল্লা হচ্ছে একটা নেতিবাচক শব্দ তাই আমরা ইতিবাচক নিয়ে হাওরে হল্লা আমরা শুরু করেছি। শুরু করা আসলেই খুব কঠিন, তবে এটাকে ধরে রাখা আরো কঠিন। তবুও আমরা প্রতিবছর ভাদ্র মাসের ১৯ তারিখে এই অনুষ্ঠানটি পালন করার চেষ্টা করবো। কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার পাশাপাশি হাওরের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করা এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে প্রাণবন্ত করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

উৎসবে উপস্থিত ছিলেন- একাত্তর টিভির সিনিয়র সাব-এডিটর হাসান আহমেদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) স্টাফ রিপোর্টার ফখরুল ইসলাম, কালেরকণ্ঠের মাল্ট্রিমিডিয়ার শাল্লা প্রতিনিধি সন্দীপন তালুকদার সুজন, দৈনিক এদিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি শান্ত কুমার তালুকদার, যায়যায় দিনের প্রতিনিধি দিলুয়ার হোসেন, পদাবলী কীর্তনী সুবোধ দাস বাচ্চু, বিপুল রায়, বাউল শিল্পী রথীন্দ্র দাস, রঞ্জন সরকার, জন্মান্ধ বাউল শিল্পী সুশান্ত দাস, শিশু শিল্পী জনার্দন দাস প্রমুখ।